এলিস মুনরোর জীবন ও সাহিত্য

বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮ ২:০৯ PM | বিভাগ : সাহিত্য


সাহিত্য জগতে এলিস মুনরো (Alice Munro) নামে সর্বাধিক পরিচিত এলিস অ্যান লেইডল (Alice Ann Laidlaw) জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩১ সালের ১০ জুলাই কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উইংগহ্যাম গ্রামে। পিতা এরিক রবার্ট লেইডল (Robert Eric Laidlaw) ছিলেন সংগতি সম্পন্ন কৃষক, তার ছিলো খেঁকশিয়াল এবং মিনক (মূল্যবান ফার সমৃদ্ধ এক ধরনের ছোট প্রাণী) এর খামার এবং পরবর্তীতে তিনি টার্কি মুরগী পালন শুরু করেন। আর মাতা এন চ্যামনি লেইডল (Anne Chamney Laidlaw) একটি স্থানীয় স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, যার মাতা আইরিশ এবং বাবা স্কটিশ, যিনি স্কটিশ কবি, ঔপন্যাসিক এবং প্রাবন্ধিক জেমস হগ (James Hogg) এর সরাসরি বংশধর ছিলেন।

যাহোক, সেখানকার শান্ত ও নিরিবিলি গ্রাম্য পরিবেশের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেন নোবেল বিজয়ী এই  কথা সাহিত্যিক। এলিস এখানকার স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৪৯ সালে দুই বছরের স্কলারশীপ নিয়ে চলে যান পশ্চিম অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of western ontario) ইংরেজী সাহিত্য ও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশুনা করতে। ১৯৫০ সালে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়েই, তার প্রথম ছোট গল্প  দ্যা ডাইমেনসন অব  এ শেডো (The Dimensions of a Shadow ) প্রকাশিত হয়। এই সময়েই তিনি রেস্তোরার পরিচারিকা, ক্ষেত থেকে তামাক পাতা তোলা, লাইব্রেরির কেরানী ইত্যাদি নানা ধরনের কাজের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ১৯৫১ সালের ২৯ ডিসেম্বর মাত্র ২০ বছর বয়সে সহপাঠি জেমস আর্মস্ট্রং মুনরো (James Munro) কে বিয়ে করেন এবং এখানেই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার ইতি টেনে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন ভ্যানকুভারে ।

এই ভ্যানকুবারে চলে আসাকে তিনি আখ্যায়িত করেন বিয়ের একটি বড় অভিযান হিসেবে। জেমস একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে  কাজ করতেন আর এলিস বাড়িতে বসে সাহিত্য চর্চা করতেন। ১৯৬৩ সালে মুনরো দম্পত্তি বসবাসের জন্য গমন করেন ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়াতে। সেখানে তারা একটি বইয়ের দোকান চালু করেন; মুনরো’স বুকস (Munro's Books) নামের সেই বইয়ের দোকানটি আজও পর্যন্ত বহাল তবিয়তে টিকে আছে। যাহোক, ১৯৭২ সালে এলিস-জেমস দম্পত্তির মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ১৯৭৬ সালে এলিস পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন গেরাল্ড ফ্রেমলিনের সাথে। তিনি এখন বাস করছেন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ক্লিনটন নামের একটি ছোট শহরে।

এলিস তিন কন্যার জননী। ১৯৫৩ সালের অক্টোবর মাসে তার ২১ বছর বয়সে জন্মগ্রহণ করেন মেয়ে শিলা মার্গারেট মুনরো। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ক্যাথরিন জন্মের মাত্র পনের ঘন্টা পরেই মৃত্যুবরণ করেন। তৃতীয় কন্যা জেনীর জন্ম হয়  ১৯৫৭ সালে।  চতুর্থ কন্যা আন্দ্রেয়ার জন্ম ১৯৬৬ সালে। প্রথম কন্যা শীলা মুনরো তার শৈশব স্মৃতি প্রকাশ করেন “মা ও মেয়ের জীবন- এলিস মুনরোর সঙ্গে বেড়ে উঠা (Lives of mothers and daughters- Growing up with Alice Munro)” গ্রন্থে।

