হিজাব ইজ মাই পলিটিক্স !

বৃহস্পতিবার, মে ১০, ২০১৮ ৫:২১ PM | বিভাগ : আলোচিত


ইউরোপে ইদানীংকালে “হিজাব ইজ মাই চয়েস” খুব অালোচিত শব্দ। হিজাব পরার জন্য সেখানকার মুসলিম নারীরা রাস্তাঘাট এবং মিডিয়া উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন প্রায়শ। তাদের উল্লম্ফন থেকে খুব সহজেই অনুমেয় যে, পাদপ্রদীপ থেকে লাইমলাইটে অাসাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।

এসব ‘চয়েসী’ কান্ড এবং কারখানার মূল উৎপাদকের ভূমিকায় কিন্তু সেই পুরুষই! যারা ইসলামিক চেতনা বাস্তবায়ন করতে চায়, অার চেতনা বাস্তবায়নে তারা ইসলামিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে পাশ্চাত্য পদ্ধতি অনুসরণ করে!

তারা তাদের পোষ্য এই চয়েসবাদী নারীদেরকে হাফ-ইউরোপীয় স্টাইলে রাস্তায় নামায়, মিডিয়ায় নামায়, পার্কে নামায়। এরা লিপস্টিক, চুড়ি, অাইলাইনার, মাস্কারা, পারফিউম ইত্যাদি খুব সুচারুরূপে মেখে এরপর হিজাবকে তাদের চয়েস হিসেবে স্লোগান দিতে থাকে। সাথে অবশ্য তাদের চয়েস হিজাবও থাকে (যদিও সে হিজাব যথেষ্ট যৌনাবেদনময়ী!)। রাস্তা, মিডিয়া, পার্কে যখন কিছুটা উত্তাপ সরবরাহ করা হয় তখনি তারা ইউরোপীয় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভাষাগুলি অাওড়ায়। হিজাবকে চয়েস বলাটা এ পদ্ধতিরই প্রোডাকশন।

এসব প্রোডাকশন বাজারজাত করার পর ইসলামি পুরুষেরা এসব চয়েসবাদী নারীদের পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এরা বলে - ওদের চয়েস ওদেরকে দিয়ে দিন না ভাই! আর পেছনে নিয়ামকের ভূমিকায় ইসলামিক পুরুষেরাই অাছে।

চয়েসবাদীরা কিছুদিন তাদের চয়েস নিয়ে বেশ উচ্চবাচ্য করতে থাকে। এই উচ্চবাচ্যের মধ্য দিয়েই কিছু বয়ফ্রেন্ড এবং গার্লফ্রেন্ডও চয়েস হয়ে যায়! অনেক হিজাবী তার বরকে (স্বামী শব্দে অামার অাপত্তি অাছে) বাদ দিয়ে নতুন বর খুঁজে নেয়, যে তার হিজাবের অান্দোলনের ত্রাতা।

অাশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তারা যে স্টাইল ও ভাষা ব্যবহার করে তাদের এই তথাকথিত ‘চয়েস’ বাস্তবায়ন করতে তা সম্পূর্ণরূপেই ইসলাম-বহির্ভূত!

হিজাব এবং বোরকাকে বাস্তবায়ন করার এই অান্দোলনে ইসলামিক নারীরা যে পরিমাণ লিপস্টিক, মেকঅাপ ও ড্রেস প্রদর্শনী করে তা কি ইসলাম-সম্মত?

হিজাব পরতে বলা হয়েছে যাতে করে নারীর রূপ-যৌবন দেখে ইসলামি পুরুষের ঈমানে হ্যাঁচকা টান না পড়ে। একজন চয়েসবাদী নারীর চয়েস প্রদর্শনের প্রাক্কালে কি মনে থাকেনা - অনৈসলামিক পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যে ইসলাম সম্মত নয়?

তার কি জানা নেই হিজাবের ক্ষেত্রে ইসলামের মূল স্পিরিট কি?

তাদের কি সূরা অাহজাবের ৩২ এবং ৩৩ নং অায়াত জানা নেই?

