জাগো গো ভগিনী

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৭, ২০১৯ ১২:১০ PM | বিভাগ : আলোচিত


নারী তোমার মুক্তির মশাল তোমার মুঠোবন্দী রাখো। নিজেকে মুক্ত করতে না পারলে কেউ নিবে না তোমার মুক্তির দায়ভার।

নারী তুমি নিজেকে সম্মান করতে শেখো। আর না পারলে আশা করো না সেটা অন্যের কাছে। তুমি যা নিজেকে দিতে পারছো না তা অন্যরা কেনো পারবে? নিজেকে শুধু যোনি আর স্তনের বাহক ভেবো না। একটা মস্তিষ্ক আছে তোমারও ভুলে যেও না। সেটাকে সচল রাখো।

জানি এ সমাজ নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতায় ভরপুর কিন্তু তুমি কতবার নিজের মগজ ব্যবহার করেছো এই বেড়াজাল গুলো ভাঙতে? যেটা জোরপূর্বক চাপানো হয় তোমার উপরে জোর গলায় তার প্রতিবাদ করতে?

এটা সত্য ছোট থেকেই আমাদের মস্তিষ্কে এমন কিছু ঢোকানো হয় যা ভুল ঠিকের সংজ্ঞা ই বদলে দেয়। কিন্তু তুমি শিক্ষিত হয়েও যদি সেই ভুল ঠিকের পার্থক্য না বোঝ তবে তোমার শিক্ষা বাক্সবন্দী করে যাদুঘরে পাঠাও।

তোমরা আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছো ঠিক আছে কিন্তু এই অর্থ ব্যয়ের উৎস যেনো শুধু ব্র্যান্ডের জুতা ব্যাগ মেকআপ নিজের অধিকারে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। তোমার পরিবার সমাজ দেশের ও অধিকার আছে তোমার অর্জিত অর্থে।

নিজের বাবা-মায়ের দায়িত্ব তোমার ভাইদের উপরে চাপিয়ে দায়ভার লাঘব করো না।

নিজের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নাও। তুমি হও নিজের নিয়ন্ত্রক, নয় কারো ইচ্ছের পুতুল। বুঝিয়ে দাও তোমার মনের একমাত্র মালিক তুমি। এর ব্যবহারবিধি শুধু তোমার হাতে। অন্যের হাতে নেই।

আর এই যে সতীত্ব নামক এক ভুভুজেলা বাজিয়ে সমাজ যে তোমার কানের বারোটা বাজাচ্ছে এটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দাও। তুমি কাকে কি দিচ্ছ সেটা একান্ত তোমার। কিছু বিষয়ে নিজের দায় নিজের উপরে নিতে শেখো।

প্রেমিকের সাথে বিছানায় গেছো তারপর ব্রেকআপ হলে নিজেকে নিঃস্ব ভেবে প্রেমিকের উপরে সেই দায় চাপাও। পাপ পুণ্যের গ্যাড়াকলে তখন জেরবার। যদি এতোই পাপ পুণ্য নিয়ে ভাবো তখন কোথায় ছিলো সেই বোধ? আর তার সাথে বিয়ে হলেই তোমার সেই পাপ, পুণ্য হয়ে যেতো? আসলে পাপ পুণ্য এতকিছু জানি না। বলতে চাই তুমি কি করছো সেটা তোমার নিয়ন্ত্রণে থাকুক। চাইলেই কেউ তোমার থেকে সব নিতে পরে না। ততটুকুই নিতে পারে যতটুকু তুমি দিবে।

জানি সমাজে হাজারটা সমস্যা। প্রতিপদে পদে শুধু নারী বলে হতে হয় বৈষম্যের শিকার। দরকার নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর। কিন্তু সবার আগে দরকার নারীদের আত্মজাগরণ। আমি নিজে জাগতে না চাইলে কেউ পারবে না জাগাতে।

আবহমানকাল ধরে চলে আসা যেসব সিস্টেম নারীদের দমিয়ে রেখেছে। এখন সময় সেসব সিস্টেম ভাঙ্গার। আর এজন্য এগিয়ে আসতে হবে নারীদেরই। নারী তুমি না জাগলে বছর বছর শুধু নারী দিবস ই আসবে। আসবে না পরিবর্তন। স্বপ্ন দেখি সেই দিনের যেদিন নারী দিবস উদযাপন করে বুঝিয়ে দিতে হবে না আমরা সুবিধাবঞ্চিত আমরা নিপীড়িত। দিবস করে বোঝাতে হবে না সম্মান আমাদের ও প্রাপ্য।

আবার ও বলছি নারী তুমি হও স্বমহিমায় উজ্জ্বল আর তোমার আলোয় উদ্ভাসিত হোক চারপাশ। মুক্ত করো মন। তোমার ডানার হোক সদ্ব্যব্যবহার, পুরো আকাশ জুড়ে হোক তোমার অবাধ বিচরণ!


  • ৬২৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

বর্ণী এবিদ

ডিজাইনার

ফেসবুকে আমরা