বিয়ে'তে নারীর প্রাপ্তি (প্রথম পর্ব)

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৮ ১:২৩ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় বিপরীত লিঙ্গের দু'জন মানুষকে একত্রে বসবাস অথবা একত্রে জীবন পাড়ি দেয়ার জন্য প্রয়োজন একের প্রতি অন্যের শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানসিকতা। কিন্তু আমাদের মাঝে উক্ত উপাদানগুলোর ঘাটতি রয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। যার দরুন দু’জন নর-নারীকে আবদ্ধ হতে হয় 'বিয়ে' নামক সামাজিক প্রথা বা চুক্তিপত্রে, যার উদ্ভব হয়েছিতো মাতৃতান্ত্রিক সমাজের অন্তিমকালে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সূচনালগ্নে এবং পুরুষের মস্তিষ্ক থেকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।বিয়ে প্রথার মাহাত্ম্য প্রচার করতে গিয়ে বলা হয় যে মানব সমাজে এই প্রথার আবিষ্কার ও প্রচলন একটি মহৎ ঘটনা এবং এই প্রথাটি মানব সমাজকে বিশৃঙ্খলার হাত থেকে রক্ষা করে সেখানে সামাজিক শৃঙ্খলা স্থাপন করেছে। এই দাবিটি যে সম্পূর্ণই অবাস্তব তার প্রমাণ মানব সমাজের আদিতে বিয়ে প্রথা ব্যতিরেকে হাজার হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় মানব সমাজের উত্তরণ ও ক্রমবিকাশ। আজকের যুগেও বিয়ে না করেও দু’জন নর-নারী যে স্বচ্ছন্দে সুষ্ঠ, স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে এবং তার জন্য সমাজ বা রাষ্ট্রে কোনোরূপ বিশৃঙ্খল পরিবেশ-পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় না তার অনেক উদাহরণ আমরা দেখতে পাই। সুতরাং মানব সমাজে শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য 'বিয়ে' প্রথার প্রয়োজন আছে এটা মিথ বৈ অন্য কিছুই নয়। বরং চরম নির্মম সত্যি হলো- নারীর অধিকার, স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের পরিপন্থী হলো 'বিয়ে' নামক প্রথাটি।

'বিয়ে' হলো একটি চুক্তি। একজন পুরুষের সাথে একজন নারীর চুক্তি। একটি অসম ও সম্পূর্ণ একপেশে চুক্তি। বিয়ের পরিকল্পনা এসেছে পুরুষের মাথা থেকে এবং তার চুক্তিও তৈরি করেছে পুরুষ। স্বভাবতই চুক্তিটি পুরুষের স্বার্থ রক্ষাকারী। যেকোনো চুক্তিই সর্বদা পরিবর্তনশীল, বিয়ের চুক্তিরও তাই বারবার সংশোধন ও পরিবর্তন হয়েছে। আদিমযুগ থেকে মধ্যযুগ, মধ্যযুগ থেকে আজকের আধুনিক যুগেও এর প্রতিটি সংশোধন ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে পুরুষের অনুকূলে তাদের স্বার্থ পূরণের জন্য।

বিবাহিত যুগলের মাঝে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার নাম দেয়া হয়েছে স্বামী-স্ত্রী বা পতি-পত্নী। স্বামী মানে প্রভু, অতএব স্ত্রী তার ভৃত্য। আবার পতি মানে হলো প্রভু, কর্তা, অধিশ্বর ইত্যাদি, অতএব পত্নী হলো একজন নারী যিনি পতির ভৃত্য বা দাস। মাতৃতান্ত্রিক সমাজের অন্তিমকালে বিয়ে প্রথার উদ্ভব হলেও সে সময় চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে পুরুষের অনুকূলে একপেশে ছিলো না। মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে যেমনিভাবে পুরুষ কব্জা করে নিয়েছে তেমনিভাবে বিয়ের চুক্তিটিও পুরুষের অনুকূলে একটু একটু করে ঝুঁকতে ঝুঁকতে এক সময় পুরোটাই ঝুঁকে গেছে। চুক্তিটি যত বেশী পুরুষের পক্ষে ঝুঁকেছে বিয়ের কুফল ও নারীর যন্ত্রণাও ততো বেশী বৃদ্ধি লাভ করেছে, সামাজিক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলাও ততো বেড়েছে।

(চলবে) (দ্বিতীয় পর্ব এখানে)


  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নীল জোনাকি

নীল জোনাকি নামে যিনি লিখেন, তিনি একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং লেখক।

ফেসবুকে আমরা