ব্লগাররাই ব্লগারদের মৃত্যু ডেকে এনেছে- এইচ টি ইমাম

শুক্রবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮ ৩:৫০ AM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে সম্প্রতি ডয়েচে ভেলে ৪০ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। (নিচে ভিডিওটি যোগ করা হলো।) ডকুমেন্টারিটিতে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে সরকার, ইসলামিস্ট, নাস্তিক ব্লগারসহ সাধারণ গার্মেন্টস শ্রমিক পর্যন্ত। ডকুটিতে নাস্তিক ব্লগার হত্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বলা কথাগুলো বিশেষ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আমি এখানে তাঁর প্রতিটি লাইন ধরে ব্যাখ্যা করেছি এবং জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশ সম্পর্কে এইচ টি ইমাম বলেন, “এটি প্রধানত একটি মুসলিম (ইসলামিক?) দেশ।” তাঁর এই লাইনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, তিনি যে শব্দ ব্যবহারে খুব সতর্ক ছিলেন, তা বোঝা যায় ‘প্রধানত’ বুঝাতে তিনি predominantly শব্দটি ব্যবহার না করে preponderantly ব্যবহার করেছেন। Preponderant শব্দের অর্থ ‘প্রভাব, সংখ্যা কিংবা গুরুত্বের বিচারে প্রধান’। তার মানে তিনি শব্দটি দিয়ে কেবল ‘প্রধানত’ বুঝান নি, তিনি বুঝিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারকে ইসলামকে/মুসলিমদেরকে গুরুত্বও বেশি দিতে হবে। এতে আমরা খুব বেশি আশ্চর্য হই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই ‘আমার ধর্ম’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। সরকারী অর্থায়নে দেশে মসজিদ ও মাদ্রাসা তৈরি করে এবং হিন্দু ও আদিবাসী নির্যাতনে চুপ থেকে যে তিনি আসলে ইসলামকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া কওমিদের, যাদের শিক্ষায় সরকারের কোনো হাত নেই এবং যারা কোরান-হাদিস ছাড়া কিছুই শিখে না, তাদের শিক্ষাকে প্রচলিত শিক্ষার সাথে সমমান করে দেয়া ও তাদেরকে বিশেষ কোটায় চাকরি দেয়াও এইচটি ইমামের preponderantly শব্দের যথার্থতা প্রমাণ করে।

দ্বিতীয়ত, এইচটি ইমাম ‘ইসলামিক কান্ট্রি’ না বলে ‘মুসলিম কান্ট্রি’ বলেছেন। পরে তিনি overwhelmingly মানে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে’ যোগ করে সেটা ঢাকতে চেয়েছেন অবশ্য। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো কোনো ইসলামিক রিপাবলিক নয়, তাই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার মুখে ‘বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ’ শোনা কোনো শুভ ইঙ্গিত দেয় না। এতে দেশে বাস করা হিন্দু, বৌদ্ধ, আহমদিয়া, খ্রিষ্টানদের মনে হতে পারে দেশটা বোধ হয় আমাদের না, এটা বোধ হয় মুসলিমদেরই।

এবার আসি এইচ টি ইমামের সাক্ষাৎকারের পরবর্তী অংশে। ব্লগার হত্যা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “তাদের (মুসলিমদের) কিছু অংশ খুবই কুসংস্কারাচ্ছন্ন অথবা প্রচণ্ড ধার্মিক। সুতরাং যখন কেউ পবিত্র গ্রন্থ কোরানকে বিকৃত করে এবং নবীর জীবনী নিয়ে মন্তব্য করে, কিছু লোক খুব রেগে যায়। তারা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এভাবে ব্লগাররা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যু ডেকে আনছে।”

হোসাইন তৌফিকুল (এইচ টি) ইমাম

ধর্ষণের মতো এখানেও সেই ভিকটিম-ব্লেইমিং। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মুখেও ব্লগারদের মৃত্যুর জন্য ব্লগারদেরই দোষারোপ। এটা নতুন কিছু না, এটা ইসলামি কালচার। মোহাম্মদ নিজেই তিনজন ইহুদি কবিকে হত্যা করিয়েছিলেন এই বলে যে, তাঁরা তাঁদের কবিতায় মোহাম্মদকে এবং ইসলামকে ব্যঙ্গ করেছেন। এই কবিদের একজন (আবু আফাক) ছিলেন শতোর্ধ বৃদ্ধ; আসমা বিন্তে মারওয়ান ছিলেন পাঁচ সন্তানের জননী এবং কা’ব বিন আশরাফ ছিলেন একজন প্রতিভাবান কবি।

