অদিতি ফাল্গুনী

লেখক ও কলামিস্ট

‘শাড়ি পরে ফুটবল খেলা গেলে বোরখা পরে ক্রিকেট নয় কেনো?’ কেনো এদেশে খেলার পোশাকে মেয়েরা খেলতে পারে না?

দু/তিন দিন আগে বোরখা পরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে লেখাটি লেখার সময় মনে হচ্ছিলো অচিরেই ঐ যে আমাদের অতি পরিচিত যে হালের এক শ্রেণির বাম ও সুশীল অংশটি ফেলানীর জন্য কাঁদলেও সৌদি আরবে মালিক ও মালিকপুত্রের হাতে চোখ উপড়ে, হাত-পা ভেঙ্গে ও যৌন নিগ্রহের শিকার হয়ে কুলসুম নিহত হলেও টুঁ-শব্দটি করে না, তারা অচিরেই মাঠে নামবে। খোদ কোরানে ‘নবী পরিবারের নারী’র জন্য চুল ঢাকতে বলা বা না বলার মাঝামাঝি ধোঁয়াশা ও মূলত: বুক ঢাকতে ‘খিমার’ ব্যবহার করার কথা বলা হলেও বামপন্থা ও সুশীলতার মুখোশে এই নব্য মুসলিমরা কিনা মহানবীর চেয়েও বড় মুসলিম, তারা আফগান বোরখায় নারীকে ঢেকে ক্রিকেট খেলার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এবং সেই কাজে বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে সাংস্কৃতিক অনেক নিষেধাজ্ঞার ভেতরেও বিশেষত: সংখ্যালঘু বা অমুসলিম, দরিদ্র জনপদগুলোয় ঐ যে নারীরা শাড়ি পরেই অনেক সময় ভেতরের মরে না যাওয়া বালিকা স্বভাবে গাছকোমর দিয়ে শাড়ি পরে হাডুডু বা দাড়িয়াবান্ধা খেলায় অংশ নেয়ার ছবি বা সংখ্যালঘু নারীদের শাড়ি পরেই নানা খেলায় অংশ নেবার ছবি ব্যবহার করবেন। ষাটের দশকের বাংলা সাহিত্য অবধি বাঙ্গালী মুসলমান কবি বা লেখকের কবিতা ও গল্পেও নিতান্ত গ্রামীণ অভিজাত পরিবারের বউ না হলে সাধারণ মুসলিম ঘরের মেয়েরাও কিশোরী বয়সে গাছকোমরের শাড়ি পরে হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা খেলায় অংশ নিচ্ছে এমন বিবরণ অহরহ মেলে। এমনকি খোদ আল মাহমুদের কবিতায় ‘কবিতা তে’ মক্তবের মেয়ে চুল খোলা আয়েশা আক্তার’ বলে পংক্তি পাওয়া যাচ্ছে। বুঝুন অবস্থা! তখন গ্রামের ‘মক্তবের মেয়ে’ আয়েশা আক্তারেরও ‘চুল খোলা’ থাকতো। স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন কে? না- স্বয়ং আল মাহমুদ!