সুইডিশ একাডেমী ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর সাহিত্যে ১১০তম নোবেল পুরষ্কারটি ঘোষণা করেন। এবারের পুরষ্কারটি উঠে আসে কানাডার ৮২ বছর বয়সী কথা সাহিত্যিক এলিস মুনরোর হাতে। কানাডার স্থানীয় সময় ভোর চারটায় যখন নোবেল পুরষ্কার ঘোষিত হয় তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তার মেয়ে তাকে ফোন করে খবরটি পৌঁছে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর কানাডার রেডিও বিবিসির সাংবাদিক যখন তাকে বলেন, “আপনি ত্রয়োদশ নারী সাহিত্যিক হিসেবে পুরষ্কারটি পেয়েছেন” তখন তিনি রোষান্বিত হয়ে উঠেন এবং আহত কন্ঠে বলেন, “এটা কি করে সম্ভব, এটা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার, আমরা নারী মাত্র ১৩ জন!” নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে  “সমকালীন ছোট গল্পের মাস্টার” হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, তিনি খুব সাজিয়ে গল্প বলতে পারেন। তার গল্পের বিষয়বস্তু বাস্তববাদী। তার গল্পে নাটকীয়তার মারপ্যাঁচ নেই, যা আছে তা হলো: নারী-পুরুষ সম্পর্ক, মফস্বল শহরের জীবনযাত্রা, দুই প্রজন্মের সম্পর্ক ও দ্বন্দ্ব আর আবেগের টানাপড়েন। ছোট গল্পের দক্ষ স্রষ্টা তিনি; সমসাময়িক লেখকদের থেকে অনেক উপরে তার স্থান। তার গল্পে রুশ বাস্তববাদী কথা-সাহিত্যিক আন্তন চেখভের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় বিধায় মার্কিন গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক সিনথিয়া ওজিক (Cynthia Ozick) তাকে অভিহিত করেছেন এ সময়ের কানাডার চেখভ হিসেবে। 

তার গল্পের চরিত্ররা উঠে আসে সাধারণ মানুষের কাতার থেকে। তার প্রায় সব গল্পই গড়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চলের ছায়াঘেরা পরিবেশকে কেন্দ্র করে; গল্পের শিল্প উপাদান খুঁজে পেতে তাকে অন্যান্য বড় বড় লেখকদের মতো বিশ্বভ্রমণে বের হতে হয় নি। রবীন্দ্রনাথের কথার সুর ধরে বলা যায়, ঘর হতে শুধু দু-পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপর দুইটি শিশির বিন্দু নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছেন। জীবন, মৃত্যু, প্রেম, বিরহ- এগুলোই তার লেখার মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নোবেল প্রাপ্তির সংবাদ পেয়ে মনের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এভাবে- “আমি আশা করছি এটা ছোট গল্পকে মানুষের সামনে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে তুলে ধরবে, শুধু এরকম কিছু নয় যা তুমি উপন্যাসে যাওয়ার আগে লেখলে।”

ছোটগল্পের অনেক বড় মাপের একজন শিল্পী তিনি; সাহিত্য জগতে ছোট গল্প নামে যে ধারাটি আধুনিক ব্যস্ত মানুষের জীবনে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিনদিন, তিনি সে ধারার একজন নিষ্ঠাবান লেখক। এলিস মুনরোর সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার মধ্য দিয়ে ছোট গল্প তার অনেক দিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে সামনের কাতারে  চলে আসে। এর পূর্বে নোবেল কমিটি ছোট গল্পকে যেন ধর্তব্যের মধ্যেই আনতে চায় নি বা পারেন নি। এলিস মুনরোকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়ার মাধ্যমে নোবেল কমিটির সেই বদনাম ঘুচে গিয়েছে।

ছোট গল্প লেখার পাশাপাশি তিনি কবিতাও লেখছেন তবে আজ পর্যন্ত কোনো উপন্যাস লেখা হয়ে উঠে নি। তবে উপন্যাসই তিনি লিখতে চেয়েছেন প্রায় সময়। অধিকাংশ লেখাই শুরু করেন উপন্যাস লেখার কথা চিন্তা করে-এগিয়ে যেতে শুরু করেন উপন্যাসের মতো করেই- যার ফলেই তার ছোট গল্পগুলো আকারে বেশ বড়। তবে খানিকটা সামনে এগিয়েই বুঝতে পারেন কোনো মতেই এটা আর উপন্যাস হয়ে উঠছে না। কম বয়সী মুনরোর পক্ষে ছোট গল্প লেখাটাই সুবিধাজনক ছিলো- নিজের ছোট ছোট সন্তান একা সামলানো, সহযোগিতা করার মতো ছিলো না কেউ; উপন্যাস লেখার জন্য যে অখন্ড সময়ের দরকার তার অভাব ছিলো। সবসময় শঙ্কায় থাকতেন সামনে হয়তো এমন কিছু ঘটে যাবে যাতে করে উপন্যাস লেখা শেষ করা আর হয়ে উঠবে না- এ ধরনের ভয় অনেক লেখকের মধ্যেই কোনো না কোনো ভাবে থাকে বলে আমার ধারণা। এর ফলে এমন কিছু লেখাই চালিয়ে যান যা খুব কম সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়। আর এভাবেই তিনি ধীরে ধীরে ছোট গল্পের পরিসরের মধ্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন। সারা জীবন ধরে ছোট গল্প লেখা তার কাছে ছিলো উপন্যাস লেখার প্রস্তুতি, তবে উপন্যাস লেখা জীবনে কোনোদিন হয়ে উঠে নি।

মাত্র এগারো বছর বয়সেই সিদ্ধান্ত নেন লেখক হবেন; এগিয়ে গেছেন সেভাবেই। এরপর থেকে সারাজীবনে এক মুহূর্তের জন্যও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান নি। অক্লান্তভাবে শুধু লিখেই চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়েই তার গল্প প্রথমে কলেজ সাময়িকী ও পরে বিভিন্ন বিখ্যাত সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়ে ঐ জীবনেই তাকে খ্যাতি এনে দিতে থাকে। তার মোট গল্পগ্রন্থের সংখ্যা সতেরটি। এই ৮৭ বছরের জীবনে অসংখ্য গল্প লিখেছেন- প্রতি তিন-চার বছরে একটি করে গ্রন্থ প্রকাশিত হতে থাকে তার। এ পর্যন্ত প্রকাশ হওয়া তার গল্প গ্রন্থগুলো হলো-  Dance of the happy shades (1968), Lives of girls and women (1971),  Something I've been meaning to tell you (1974),  What to you think you are (1978),the moons of Jupiter (1983), The progress of love (1986),  Friend of my youth (1990), Open secrets (1994), the love of a good women (1998), Hateship, Friendship, Courtship, Loveship, Marriage (2001) And Runaway (2004), The View from Castle Rock (2006)  Too Much Happiness  (2009)। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গল্পগ্রন্থ  Dear life - প্রিয় জীবন।

১৯৬৮ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ আনন্দময় ছায়াদের নৃত্য (Dance of the happy shades) কানাডার সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরষ্কার “গভর্নর জেনারেল অ্যাওয়ার্ড “জিতে নেয়। তার এই প্রথম গল্পগ্রন্থটি কানাডার পাঠক মহলে বেশ আলোড়নও তৈরি করতে সক্ষম হয়। তিনি মোট তিনবার তার দেশের ঐ সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরুষ্কারটি জেতেন। নোবেল পুরুষ্কারের ঠিক নিচেই যার অবস্থান বলে ধারনা করা হয় সেই “ম্যান বুকার প্রাইজ “পান ২০০৯ সালে। ২০০১ সালে প্রকাশিত হেইটশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, কোর্টশিপ, লাভশিপ, ম্যারেজ (Hateship, Friendship, Courtship, Loveship, Marriage)  গল্পগ্রন্থ  অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। এওয়ে ফ্রম হার  শিরোনামে ২০০৬ সালে একটি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নির্মাতা সারাহ পলি (Sarah Polley), চলচ্চিত্রটি অস্কার পুরস্কারের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছিলো। 

নিজের লেখা গল্প পরবর্তী সময়ে মাঝে মাঝে পরিমার্জন করলেও পরে বুঝতে পেরেছেন যে কাজটি সঠিক নয় কারণ সংশোধন করার সময়ে তো গল্প লেখাকালীন সময়ের ছন্দটি আর অবশিষ্ট থাকে না।

১৯৯৭ সাল থেকে কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তবে একটি বা দুটি খসড়া হাতেই সেরে নেন, তারপরে আসেন কি-বোর্ডে। একটি গল্প শুরু থেকে শেষ করা পর্যন্ত তার সময় লাগে ন্যূনতম দুই মাস। তবে তার অধিকাংশ গল্প সাত-আট মাসের আগে শেষ করতে পারেন না। খসরা আকারে লেখার পর নানা ধরনের অনেক পরিবর্তন সাধন করেন, মাঝে মাঝে গল্পের গতিপথও বদলে দিতে হয়। খুব বেশী সমস্যায় না পড়লে এই বিশ্ব নন্দিত গল্পকার প্রায় প্রতিদিনই লিখতে পছন্দ করেন। সকালবেলা ঘুম থেকে জেগেই লেখতে বসেন। বাস্তব জীবনের কঠোর স্পর্শ পাবার আগেই দু-তিন ঘন্টা লিখে ফেলেন।

