শামীম আরা নীপা

এক্টিভিস্ট

দ্বৈত মনন: প্রসঙ্গ অভিভাবকত্ব

 

বাচ্চাদেরকে নিয়ে কোনো প্রকার মন্তব্য করার আগে মাথায় রাখা উচিত যে, নিজের পেট থেকে বের না হলেও তারা সন্তানসম এবং তাদের নিয়ে নোংরা মন্তব্য থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আমাদের দেশের মানুষ প্রচণ্ড রকম দ্বৈত মনন ও জীবনযাপনের অধিকারী। ধর্ম বর্ণ শ্রেণি নির্বিশেষে নারীরাই কন্যা সন্তানদের উদ্দেশ্যে বিষোদগার করতেছে। তাদের আচার আচরণ নিয়ে ছেঃ ছেঃ করতেছে। মাতৃসম নারীরাই সন্তানসম কন্যাদের উদ্দেশ্যে বলতেছে, মেয়েরা যেই সাজপোশাক আর ঘষাঘষি করে তাতে ছেলেদের আর কি দোষ? ছেলেদের মাথা ঠিক থাকবে কিভাবে? নিঃসন্দেহে এসব জননীকূল ছেলেদেরকে অপরের প্রতি সম্মানের বিষয়টা শিখান নাই, সংযমবোধ সম্পর্কে কোনো শিক্ষা দেন নাই, এ সমস্ত জননীরাই তাদের ছেলেমেয়েদের শিখায় কন্যা/নারী মাত্রই ভোগের বিষয়।

আমি আমার বাচ্চাকে যখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে দেই তখন আমার মাথায় লেখাপড়া, পরিবেশসহ কো- এজুকেশন এবং মিশ্র কালচারের বিষয়টাও ছিলো। আমি জানতাম স্কুল আমার পারিবারিক প্রথা নিয়ম রীতিনীতি অনুযায়ী চলবেনা। সবকিছু জেনে বুঝেই বাচ্চাকে স্কুলে দিয়েছি আর যা কিছু সুন্দর ও ন্যায্য তার তালিম দিয়ে যাচ্ছি। বাচ্চারা অনেক ভুল করে কিন্তু তারমানে এই না যে তাদেরকে অসংবেদনশীল এবং নোংরা কথা ও আচরণ দিয়ে ঘায়েল/অপমান করতে হবে, বাচ্চারা না বুঝেই সীমা অতিক্রম করে, কৈশোরে তাদের হরমোন তাদেরকে স্থির হতে দেয় না, সেইখানে মা বাবা'র সাহায্য, প্রপার গাইডেন্স আর কাউন্সিলিং প্রয়োজন, পজিটিভ মোটিভেশান প্রয়োজন কিন্তু না আমরা তো আছি শুধু চাপায় দেয়ার ধান্দায়- মেয়েরা আপনাদের ছেলেদের মাথা নষ্ট করে দিচ্ছে, চরিত্র হরণ করতেছে, ইংলিশ মিডিয়ামের পশ্চিমা কালচার আপনাদের ছেলে মেয়েদেরকে উচ্ছন্নে নিয়ে যাচ্ছে, তাহলে কেনো আপনারা বাচ্চাদেরকে কো- এজুকেশানে দিচ্ছেন? কেনো বাচ্চাদেরকে ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন? কেনো বাচ্চাকে আত্মনিয়ন্ত্রণ করার বিষয়, সম্মান দেয়ার বিষয় আর দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে তালিম দিচ্ছেন না কিংবা মোটিভেট করতে পারছেন না? বাচ্চাকে কো-এজুকেশানে দিয়ে মা বাবারা বলে- ছেলে ছেলে/মেয়ে মেয়ে মিশবা, ছেলে মেয়ে মিশবা না, কতবড় দ্বৈত চরিত্র আর ভণ্ডামোর শিক্ষা আপনি একজন শিশুকে দিচ্ছেন কখনো ভেবে দেখছেন? সাথে শিখাচ্ছেন কিভাবে অপরকে অসম্মান করতে হয়।

বাচ্চাদের পোশাক নিয়ে নোংরা মন্তব্য কেনো করেন? যে যার নিজ পছন্দ, পরিবার ও পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক পরে অপরের পোশাকের দায়িত্ব আপনাকে তো কেউ নিতে বলে নাই। বাচ্চাদের পোশাক বিষয়ে মাথা ব্যথার জন্য তাদের মা বাবা আছে তো। মিশ্র সংস্কৃতির চর্চার জায়গাতেই তো আপনি গেছেন জেনে শুনে কিন্তু আপনাদের আচরণে নিশ্চিত বুঝা যায়- আপনারা বুঝে যান নাই এইসব প্রতিষ্ঠানে। এই যে জেনে শুনে না বুঝে চলে গেছেন জাতে উঠতে সেইখানেই আপনাদের ভণ্ডামো আর দ্বৈত মননের পরিচয় মিলে, যার জন্য আপনাদের কেবল মনে হতে থাকে ছোট ছোট মেয়েগুলো রাক্ষসের মতো আপনাদের ছেলেগুলোর মাথা চিবিয়ে খাবে। কি অসুস্থ চিন্তা করেন আপনারা? কতটা অশ্লীল আপনাদের নিজেদের মনন!

আপনারা নারী পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বাস করেন যে মেয়ে ছেলেতে/নারী পুরুষে কেবল যৌন সম্পর্কই হয় এবং বাচ্চাদেরকেও তাই শিখাচ্ছেন। বাচ্চাদেরকে সম্পর্কের সুস্থতা না শিখিয়ে বিকৃতি শিখাচ্ছেন মা বাবা নিজেরাই!