কবি আসমা ও কা’ব, এই দু’জনকে হত্যার জন্য মোহাম্মদ নিজে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কবি আসমাকে হত্যার জন্য মোহাম্মদ একদিন প্রার্থণা শেষে ডাক দিয়েছিলেন, “তোমাদের মধ্যে কে আমাকে মারওয়ানের কন্যার (সমালোচনা) থেকে মুক্ত করতে পার?” আসমার দোষ ছিলো তিনি আবু আফাকের হত্যার খবর শুনে রেগে গিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলেন যাতে মদীনাবাসীকে সমালোচনা করেছিলেন এই বলে যে, মোহাম্মদের মতো একজন উটকো আগন্তুকের প্ররোচনায় মদীনাবাসী বিভাজিত হচ্ছে।

কবি কা’ব বিন আশরাফকে হত্যার জন্য মোহাম্মদ একইভাবে তার অনুসারীদের মধ্যে আহবান জানিয়েছিলেন, “তোমাদের মধ্যে কে আছো যে কা’বকে হত্যা করতে পারো যে আল্লাহ ও তার নবীকে আঘাত করেছে?” (বুখারী: ৫:৫৯:৩৬৯) কা’বের দোষ ছিলো তিনি মক্কাবাসীদের সাহসের প্রশংসা করে কবিতা লিখেছিলেন। উল্লেখ্য, এই কবি ছিলেন বনি নাদির নামক একটি ইহুদি গোত্রের প্রধানদের মধ্যে অন্যতম, যে গোত্রটিকে মোহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা অন্যায়ভাবে আরব ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন।

এইচটি ইমাম সাহেবের ভিক্টিম ব্লেইমিং আর মোহাম্মদের ভিক্টিম ব্লেইমিংয়ের যথেষ্ট মিল আছে। প্রথমত, ব্লগাররা কেউ কোরান বিকৃত করে না। নাস্তিকদের এমন কোনো লেখা কেউ দেখাতে পারবে না যেখানে কোরানকে বিকৃত করা হয়েছে। নাস্তিকদের পক্ষে কোরানের বিকৃতি কী করে সম্ভব? তারা কি কোরান লেখেন যে, তারা কোরান বিকৃত করবেন? তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, নাস্তিকরা কোরানের ভুল ব্যাখ্যা দেয়। এটাও ভুল। এইচটি ইমাম কিংবা আমাদের প্রধানমন্ত্রীসহ বেশিরভাগ মানুষ আসলে কোরান পড়েনই নি। তারা জানেন না ও বইটার ভিতরে কী লেখা আছে। নাস্তিকরা যখন কোরানের কোনো আয়াত স্বীকৃত রেফারেন্সসহ ব্যাখ্যা করেন এবং দেখিয়ে দেন যে, মোহাম্মদ কতটা বিকৃত ও ধ্বংসাত্মক চিন্তার লোক ছিলেন, তখন তা লোকের কাছে বিকৃত মনে হয়, নবীর জীবনী নিয়ে কুৎসা রটানো মনে হয়। যারা জানে না যে, মোহাম্মদ কোরানের আয়াত নাজিল করে পালক-পুত্রবধু জয়নবকে বিয়ে করেছিলেন, তাদের কাছে ঐ আয়াতটা বিকৃতই মনে হবে। যারা জানে না যে, মোহাম্মদের যৌনদাসী ছিল এবং তা কোরানের আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ স্বীকৃত, তাদের কাছে এসব তথ্য বিকৃতই মনে হবে। [যারা এ ব্যাপারে এখনও সন্ধিহান তারা কোরানের ৩৩ নং সুরাটা পড়ে দেখেন।] নাস্তিকরা যখন এই বিষয়গুলো সহিত হাদিস ও স্বীকৃত তাফসিরের আলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরেন, তখন মুসলিমরা, এমনকি জাফর ইকবালের মতো কোরান সম্পর্কে বিশেষ-অজ্ঞরাও, মেনে নিতে পারেন না।

এইচ টি ইমাম এরপরে বলেন, “আমরা (বাংলাদেশে) ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করি। ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রু হলো ব্লগাররা এবং তাদেরকে যারা হত্যা করছে।”

তাঁর প্রথম লাইনটা নিয়ে কিছু বলার নেই। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা আছে, এটা বোধ হয় যারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ইসলামের শত্রু মনে করে, তারাও বলবে না। আমি বরং তার দ্বিতীয় বাক্যে যাই।

বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রু হলো নাস্তিকরা ও নাস্তিক হত্যাকারীরা। এ একেবারে সৌদি আরবের ট্যাগলাইন। সৌদি সরকার বছর দুয়েক আগে একটা আইন পাশ করেছে যাতে নাস্তিকদের সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটছে। নাস্তিকরা ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রু কী করে হয়, এটা আমার মাথায় ধরে না। নাস্তিকরা দাবি করে যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান থেকে রাষ্টধর্ম বিলুপ্ত করা হোক, কারণ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারে না। এটা কি ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রুতা? নাস্তিকরা দাবি করে কেবল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকেই নয়, সকল ধর্মকেই সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া বন্ধ করা হোক। এটা কি ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রুতামূলক কোন দাবি? নাস্তিকরা দাবি করে ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করা হোক। এটা কি ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রুতা? নাস্তিকরা দাবি করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক, শিশুশিক্ষা থেকে ধর্মশিক্ষা তুলে দিয়ে সকল ধর্ম বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান দেয়া হোক, মাদ্রাসা শিক্ষা তুলে দিয়ে তাদেরকে সাধারণ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এগুলো কি ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রুতামূলক কথা?

হ্যাঁ, নাস্তিকরা আরো অনেক কিছু বলে বা লেখে। তারা বোরকা-হিজাবের মতো নারী অবমাননামূলক পোশাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে বলে। তারা মোহাম্মদের সমালোচনা করে। তারা কোরান-হাদিসের ভুল ধরে। তারা মোল্লাদের ধর্মীয় বৈষম্যমূলক ও সংস্কৃতিবিরোধী ওয়াজের সমালোচনা করে। তারা সরকারের ধর্মীয় আচরণের সমালোচনা করে।

নাস্তিকরা বোরকা-হিজাবের বিরুদ্ধে লেখে কেবল ধর্মীয় কারণেই না, সাংস্কৃতিক কারণেও। এই পোশাকগুলো আরব থেকে আসা। নাস্তিকরা দেখিয়ে দিতে চায় যে, এর সাথে যতটা না ধর্মীয় ইস্যু জড়িত, তার চেয়ে বেশি জড়িয়ে আরবীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন। নাস্তিকরা মোহাম্মদের সমালোচনা করতো না, যদি না মোহাম্মদের বিকৃত জীবনাচার ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতাকে বর্তমান কালের অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় মনে করা হতো। তারা কোরান-হাদিসের সমালোচনা করতো না, যদি না মুসলমানরা দেশে কোরান-হাদিসের আইন দাবি করতো। তারা মোল্লাদের সমালোচনা করতো না, যদি না তারা মানুষের বিভাজনমূলক ওয়াজ করতো এবং পহেলা বৈশাখসহ সকল বাঙালি সংস্কৃতির বিনাশে উঠে পড়ে লাগতো। আর তারা সরকারের সমালোচনা করে কারণ সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়িয়েই যায় কেবল, কাজ করে তার বিপরীতে।

নাস্তিকরা উপরোক্ত সমালোচনাগুলো করে কারণ এর সবগুলোই ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে কাজ করে। আরবীয় সংস্কৃতি ধর্মনিরপেক্ষতার বিনাশ চায়; মোহাম্মদের জীবনাচার প্রচন্ডরকম সাম্প্রদায়িক; কোরান-হাদিসের আইন অমুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করে। মোল্লারা সেটাই চায়; জিহাদিরাও সেটাই চায়। তাই তারা নাস্তিকদের সহ্য করতে পারে না। এখন দেখছি সরকারও সেটাই চায়। আর তাই উল্টো নাস্তিকদেরই ধর্মনিরপেক্ষতার শত্রু বানিয়ে দেয়া হলো।

এইচ টি ইমাম এরপরে বলেন, “তারা (উভয়ই) চরমপন্থী। তাদেরকে (জনগণের) মূলস্রোতে নিয়ে আসতে হবে। এটাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।” হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন। উনি এটাই বলেছেন- জিহাদীদের সাথে নাস্তিকদেরও মূলস্রোতে নিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের এই উদ্দেশ্য খুবই ভাল। এবার তাহলে র‍্যাব, পুলিশ, সোয়াত টিম দিয়ে যেভাবে জিহাদিদের বাড়ি ঘেরাও করা হয়, সেভাবে নাস্তিকদের বাড়িও ঘেরাও হতে দেখা যাবে। সেখানে নাস্তিক ও পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে মারা যাবে কয়েকটি নাস্তিক ও আহত হবে দু’টি পুলিশ এবং উদ্ধার হবে একটি কাটা রাইফেল ও কয়েক রাউন্ড গুলি। পুলিশ দুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে এবং নাস্তিকদের পাঠানো হবে মর্গে।

