আরেকটি ফ্রাংকেনস্টাইনের দানবের গল্প রূপায়িত হচ্ছে আমাদের চোখের সামনেই।

মঙ্গলবার, জুন ৫, ২০১৮ ১০:৫৩ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


মেরি শেলি মাত্র আঠারো বছর বয়সে একটা উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলেন। সেটা শেষ করেছিলেন দুই বছরের মধ্যেই। বিশ বছর বয়েসী এই তরুণীর প্রথম উপন্যাসটাই কাঁপিয়ে দিয়েছিলো বিশ্বকে। আজো এটি ক্লাসিকের মর্যাদা পাচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে। পাঠক নিশ্চয় বুঝে গেছেন আমি কোন উপন্যাসের কথা বলছি। হ্যাঁ, উপন্যাসটার নাম 'ফ্রাংকেনস্টাইন'।

এই উপন্যাসের মূল চরিত্রের নাম ভিক্টর ফ্রাংকেনস্টাইন। তরুণ একজন গবেষক। শখের বশে ল্যাবরেটরিতে একটা প্রাণী তৈরি করে সে। এই প্রাণীটার কোনো নাম ছিলো না উপন্যাসে। যাকে ক্রেচার, ডেমন এই জাতীয় বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে। আমরা ইদানিংকালে ভূলবশত ফ্রাংকেনস্টাইন বলতে সেই সৃষ্ট প্রাণীকে বুঝি। স্রষ্টার নাম গায়ে সেঁটে গেছে তার সৃষ্ট প্রাণীর ক্ষেত্রে।

যাইহোক, এই ক্রেচার ল্যাবে জন্মানোর পর তার স্রষ্টার কাছে একের পর এক দাবিনামা পেশ করতে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম একটা হচ্ছে তার জন্য একজন নারী সঙ্গী তৈরি করে দিতে হবে। এক দানবেই দুনিয়া অস্থির, এর নারী সঙ্গী তৈরি করে দিয়ে বংশ বৃদ্ধি করতে দিলে, পৃথিবীতে মানুষই বিলুপ্ত হয়ে যাবে এদের অত্যাচারে, এই ভয় থেকে ভিক্টর অর্ধ সমাপ্ত নারী ক্রেচারকে ধ্বংস করে ফেলে। এর প্রতিশোধ সেই দানব নেয় ভিক্টরের পুরো পরিবারকে হত্যা করার মাধ্যমে। পালটা শোধ নিতে দানবের পিছু পিছু উত্তর মেরুতে যায় ভিক্টর। কিন্তু, লাভের লাভ কিছু হয় না, বরং নিজেই মারা পড়ে সে সেখানে।

এই গল্পের মোরাল আমরা সবাই জানি। দানব সৃষ্টি করলে, সেই দানবের হাতেই স্রষ্টার বিনাশ ঘটে। র‍্যাব নামের এক দানবকে সৃষ্টি করেছিলো বিএনপি। একে দিয়া মানুষ খুন করাতো তারা। সরকার থেকে পতনের পর সেই র‍্যাবই খুন করেছে অসংখ্য বিএনপি নেতা এবং কর্মীকে। আজকে মেরুদণ্ড ভাঙা সাপের মতো নিথর হয়ে পড়ে আছে তারা। আওয়ামী লীগ প্রবল উল্লাসে বিএনপিসৃষ্ট দানবকে সাফল্যজনকভাবে ব্যবহার করেছে বিএনপির বিরুদ্ধেই। কিন্তু, এই গল্পের কি এখানেই শেষ? এই চক্রের কি এখানে সমাপ্তি? না, ইতিহাস বলে এই গল্পের আরো বাকি আছে। আওয়ামী লীগ চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক দলই চিরকাল ক্ষমতায় থাকে না। ক্ষমতা থেকে একদিন না একদিন সরে যেতেই হয় তাদের। আওয়ামী লীগ যখন সরে যাবে ক্ষমতা থেকে, র‍্যাব কিন্তু থেকেই যাবে। শুধু তার বন্দুকের নলটা ঘুরে যাবে। তাক করা হবে তা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দিকে। দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষে অন্যকে ভয় দেখানো অবশ্যই যায়, কিন্তু সাপের শেষ ছোবলটা যে পোষে, তারই খাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আওয়ামী দুধ কলা খেয়ে র‍্যাব প্রস্তুত হচ্ছে।

আরেকটি ফ্রাংকেনস্টাইনের দানবের গল্প রূপায়িত হচ্ছে আমাদের চোখের সামনেই।


  • ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফরিদ আহমেদ

লেখক, অনুবাদক, দেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। দীর্ঘ সময় মুক্তমনা ব্লগের মডারেশনের সাথে জড়িত ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের অনুবাদ করেছেন। বর্তমানে ক্যানাডা রেভেন্যু এজেন্সিতে কর্মরত অবস্থায় আছেন। টরন্টোতে বসবাস করেন।

ফেসবুকে আমরা