ভোট ডাকাতির আফটার ইফেক্ট : নোয়াখালীতে গৃহবধুকে ধর্ষণ

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১, ২০১৯ ১০:১৫ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


গতকাল নোয়াখালীতে চার বাচ্চার এক মা'কে আওয়ামীলীগে ভোট না দেয়ায় ১০-১২ জন আওয়ামীলীগ ক্যাডার রাতভর গণধষর্ণ করে সকালে পুকুর পাড়ে ফেলে রেখে যায়। খবর মানবজমিন এবং ডেইলী স্টার-এর। চলেন এই ধষর্ণের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বছর এবং বিজয় উৎযাপন শুরু করি।

প্রত্যেকটি ক্রিয়ার একটা আফটার ইফেক্ট থাকে। একটা ছোট ভূমিকম্প হওয়ার পরে একটা বড় ভূমিকম্প হয়। একটা ভূমিকম্প হওয়ার পর একটা সুনামী হয়। না আমি কোনো আশার আলোর কথা বলছি না। শুধু একটা আফটার নির্বাচন ইফেক্ট এজাম্পশন শেয়ার করতে চাচ্ছি ।

৩০ ডিসেম্বর আওয়ামিলীগ ঠিক কাদের উপর ভর করে নিবার্চন ডাকাতিটা সম্পন্ন করলো? ছোট বড় অসংখ্য ব্যক্তিগত ঘটনা যেইগুলা ফেবুতে শেয়ার করা হয়েছে সেইখান থেকে আমরা দেখতে পেরেছি যে প্রত্যেকটা ভোট কেন্দ্রে একদল আওয়ামীলীগের ট্যাগমারা লোক ভোট কেন্দ্রের সামনে জোট বদ্ধ অবস্থায় ছিলো এবং বুথের ভিতরে এদের প্রতিনিধি ছিলো। যারা গোপন ভোটের জায়গায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করেছে ভোটটা যেন নৌকায় পরে, ভোটারদের ধাওয়া দিয়েছে, ব্যালট বাক্স আগেই ভরে ফেলেছে জাল ভোট দিয়ে, জাল ভোটার সংগ্রহ করেছে, জাল ভোট দেয়া নিশ্চিত করেছে, লোকজনকে ভয় দেখিয়েছে, ত্রাস সৃষ্টি করেছে, মেরেছে।

এই যে এতগুলা অন্যায় এবং বেআইনী কাজ করলো, রিস্ক নিলো সেইটা কিশের আসায়? আপনার কি মনে হয় বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি তাদের বিশাল ভালোবাসা উপচে পড়ছে এই জন্য? ইউ থিংক সো? আমার এক বন্ধু আছে রাসেল, বঙ্গবন্ধু যার অস্তিত্বের অংশ। শেখ মুজিবের প্রতি ওর তীব্র ভালোবাসা আমি দেখেছি। ৩২ নাম্বার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোমবাতি নিয়ে কষ্টে নীল হয়ে যাওয়া ওর মুখ আমি দেখেছি। এই রাসেলকেই যদি খুন করে ফেলার হুমকি দেয়া হয় ও এই কাজগুলা নিজে করবে না। কেনো? কারণ ওর ভেতরে নীতি আছে।

এইবার ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির যে হিরোগুলা আছে তাদের কথায় আসি। আপনার কি মনে হয় না প্রত্যেকটা এলাকায় নৌকাপন্থী যে এমপি হলেন তারা মোটামুটি এই সব গুন্ডাগুলার কেনা হয়ে গেলেন? কারণ হিসাবতো সহজ- তোমারে আমি জিতায়ে নিয়ে আসছি। আমি না থাকলে তুমি জিততে পারতা না। কাজেই তোমারে এখন চলতে হবে এই গুন্ডাগুলার কথায়। এক সরকারের পক্ষে ভোট ডাকাতি করার সুযোগ করে দিয়ে আঞ্চলিক পর্যায় এই গুন্ডাবাহিনীগুলোকে কি পরিমাণ এমপাওয়ারড করে দেয়া হলো সেইটা কি আমরা বুঝতে পারছি?

৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি করার ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার মধ্যে দিয়ে আওয়ামিলীগ আসলে এইসব আঞ্চলিক গুন্ডাবাহিনীকে যা ইচ্ছা তাই করার ম্যানডেট দিয়ে দিলো। সবেতো একটা গণধষর্ণের খবর ছাপা হলো। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে আমি গুনতে বসবো এক মাসে মোট কয়টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো। রেডি ফর দ্যা ভোট ডাকাতরি আফটার ইফেক্ট সুইট হার্ট। ইউ পিপুল আর রিয়েলী সুইটহার্ট।


  • ২১৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

দিলশানা পারুল

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে পড়াশোনার পাশাপাশি লম্বা সময় ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে যুক্ত ছিলেন দিলশানা পারুল। দশ বছর বামপন্থি রাজনীতির সাথে ‍যুক্ত ছিলেন, তারপর দশ বছর এনজিওতে শিক্ষা গবেষনা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় এডুকেশন সেক্টরে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি অনলাইনে লিখালিখি করেন।

ফেসবুকে আমরা