বর্তমান লেখকদেরকেও গুরুত্ব দেয়া উচিৎ

রবিবার, জুন ২৮, ২০২০ ৪:৩৩ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


সমসাময়িক লেখকদের লেখা পড়তে হয়। না হলে বোঝা যায় না সময়টা কোনদিকে গড়াচ্ছে। বোঝা যায় না এখনকার কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক কী ধারার মানসিকতা নিয়ে আছেন। শুধুমাত্র পঞ্চাশ, ষাট, এক‘শ দু‘শ বছরের বই পড়লে হয় না। সেসব আমাদের শিকড়। তার উপর দাঁড়িয়ে আছি ঠিকই। কিন্তু বর্তমানটা কেমন তাও তো বুঝতে হয়। বর্তমানকে লালন না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন ভীতের উপর দাঁড়াবে? সময় থেকে তো কোনো কালকেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। সবকিছুর ধারাবাহিকতা আছে। সময়েরও ধারাবাহিকতা আছে। আমি মনে করি প্রতিটা সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কে কীভাবে গ্রহণ করবে সেটা যার যার ব্যক্তিগত অভিরুচি। কিন্তু একেবারে না জেনে, না বুঝে, না পড়ে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে, উন্নাসিকতা প্রকাশ করার মধ্যে কোনো ক্রেডিট নেই। এতে যারা বর্তমান সময়কে অস্বীকার করছেন তারা কিন্তু নিজেকেই অস্বীকার করছেন। নিজের সময়কে উপেক্ষা করার মানসিকতা বর্জন করুন। সমালোচনা করতে চাইলে জেনে সমালোচনা করুন।

সমসাময়িক লেখকদের লেখা পড়ে নিজের অবস্থানও আবিস্কার করা যায়। আপনি কোন চিন্তা ধ্যান ধারণার মানুষ তা অন্যের সঙ্গে তুলনা করে এক মানসিক স্বস্তিও পেতে পারেন, যদি নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকে। আমি অনেককেই লক্ষ্য করেছি বর্তমান সময়ের লেখকদের লেখা পড়তে চান না। কী লেখে, না লেখে, এমন বিরক্তভাব দেখানোর চেয়ে আরো বড়ো কথা কতোটুকু জানেন আপনি তাদের সম্পর্কে? কিছুই জানেন না। অতএব কিছু না জেনে বিরূপ মন্তব্যও করবেন না, প্লিজ! আমি সবরকম লেখাই পড়ি। চেষ্টা করি, নতুন লেখকদের লেখা পড়তে। তারপর নিজ বিবেচনার সেসব লালন করি। অন্তত সৃষ্টিশীল মননশীল কাজের মানুষগুলোকে অবজ্ঞা না করে একটু যাচাই বাছাই করুন। উৎসাহিত না করে অন্তত নিরুৎসাহিত করবেন না। সময় বলে দেবে কী থাকবে আর না থাকবে। সৃষ্টিশীল মননশীল কাজ প্রকৃতির মতো। এসব প্রকৃতির আদিখ্যেতায় থেকে যায়। এখানে মানুষের কিছুই করার নেই।

আমি এবারের বইমেলা থেকে ৮০% বই কিনেছি সমসাময়িক লেখকদের। কারণ, আমি এদের জানতে চাই। বুঝতে চাই। কখনো কখনো এদের সান্নিধ্য আমাকে ঋদ্ধ করে। আমি কেনো এসব অবহেলা করবো? আমি সমসাময়িক লেখকদের মধ্য দিয়েই যে বাঁচি! কারণ, আমি তাদের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি। প্রয়াত লেখকদের লেখা যেমন আমার বোধের জায়গায় আছে, তেমনই বর্তমান লেখকদের লেখাও আমার অনুভূতিতে আছে। আমি আমার সময়টাকেই বেশি গুরুত্ব দেই। তাই চোখের সামনে, হাতের কাছে যা পাই গোগ্রাসে গিলে ফেলি। পড়ার পর অনুভূতিটা সম্পূর্ণ আমার।

সবশেষে বলবো, সমসাময়িক লেখকদের লেখা প্লিজ অবজ্ঞা করবেন না। পড়ুন, জানুন, তারপর বিবেচনা করুন। অতীতও পড়তে হয়, পাশাপাশি বর্তমানকেও পড়তে হয়। নিজের সময়কে অবহেলা করার মধ্যে কোনো ক্রডিট নেই। করোনাকালের সময়টা সব উল্টিয়ে দিচ্ছে। নতুন এক পৃথিবী আসছে, নতুন চিন্তা ভাবনা, ধ্যান ধারণা নিয়ে। তারজন্য প্রস্তুত হোন। সময়কে ধারণ করতেই হবে, না হলে নিজেকে কোথাও খুঁজে পাবেন না।


  • ৪৭৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা