আসিফ মহিউদ্দিন

জার্মান প্রবাসী আসিফ মহিউদ্দীন বাঙলা অন্তর্জালে একজন নিধার্মিক ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্ট।

মেয়েটিকে মানবিক বিয়ে কেনো করতে হলো?

মেয়েটির বিয়ে হয়েছিলো মাত্র ৯ বছর বয়সে৷ স্বামী হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ। হেফাজতে ইসলামের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মেয়েটির বর্তমান বয়স ২৭ বছর, বড় ছেলের বয়স ১৭ বছর। বিয়োগ করুন। এরপরে ভাবুন। কতো বছর বয়সে মেয়েটি গর্ভবতী হয়েছিলো?

যেনো কারো কিছুই আসে যায় না। কী ভয়াবহ একটি ব্যাপার, কিন্তু এই নিয়ে কেউ কথা বলছে না। কোথাও এটি আলোচনার বিষয় নয়! মাত্র ৯ বছর বয়সে বিয়ে, যৌনজীবন, সংসার! একজন শিশু ছিলো সে! যেই বয়সটি ছিলো পুতুল খেলার, বন্ধুদের সাথে পুকুরে সাঁতার কাটার, গাছে উঠে আম খাওয়ার, পড়ালেখা করে নিজের ভবিষ্যত গড়ার, সেই বয়সে সে এক বাচ্চার মা। এই মেয়েটির কথা কেউ বলছে না। যেনো কত স্বাভাবিক একটি বিষয়! যেনো এমনটিই হওয়ার কথা ছিলো!

মেয়েটিকে মানবিক বিয়ে কেনো করতে হলো? মেয়েটি কেনো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলো না? একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে সে কেনো আত্মসম্মান নিয়ে বড়ো হতে পারলো না? কেনো আরেকজন হুজুরের তার দায়িত্ব নিতে হলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে? যেই পিতামাতা তাকে এতো অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছিলো, তাদের কোনো শাস্তি হবে না? এই মেয়েটির ভবিষ্যত ধ্বংস করার দায়ে তারা কেনো অপরাধী হবে না? তারা তো তাদের মেয়েকে ঠেলে দিয়েছে এক অনন্ত নরকের দরজায়। এই মেয়েটিকে কেনো এতো অসহায় করে ফেলা হলো?

হ্যাঁ ভাই, আমি বাল্যবিবাহ বিদ্বেষী। আমি একজন গর্বিত বাল্যবিবাহ বিদ্বেষী মানুষ। ভয়ঙ্করভাবে বিদ্বেষী। আমার পক্ষে সম্ভব হলে সেই পিতামাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতাম, কারণ তারা মানুষ হত্যার চাইতেও বড় অপরাধ করেছে। মেয়েটির জীবনটি তিলে তিলে ধ্বংস করেছে। সেই স্বামীটিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করতাম। কারণ এটি অবশ্যই ধর্ষণ। যেই ধর্ষণের কোনো বিচার হয় না৷ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই ধর্ষণটি আমাদের সমাজে প্রচলিত৷

কি রকম একটা ব্যাপার চিন্তা করেন। একটি ৯ বছরের মেয়ের ওপর চেপে বসেছে এক দাঁড়িওয়ালা খচ্চর! অথচ কারো তাতে কোনো আপত্তি নেই। সবাই মেয়েটিকে রঙচঙ মাখিয়ে, লাল শাড়ি পড়িয়ে পাঠাচ্ছে ধর্ষিত হতে! তার নিজের পিতামাতাই! যেই মেয়েটি তখনো যৌনতার মানেই জানে না।

কীভাবে পারে একজন মানুষ! কীভাবে পারে এতোটা অসভ্য হতে! এই যুগে?

বাল্যবিবাহ একটি ধর্ষণের চাইতে বড় অপরাধ। একটি ধর্ষণ শুধু একবারের ঘটনা। বাল্যবিবাহ মাসের পর মাস বছরের পর বছরের ঘটনা। এবং সামাজিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় এটি আরো মারাত্মক। মেয়েটির পক্ষে এরপরে আর কখনই আত্মনির্ভরশীল হওয়া সম্ভব হয় না। ভবিষ্যতে স্বামীর সাথে তালাক হলেও, অন্য কোনো এক লম্পট হেফাজতির বিছানা গরম করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকে না।

252 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।