সাহিত্য জগতে প্রবেশ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন পরিবার থেকেই। এলিস মুনরোর বাবা মৃত্যুর আগে একটা বই লেখে গেছেন -একটি উপন্যাস। তার বাবাকে খুব কম বয়সেই  জীবিকা নির্বাহ করার জন্য কৃষি কাজে নেমে পড়তে হয় বিধায় লেখা চালিয়ে যেতে পারেন নি, তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বই লেখার সিদ্ধান্তে অটল হন ও লিখেও ফেলেন।

সারা জীবন ধরে অক্লান্ত বিরামহীনভাবে লেখেই চলেছেন তিনি। যে আমলে নারীরা সন্তান লালন-পালন ছাড়া আর কিছুই করতো না- সেই সময় থেকেই লিখতে শুরু করেন। জীবনের শেষ বয়সে এসে লিখতে ভীষণ ক্লান্তি বোধ করেন। তবে এটাকে অনন্দময় ক্লান্তি বলে মনে হয় তার কাছে।

 তথ্য সূত্রঃ ইন্টারনেট,

বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার সাক্ষাৎকার।


  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

মেহেদী হাসান

জন্ম ১৯৮৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের মাছিমপুরে নানার কর্মস্থলে । বেড়ে উঠেছেন টাঙ্গাইলের ক্ষেত খামারে ছাওয়া সভ্যতার আলোহীন এক নিভৃত গ্রামে। স্থানীয় স্কুল কলেজে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে প্রাতিষ্ঠানিক লেখা-পড়ার পাট চুকিয়েছেন। শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তার বিরামহীন ভালোবাসার কারনে স্থান হয়েছে সমাজের নির্জনতম কোনে- সেখানেই বসবাস। সমাজ-রাষ্ট্রের শ্যাওলা ধরা প্রথা-প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে নিঃসঙ্গ ঝাঁক চ্যুত মাছের মতই সাহিত্যের জলে সাতার কাটতে ভালোবাসেন । তিনি মূলত একজন পাঠক- নিজেকে অবিরাম পাঠ করতে চাওয়ার তাড়না থেকেই লেখা-লেখির জগতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রবেশ। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য আকারে নিজেকে, নিজের স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন, চিন্তা, অনুভূতি, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া, চারপাশের পরিবেশ যেভাবে মনের আয়নায় প্রতিফলিত হয়- প্রকাশ করে চলেছেন এখন পর্যন্ত। গল্প গ্রন্থ “অসময়ের গল্প”- বই আকারে নিজেকে প্রথমবারের মত প্রকাশ। স্বপ্ন দেখেন- এই সময়ের আলোতে তার স্বপ্নেরা পঙ্গু, বিবর্ণ -গন্ধ, আকার, পুষ্টিহীন- অন্ধ, বোবা, কানে শোনে না। ওরা মাঝে মাঝে প্রচন্ড জেদী-একগুয়েমী আচরণ করে, তাকে ও তার পরিজনকে বিড়ম্বনায় ফেলে দেয়। স্বপ্নগুলো নানা ধরনের ঘাতক রোগ ব্যধিতে প্রতিনিয়ত হয় আক্রান্ত। যদিও মাঝে মাঝে তারা উলম্ফ-উদ্বাহু নৃত্য জুড়ে দেয়, দিক্বিদিক ছুটে বেড়ায় উন্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নীচে, পাখি হয়ে শূন্যে ডানা মেলে উড়ে । এখনো কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বপ্নকে লালন করার পাশাপাশি তার অসুস্থ স্বপ্নগুলোকে ঔষধ-পথ্য দেয়। তার মুমূর্ষু স্বপ্নেরা গড়িয়ে-গড়িয়ে, হাতড়ে-হাতড়ে, ডানা ঝাপটিয়ে এখনও অসময়কে পিছনে ফেলে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে । ইদানিং সময়ে বিশ্বসাহিত্য অনুবাদের কাজও করে চলেছেন ।

ফেসবুকে আমরা