এটা কৌতুক করলাম। আসলে নাস্তিকদের বাড়ি ঘেরাও করার প্রয়োজন হবে না। তাদের অস্ত্র তো আর চাপাতি-বন্দুক-বোমা নয়, তাদের অস্ত্র লেখনি। সুতরাং ওটা আমরা দেখবো না। তবে এর আগে যেমন দেখেছি সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুলিশ যেভাবে পোজ দেয়, সেভাবে গ্রেফারকৃত চার নাস্তিককে নিয়ে পোজ দেয়া হয়েছিলো, সেটা বোধ হয় দেখতে পাবো।

আরেকটা বিষয়, ব্লগার হত্যায় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র সংযোগ থাকার বিষয়টা শোনা যাচ্ছে বহুদিন থেকে। যা কিছু রটে, তা কিছু যে ঘটে, এটা ইমাম সাহেবের কথায় কিছুটা ধরা গেলো না কি? রাষ্ট্র যাদের শত্রু মনে করছে, তাদের একপক্ষকে দিয়ে আরেক পক্ষকে বিনাশ করার চেষ্টা কিন্তু ঐতিহাসিক এবং রাজনীতির এক বহুল ব্যবহৃত পন্থা। জিহাদিরা নাস্তিকদের হত্যা করবে, আর সেই অযুহাতে জিহাদিদের হত্যা করবে রাষ্ট্র–একদম জলবৎ তরলং।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার অনুমোদন সম্পর্কে এইচ টি ইমাম বলেন, এতে কওমীদের দৃষ্টি খুলে দিবে, তারা দেখতে পাবে তাদের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। ইমামের এই কথায় একমত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ এতে কওমি শিক্ষা আরো যাবে, যা দেশ ও জাতির জন্য এক অনিবার্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই শিক্ষায় শিক্ষিতরা কেবল মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক হওয়ারই যোগ্যতা রাখে। তাই কওমিরা যখন দেখবে যে, তারা প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিতদের সাথে প্রতিযোগীতা করে কোনো চাকুরি পাচ্ছে না, তখন কোটা দাবি করে আন্দোলনে নামবে এবং সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে। এভাবে তারা প্রশাসনে ঢুকে একপাক্ষিক বিবেচনাবোধ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে এবং অচিরেই দেশে শরিয়াহ আইনের দাবি করবে, কারণ একমাত্র শরিয়াই পারে অযোগ্যদের রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনার যোগ্য করে তুলতে।

লতিফ সিদ্দিকীর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে সোচ্চার লালবাগ শাহী মসজিদের প্রধান মুফতি ফয়জুল্লাহ

আশা করি এইচ টি ইমামের উপযুক্ত জবাব দিতে পেরেছি। এ জবাব রাষ্ট্র বা ইমাম পর্যন্ত পৌঁছাবে না জানি, কোনো লাভও হবে না, তবুও লিখে তো রাখি। ডয়েচে ভেলের ডকুমেন্টারিটাতে রয়েছে বিনোদনের খোরাকও। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও লালবাগ জামে মসজিদের প্রধান মুফতি ফয়জুল্লাহ একবার বলছেন ইসলাম হচ্ছে একটি উদার ও মধ্যপন্থী ধর্ম, নিজেকে একজন মডারেটও দাবি করছেন, আবার লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি চেয়ে তার পক্ষাবস্থানের সমর্থনে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, তিনি মনে করেন না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো বিষয় ছিলো। হাটহাজারির এক হুজুর দাবি করেছে ক্ষেপনাস্ত্র, আনবিক বোমা ইত্যাদি তৈরির জ্ঞান কোরানে নিহিত, ইত্যাদি। এরকম একটি ডকুমেন্টারি করার জন্য ডয়েচে ভেলে ধন্যবাদ পাবার দাবি রাখে।


  • ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সন্ন্যাসী রতন

সন্যাসী রতন নামে পরিচিত বাংলাদেশী ব্লগার আইকর্নের একজন অতিথি লেখক হিসেবে নরওয়েতে আছেন।

ফেসবুকে আমরা