এই ত’ ১৯৮১ সালেই বোধ হয় গ্রামীণ দরিদ্র ও মুসলিম নারী ‘জয়গুণে’র চরিত্রে ডলি আনোয়ারকে আমরা দেখেছি। শাড়ির সাথে ব্লাউজ ছিলো না তাঁর সেই চরিত্রে রূপায়ণের সময়। শৈশবে গ্রাম-বাংলার প্রেক্ষাপটে বানানো এমন মূল ধারার ছবিতেও গ্রামীণ মুসলিম নারী চরিত্রে নামী অভিনেত্রী আনোয়ারাকে বহু বারই বোধ হয় ব্লাউজ ছাড়া অভিনয় করতে আমরা দেখেছি। বছর দুই আগে অভিনেত্রী অঞ্জনা তাঁর যে বক্তব্যের জন্য খুব ট্রলড হলেন সেই বক্তব্য কিন্ত খুব ভুল নয়। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগেও গ্রামে-গঞ্জে গ্রামীণ মুসলিম নারীও ব্লাউজ ছাড়া চলেছেন। বাংলাদেশে দারিদ্র্য কিছুটা হলেও কমেছে এটা স্বীকার না করা জাতি হিসেবে নিজেই নিজের শক্তি স্বীকার করতে না চাওয়া। না- এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিতে হবে সেটা তো’ কেউ আপনাকে বলছে না। তবে দারিদ্র্র্য আমাদের কিছুটা হলেও কমেছে এটা সত্য। তা’ একজন গ্রামীণ নারী সারাদিন মণ মণ ধান ভানে, উঠোন লেপে, কাপড় কাচে, পরিবারের খাবার যোগাতে শাক তুলতে ও মাছ ধরতে যায়, বরের সাথে ক্ষেতের সব্জি ফলানোর পাশাপাশি আকালের সময় ক্ষেতে জন মজুরির কাজও করে। ভদ্র ভাষায়, বিশ্বায়ণের ভাষায় আমরা যাকে বলি ‘ওমেন এগ্রিকালচারাল ডে লেবারার।’ তার পক্ষে চাইলেও আফগান বোরখা পরা হয়তো এখনো কঠিন। ফরিদপুরের গ্রামে অন্ত্যজ হিন্দু নারীরা নৌকা বাইচে অংশ নিচ্ছেন শাড়ি ও শাঁখা-সিঁদুর পরে তেমন ছবি ক’দিন আগে পত্রিকায় এলো। এখন ঢাকায় বসে আপনারা কী বলবেন? অথবা বিদেশে বসে? কই, হিন্দু নারীরা যখন শাঁখা-সিঁদুর পরে ফুটবল খেলে, তখন ত’ আপনারা চেঁচান না? এই ত’ বলবেন। এখানে একাধিক প্রসঙ্গ আছে। গ্রামের দরিদ্র পুরুষ হয়তো লুঙ্গি বা ধূতি পরেও ফুটবল বা ক্রিকেট খেলে। আমির খানের ‘লগানে’ ইংরেজ শাসকদের সাথে দরিদ্র ভারতীয় চাষীরা ধূতি পরেই ক্রিকেট খেলছে। কিন্ত শহরের ছেলেটি বা পুরুষটি কিন্ত ট্রাউজার পরেই ফুটবল বা ক্রিকেট খেলেন। কাজেই প্রত্যাশা করা যায় শহরের মেয়ে বা নারীটিও খেলার পোশাকেই ফুটবল বা ক্রিকেট খেলেন। আর আসেন, এখানেই নিজের সাথে নিজের ভন্ডামি বা হিপোক্রিসি আয়নায় ধরা পড়ে যাবে।

বোরখা মাই চয়েস? হা-হা- ফ্রিডম অফ চয়েস? শুধু মুসলিম নয়, নগরবাসী মধ্যবিত্ত হিন্দু বা এমনকি ক্রিশ্চিয়ান পরিবারেও কয়টি মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেও খেলতে পারে? হ্যাঁ, কিছুটা দেশের ভয়ানক বাজে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হোক আর কিছুটা মনোভুবনের ক্লেদের জন্য হোক, আপনার কন্যা শিশুকে আপনি তো’ আট-নয় বছর বয়স থেকে বাড়তি নজরদারিতে রাখেন। আমার পরিবারেই যেমন আমাকে রেখেছে। তাকে খেলতে দেয়া হয় না, দৌড়াতে দেয়া হয় না, রোদে-বৃষ্টিতে একটি ছেলের মতই বের হতে দেয়া হয় না। ক্লাস সিক্স থেকে প্রতিটি মেয়ের স্কুল-পোশাকে সালোয়ার-কামিজ-ওড়না আবার ওড়নার উপর রুমালও পরতে হতো আমাদের মফস্বলী স্কুলে। ঢাকায় এসে দেখলাম শুধু ওড়না পরলেই হচ্ছে। এখন নাকি শুনছি অনেক স্কুলে ছাত্রীদের হিজাব পরতে হচ্ছে। তারপর বহু ট্রাউজার পরা, জিন্স পরা সপ্রতিভ, আধুনিক বাবাকে দেখি অসভ্যের মতো...আমি আমার ভাষা ভালো করব না...অসভ্যের মতো জিন্স পরা বাপ তার ছ/সাত বছর বা কখনো কখনো দু/তিন বছরের শিশু কন্যার মাথায়ও হিজাব চড়িয়ে চলেছে। বউটার গায়ে কালো বোরখা তো’ আছেই। শিশু পুত্রও জিন্স পরা। গতবছর ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাচ্ছি। বিমানে দেখি এক ঝাঁ চকচকে যুবকের স্ত্রীর গায়ে শুধু বোরখা না, মুখে বিচিত্র নেকাব ও চোখও দেখা যায় না। বরটা জিন্স পরা। হতবাক হয়ে গেলাম। এবং এই সংখ্যাটা বাড়ছে। নব্বইয়ের দশক অবধি একটি পশ্চিমা পোশাক পরা, সপ্রতিভ যুবকের বউটিও সপ্রতিভ হতো। এখন বর যত ঝাঁ চকচকে, বউ অনেক ক্ষেত্রেই বোরখা-হিজাবে পুঁটুলি পাকানো।

তবে তারপরও পাপ শুধু একা বাঙ্গালী মুসলিমের এটা আমি বলবো না। হিন্দু কম কী? গ্রামের দরিদ্র নারী না হয় একশো টাকার ছাপা শাড়ি পরেই ফুটবলে লাথি মারছে, আপনি শহুরে মধ্যবিত্ত আপনার মেয়েকে খেলতে দেন না কেনো? ঘরে ঘরে বাঙ্গালী নারীর ত্রিশ পেরোলেই অস্থি ক্ষয়। শৈশবে খেলতে দেন নি, রোদ-বাতাস লাগাতে দেন নি, প্রচুর কাপড়ে (শুধু মুসলিম পরিবারে নয়- সব পরিবারেই) পেঁচিয়ে রেখে তাদের অসুস্থ করে তুলেছেন। এটা নিয়ে ভাল গবেষণা হতে পারে। পাপ দক্ষিণ এশিয়ার সব পুরুষেরই আছে। ইংরেজরা আসার পর ওনরা পুরুষেরা দিব্যি ট্রাউজার ধরলেন, আমাদের জন্য শাড়ি আর হালে ঐ সালোয়ার-কামিজ হলো। তোমরা পশ্চিমা পোশাক পরতে পারলে আমরা পারবো না কেনো? আমরা বাইরে কাজ করি না, টাকা আয় করি না? ট্রামে-বাসে চড়ি না? এখন অবশ্য ভারত-নেপাল-শ্রীলঙ্কা সহ দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোয় নাগরিক তরুণীর আর একটু পোশাকের স্বাধীনতা আছে। জিন্স-টপস থেকে নানা ধরণের পোশাক পরছে তারা। কিন্ত ‘মেগা সিটি’ ঘোষণা করে ঢাকার অবস্থা? নব্বইয়ের দশকে ঢাবিতে তাও সালোয়ার-কামিজ আর খোলা চুলের মেয়েরা ছিলো। এখন গেলে মনে হয় কোনো মাদ্রাসায় ঢুকেছি। আরে পাকিস্থানের মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত নারীও পশ্চিমা পোশাক পরে অনেক সময়, পারি না শুধু আমি-আপনি। ব্যক্তিগত ভাবে আমার নিজের দু’বার রিক্সার চাকায় ওড়না আটকে শ্বাসরোধ হয়ে মরতে বসা অবস্থা হয়েছিলো। তবু ওড়না আমাদের পরতেই হয়। সালোয়ার-কামিজ যে মধ্য এশিয়ার পোশাক আসলে, সেই কাজাখস্থান বা উজবেকিস্থানে কিন্ত ঐ কলকাতার মেয়েদের মতই বুকে ওড়না পরে না তবে মাথায় রুমাল বাঁধে। কিছুদিন আগে কাজাখস্থান ভ্রমণ মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম। কাশ্মিরী মুসলিম একাধিক নারীকেও ভারতের এ্যাপোলো হাসপাতালে কয়েকবছর আগে দেখেছি যে মাথায় রুমাল তবে বুকে বাড়তি ওড়না ছাড়া চলছেন। তা’ পোশাকের চয়েস বলবেন আর আমার রিক্সায় ওড়না জড়িয়ে মরার দশা হলেও ওড়না সরাতে পারবো না?

বেদনাটা কোথায় জানেন? বেদনা হচ্ছে আজো এই ‘আমার সোনার বাংলা’য় ১৮-র নিচে ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়। যে বয়সে ওদের স্কুলে ফুটবল না হোক, নিদেনপক্ষে ব্যাডমিন্টন, ভলিবল বা টেবিল টেনিস খেলতে পারার কথা, সেই বয়সে ওদের বিয়ে হয়। আজ আমরা জাতিসঙ্ঘের ‘সাইসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ পূরণ করতে পারছি না শুধুমাত্র এই শিশু বিবাহের চড়া হারের কারণে আর বীরত্ব দেখিয়ে ‘শিক্ষিত নারীরা’ ঝাঁপিয়ে পড়ছি ‘আফগান বোরকা পরা’ আম্মুর ‘পোশাকের স্বাধীনতা’ ডিফেন্ড করতে। ভাবটা এমন যে যেন সবাই খোদ নবীর বংশের মেয়ে। আরে, নিজেকে এত গুরুত্ববহই বা ভাবেন কেন? খোদ নবীর পরিবারের নারীরা ‘খিমারে’ বুক ঢাকার পাশাপাশি চুল ঢাকতে হবে কিনা সেটাই যখন স্পষ্ট হচ্ছে না- একে অনারব (দক্ষিণ এশীয় কালো অনারবদের মুসলিমই মনে করে না আরবরা আর সেটা তাদের নানা আচরণে তারা হরহামেশা বুঝিয়েও দিচ্ছে, এই সেদিনও সৌদি আরবের এক মন্ত্রী উপমহাদেশের মুসলিমদের ‘হিন্দু-মুসলিম’ বলেছেন তাঁর অফিসিয়াল বক্তব্যে- মানে যারা জাতিগত ভাবে ‘হিন্দু’ তবে ইসলামে দীক্ষিত) তাতে অতি সাধারণ সব পরিবারের মেয়েরা আপনারা কারা যে এত ‘হিজাব-হিজাব,’ ‘বোরখা-বোরখা’ করছেন? ‘হলাম না হয় টুনটুনি, ভাবি নিজেকে রাণী ভবানী’ অবস্থা আর কি!