নারীদেহ অাবৃত রাখার অায়াত এবং হাদিস না পড়ে কেন তারা রাস্তায় নামছে? তারা কেন পড়ছেনা সূরা অাহজাবের ৫৩ এবং ৫৯ নং অায়াত?

তারা কেন পড়ছেনা সূরা নূর এর ৬০ নং অায়াত? তারা কেন বোখারির ১৪৬ এবং মুসলিমের ২১৭০ নং হাদিস পড়ছেনা?

তারা কেন বোখারির ৫১৪৯ এবং মুসলিমের ১৪২৮ নং হাদিস পড়ছেনা?

তারা কেন বোখারির ৩৬৫ এবং মুসলিমের ৬৪৫ নং হাদিস পড়ছেনা?

তারা কেন অাবু দাউদের ১৮৩৩ এবং ইবনু মাজাহ এর ২৯৩৫ হাদিস পড়ছেনা?

তারা কেন সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৪/২০৩ এবং হাকিম এর ১/৬২৪ নং হাদিস পড়ছেনা?

মদ খেয়ে, শুয়োরের মাংস খেয়ে যেমন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখা অবান্তর, ঠিক তেমনি মেকাপ-লিপস্টিক মেখে দেহ প্রদর্শন করে হিজাব প্রতিষ্ঠার লড়াই করাও অবান্তর।

নারীর কন্ঠস্বর, চেহারা এবং পুরো শরীরই পর্দার অাওতাভূক্ত। নারীর চলাফেরাও পর্দার অাওতাভূক্ত। এজন্যই বাইরে বের হওয়ার সময়ে পারফিউম ব্যবহার করা নারীর জন্য হারাম। নূপুর পরাও হারাম। সূরা নূর এর ৩১ নম্বর অায়াত অনুযায়ী একজন নারী তার দেহের সৌন্দর্য দেখাতে পারে কেবল মাহরামকে (মাহরাম বলা হয় যার সাথে বিয়ে চিরস্থায়ী হারাম, যেমন বাবা এবং অাপন ভাই।) পৃথিবীর সব মুফতিরা এ বিষয়ে একমত।

সৌন্দর্য কি চেহারায় নেই?
তারপর লিপস্টিক, মেকাপ এবং পারফিউম কি সৌন্দর্যে বাড়তি সংযোজন নয়?
এটা কি জায়েজ? মুফতিদের কাছ থেকে জেনে নিন।

হিজাবকে অাপনার ‘চয়েস’ ঘোষণা করার পূর্বে দয়া করে চয়েসবাদীরা অামার কয়কটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন কি?

১: হিজাব কেন পরতে চান?
২: হিজাব কি অাপনার চয়েস নাকি অাল্লাহর চয়েস? অাপনিই (চয়েসবাদী) কি অাল্লাহ?
৪: সত্যকথা না বলে ইহুদী-নাসারার স্টাইলে কথা বলছেন কেন? অাল্লাহর চয়েসকে নিজের চয়েস বলছেন কেন?
৫: নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত এসবও কি অাপনার চয়েস? নাকি অাপনার জন্য অাল্লাহর চয়েস ?
৬: অন্যসব ইসলামিক বিষয়গুলির বেলায় ‘চয়েস’ শব্দ প্রয়োগ না করলেও শুধুমাত্র হিজাবের বেলায় চয়েস প্রয়োগ করছেন কেন?
৭: হিজাব পরার পেছনে ইসলামিক কারণ ও যুক্তি কি কি?
৮: অাপনার হিজাবের অান্দোলন কি ইসলামের জন্যে নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত?
৯: সহীহ হিজাব কাকে বলে? অাপনি কি সত্যিকার হিজাব চান? নাকি মাঠ এবং পুরুষের শরীর গরম করা হিজাব চান?

সহীহ হিজাব কাকে বলে তা জানতে নিম্নের ফতোয়াটা দেখুন (উল্লেখ্য, এটা অালেমদের সৌজন্যে দিলাম, পরবর্তীতে অামি ভিডিওতে এর তরজমা করে সহীহ হিজাব নিয়ে অালোকপাত করবো) :


  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা