অধ্যাপক আফসার আহমেদ, আপনার কাছ থেকে কি শিখবো?

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৮ ৫:৫৪ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


আপনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক। আপনি যত বছর ধরে অধ্যাপনা করেন সম্ভবত আমার বয়স তারচেয়েও কম। আমাদের আপনি গুরুজন এবং শিক্ষিত সমাজে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আপনাকে নিয়ে কিছু লেখার মতো জ্ঞান এবং যোগ্যতার কোনোটাই আমার নেই। এমন একটা বিষয় আপনাকে নিয়ে আজ লিখতেছি যেটা জাতির জন্য লজ্জা-অপমান এবং কলঙ্কের।

আপনি শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আপনি জাতির বিবেক। জাতি আপনাদের নিয়ে গর্ব করে, আপনাদের সম্মান করেন। কিন্তু আপনি কি করলেন? আপনার অধীনে পিএইচডি গবেষক একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার (২৯) সাথে শিক্ষক-শিক্ষিকার সম্পর্ককে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত করলেন এবং এরপর তাঁকে বিয়ে করলেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো আপনি তাঁকে সমাজে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিলেন না!

আপনি প্রজ্ঞাবান, আপনার জানার কথা আমাদের মেয়েরা সারা জীবন স্বামীর পরিচয় ধারণ করে। কিন্তু আপনি তাঁকে আপনার ক্যারিয়ার-সুনাম আর সামাজিক মর্যাদার দোহাই দিয়ে সে পরিচয় ধারণ করতে দিলেন না। এরপর আপনার স্ত্রী যখন তাঁর গর্ভে আপনার সন্তান ধারণ করলো আপনি তখন তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করলেন!

আপনি না জাতির বিবেক? আপনার কি একবারও মনে হয়নি যে, আপনি ভ্রূণ হত্যার মাধ্যমে নিজে পরিণত হয়েছেন একজন খুনি পিতা হিসেবে? আপনি একজন নারীকে বঞ্চিত করেছেন মাতৃত্বের গৌরব থেকে, বঞ্চিত করেছেন সন্তানের মুখে মা ডাক শোনার থেকে। আপনার জানার কথা একটা মেয়ের আজীবনের স্বপ্ন থাকে মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার, সন্তানের মুখ থেকে মা ডাক শোনার। সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে একজন নারীর পৃথিবীতে নতুন করে জন্ম হয়; সে মায়ের পরিচয় পায়। আপনি পুরুষ হন কিংবা পশু হন নারীর কাছে মাতৃত্ব কি সেটা আপনার জানার কথা, উপলব্ধি করতে পারার কথা। কারণ আপনাকে জন্মদানের মাধ্যমে পৃথিবীতে একজন নারী পরিচিত হয়েছিলেন মা হিসেবে। একজন নারীর সন্তান হয়ে একজন নারীকে সন্তানের জননী হতে দেন নি আপনি।

আপনি স্বামী, আপনার ইচ্ছায় বাধ্য হয়ে মেয়েটি প্রথমবার গর্ভপাত করলো। দ্বিতীয়বার আবার যখন সে আপনার সন্তান গর্ভে ধারণ করলো, তখনও আপনি তাঁকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিলেন। কিন্তু মেয়েটি এবার যখন আপনার বাঁধা মানতে চাইলো না, আপনি তখন তাঁকে জীবননাশের হুমকি দিলেন! আপনার ভয়ে ভিত হয়ে মেয়েটি যখন গোপনে আপনার সন্তান জন্ম দিলো তখন আপনি তাঁকে তালাকনামা পাঠালেন! হে জাতির বিবেক, এই কি আপনার বিবেক!একটি শিশু জন্ম নেয়ার পর সে পিতৃপ্রদত্ত একটি নাম পায়, যেটা সে সারা জীবন ধারণ করে। আপনার সন্তানকে আপনি কি দিলেন? তাঁকে জন্ম দেয়ার অপরাধে তাঁর মাকে তালাক দিলেন! এটা কি আপনার পক্ষ থেকে আপনার সন্তানকে দেয়া উপহার, আকিকার উপহার? জন্মের পর সব সন্তানরা পিতৃপ্রদত্ত নাম পায় কিন্তু আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে পেয়েছে তাঁর মায়ের তালাকনামা!

আচ্ছা স্যার, আপনি আপনার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার আগে একবারও কি ভেবেছেন মেয়েটি আপনার জন্য কতটা স্যাক্রিফাইস করেছে। একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং পিএইচডি স্টুডেন্ট, যার বয়স ২৭ বছর ছিলো তখন, চাইলে প্রতিষ্ঠিত কোনো যুবককে বিয়ে করে তাঁকে নিয়ে ঘর-সংসার করতে পারতো- ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারত। তিনি তা না করে আপনাকে বিয়ে করেছে। আপনার বয়স তখন ৫৭ বছর ছিলো। আপনার যৌবন একেবারে সায়াহ্নে, জীবনেও সন্ধ্যা নেমে এসেছে প্রায়। তবুও ২৭ বছরের একজন মেয়ে আপনার মত ৫৭ বছরের একজন বিবাহিত বয়স্ককে বিয়ে করেছে। কোনো স্বার্থে বিয়ে করে নি- বিয়ে করেছে আপনাকে ভালোবেসে। আর জাতির বিবেক হয়ে আপনি তাঁর ভালোবাসার মূল্য তাঁকে এভাবে দিলেন...! তবে কি পৃথিবীতে ভালোবাসার কোন মূল্য নাই, আপনার কাছে কি নারীর ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই? নারীর কোনো মূল্য নেই?


  • ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সাইফুল ইসলাম প্রলয়

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুকে আমরা