এবার বলি কেনো ‘হিন্দুর পাপও কম নয়?’ জি বাংলায় ‘দীপ জ্বেলে যাই’ নামে একটি সিরিয়াল লক ডাউনের শুরুতে রোজ দুপুর তিনটা-চারটার সময় বড় বোনের সাথে বেশ কয়েকটি এপিসোড দেখেছিলাম। পশ্চিম বাংলার এক মফস্বল শহরে এক বনেদি পরিবারের ও সরকারী আইসিএস অফিসার বাবার ছেলে একজন ব্যাডমিন্টন কোচ। সে স্বপ্ন দেখে অনেক ছেলে-মেয়েকে ভাল প্রশিক্ষণ দেবে। কিন্ত বাদ সাথে ব্যাডমিন্টন একাডেমির এক অবাঙ্গালী যুবক প্রতিদ্বন্দী। মিথ্যে ডোপ টেস্টে বাঙ্গালী নায়ককে খল প্রমাণ করে একাডেমি থেকে তাড়ায়। হতাশায় আত্মহত্যা করতে বসা নায়ককে তার বাবা-মা এক বড়লোক পাত্রীর সাথে বিয়ে দিয়ে আমেরিকা পাঠানোর কথা ভাবে। তবে নায়ক তার ব্যাডমিন্টন কোচ হবার স্বপ্ন ছাড়ে না। এক দরিদ্র পরিবারের কিশোরী দিয়াকে সে প্রশিক্ষণ দেয়। বাদ সাধে দিয়ার বাবা। মেয়েকে বিয়ে দেবার সময়ে উপস্থিত হয় ব্যাডমিন্টন শিক্ষক। মেয়েটির প্রতিভা যেনো নষ্ট না হয়, তাই নিজেই বিয়ে করে মেয়েটিকে। এরপর নববধূ বা লাল বেনারসী পরে, কপালে সিঁদুর পরা দিয়া র‌্যাকেট হাতে ম্যাচ জেতে। সিরিয়ালটি শেষ অবধি দেখা হয় নি। ভারতে উদীয়মান হিন্দু মৌলবাদের প্রেক্ষিতে বানানো এ সিরিয়ালে কিছুদিন আগের ভারতের সেক্যুলার, আধুনিক সংস্কৃতির সাথে আজকের ‘বজরংবলী” সংস্কৃতির দ্বন্দ মনে হলো এই সিরিয়ালকে। দিয়ার বর যে ব্যাডমিন্টন কোচ সে নিজে নাস্তিক। ঠাকুর-দেবতা মানে না। দিয়ার সাথে কোনো বৈবাহিক সম্বন্ধেও সে নিজেকে বহুদিন জড়ায় না। আমি যত দূর দেখেছি তত দূর অবধি। দিয়া তার কোচ বর হয়ে গেলেও কোচকে ‘স্যার’ ডাকে আর ‘স্যার’ চায় দিয়া সকালে উঠে ব্যাডমিন্টনের পোশাকেই খেলা প্র্যাক্টিসে নামুক। কিন্ত বাদ সাধে পরিবারে দিয়ার ছোট জা, শাশুড়ি (বয়সে অনেক বড়) থেকে অনেকেই। ঘরের বউ কেনো ব্যাডমিন্টন খেলবে আর তাও ছোট পোশাকে? দিয়াকে তার শাশুড়ি ক্রমাগত রান্না-বান্না, পূজা-যজ্ঞে জড়িয়ে ফেলতে চায়। দিয়াও বাধ্য হয়ে হাল ছেড়ে দিতে চায়। তবে দিয়ার নাস্তিক বর সেটা মানে না। সে চায় দিয়া তার ব্যাডমিন্টনের পোশাকে খেলার মাঠে ফিরে আসুক। মাড়োয়ড়ি পুঁজিপতিদের টাকায় বানানো এই সিরিয়ালে বাঙ্গালী কিশোরী দিয়ার মুখে এখানে কথায় কথায় ‘জয় বজরংবলী’ বলানো হলেও দিয়ার বর তথা কোচ কিন্ত পরিবার-সংস্কৃতি-সমাজ কারো চাপে মাথা নিচু করতে চাইছে না। সে তার কিশোরী স্ত্রীকে ছুঁয়েও দেখছে না, লুকিয়ে প্র্যাক্টিসের মাঠে নিয়ে যাচ্ছে এবং খেলার পোশাকেই। বাড়িতে দিয়াকে ফিরতে হচ্ছে অবশ্য শাড়িতে।

শাড়ি, শাঁখা-সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্রই হোক আর বোরখাই হোক, সবার আগে প্রশ্ন করুন সমাজ ও পরিবারের সেই প্রথাকে যা দিয়াদের কিশোরী বয়সে খেলা ছেড়ে বিয়ের পিঁড়িতে পাঠায়। একদা খেলোয়াড়ের দেহে ওঠে আফগান বোরখা। এমনকি গ্রামীণ নারীদের আটপৌরে শাড়িতে ফুটবলে লাথি দেবার ছবিতে তাও মুখটুকু দেখা যায়, মুখের হাসিটাও বোঝা যায়। আফগান বোরখায় সেটাও হয় না। প্রশ্ন করুন সেই ব্যবস্থাকে যে ব্যবস্থায় নারী ফুটবলার বা ক্রিকেটাররা পুরুষ খেলোয়াড়দের তুলনায় ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ পারিশ্রমিক পান আর কলসিন্দুরের সোনাজয়ী কিশোরী মেয়েদের বাসে হ্যারাস করা হয়। এটুকুও যদি না পারেন, তবে লেখা-পড়া শিখে, চাকরি করে বা বাম রাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে লাভ কি? শেষমেশ কিনা হাত মেলাচ্ছেন আমাদের খেলোয়াড় মেয়েদের গা থেকে খেলার পোশাক কেড়ে নিয়ে বোরখা পরানোর মৌলবাদী চক্রান্তে? ধিক্কার জানানোরও ভাষা নেই।

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।