অনেক মানুষকে দেখি বাংলাদেশ থেকে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে বিদেশে যায়, তারপর বাচ্চাকাচ্চা বড় হইলে হাহুতাশ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যায় যে, বাচ্চারা সব বিদেশি কালচারের প্ররোচনায় উচ্ছন্নে চলে গেছে! আপনারা বিদেশ কেনো যান? নিজের দেশে থেকে বাচ্চাদেরকে নিজের মন মতো বড় করতে কে মানা করছে আপনাদেরকে? যাওয়ার আগে আপনাদের মনে থাকে না যে সেই ভিনদেশের ধর্ম, প্রথা, সংস্কৃতি সবকিছু ভিন্ন? উন্নত দেশের সুবিধা ভোগ করতে যান আর তাদের সংস্কৃতিকেই ছেঃ ছেঃ করেন- আপনি কি ভণ্ড না? ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন সংস্কৃতিতে নিয়ে বাচ্চাদেরকে ছেড়ে দেন, তার উপর তাদেরকে সময় দেয়ার পরিবর্তে, তাদেরকে বুঝানোর পরিবর্তে মা বাবা শুধু চাপতে থাকে আর চাপতে থাকে। আপনার ছেলেমেয়েরা বিপরীত লিঙ্গের সাথে মিশবে না, আপনার ধর্ম সংস্কৃতি মতো মানুষ হবে এরকম ভাবনার জায়গায় থেকে আপনার তো উচিত না বাচ্চাকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো কিংবা উন্নত বিশ্বে নিয়ে যাওয়া। কেমন দ্বৈত মনন আপনাদের। সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়া নিয়ে পজিটিভ বুঝটা আপনি যদি না বুঝেন তবে বাচ্চাদের নিয়ে এসব এক্সপেরিমেন্ট কোন বিবেচনায় করেন? বাচ্চাদেরকে বোঝালে ওরা বোঝে ঠিকই কিন্তু আপনার সেই বোঝার আর বোঝানোর সময় নাই, সেই মনন গড়ে উঠে নাই।

বাচ্চাদের বয়োঃসন্ধিকাল তাদের আবেগের বাড়াবাড়ির সময়, তখন তাকে সেক্স এজুকেশান দিতে হয় কিন্তু বেশিরভাগ মা বাবা সেসব ট্যাবুর বেড়াজালে আটকে উপেক্ষা করতে থাকে, রাখ রাখ ঢাক ঢাক অবস্থা চলে। বাচ্চাদেরকে জেনে, না জেনে ভুলের পথে ঠেলে দেন আপনারা। একটু সময় ও ধৈর্য্য নিয়ে বুঝালে, তাদের মনের কাছাকাছি থাকলে, আস্থা ও ভরসার আধার হতে পারলে ওরা ভুলটা কম করে। মা বাবারা কি নিজেদের অতীত ভুলে যায়? আমরা সবাইই তো সেই সময় পার করে আসছি, ভুলভাল আবেগ ও আচরণ আমাদের অজানা না কিন্তু তারপরও আমরা চাই, এইসব কিশোর কিশোরীরা ম্যাচিওরড আচরণ করবে, সব বুঝবে! এক বয়সে বাচ্চারা মনে মনে আকাশে উড়ে, বাঁধা আপত্তি সবকিছু অতিক্রম করে যেতে চায়। সেই সময়টাতে মা বাবার সাহায্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তখন আমরা নিজেদের আচরণ দিয়ে তাদের শত্রু/প্রতিপক্ষ হয়ে যাই! বাচ্চাকে ভর্ৎসনা করলেই কি সে আপনার মনের মতো হয়ে যাবে? যখন তাদের সাহায্য প্রয়োজন তখন আমরা তাদেরকে অপমান করবো, সমালোচনা করবো আর তারা আমাদের অনুগত থেকে আমাদের আকাঙ্খার ধর্ম প্রথা নিয়ম রীতিনীতি সংস্কৃতি জীবনধারা অনুযায়ী সুরসুর করে আমাদের মতো হয়ে যাবে মনে করেন? আমরা অভিভাবকরা বিশ্বাস করি এক রকম আর বাচ্চাদেরকে নিয়ে ভর্তি করাই আরেক রকম জগতে- এ কেমন দ্বৈত চরিত্র আমাদের?

বাচ্চাদের বয়স খারাপ তাই তাদেরকে বিশ্বাস করা যায়না। এই বিষয়ের সাথে আমি একমত হতে পারিনি কখনো। শতভাগ সত্য- বাচ্চারা ভুল করে, বিশ্বাস রক্ষা করতে পারে না সবসময়। তার আগে আমি ভেবে দেখি যে, আমরা বাচ্চাদেরকে বিশ্বাস বা কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেসব বিষয়ে কি সঠিক তালিমটা দিতে পারি? আমি অবাক হয়ে দেখি অভিভাবকগণ কিভাবে নিজের ও অপরের সন্তানকে অবিশ্বাস করে এবং উপুর্যুপরি সন্দেহ করে! অবশ্যই মা বাবাকে সাবধান থাকতে হবে, অনেক বেশি সাবধান হতে হবে তারমানে এই না যে বাচ্চাদেরকে অবিশ্বাস করতে হবে-নিজের সন্তানসহ তার সমবয়সীদের অবিশ্বাস করতেছি, অনাস্থা রাখতেছি তার অনুভব দিতে হবে নিজেদের কথা ও আচরণ দিয়ে। বাচ্চাদেরকে সম্পর্কের প্রতি দায়িত্বশীল করার পরিবর্তে তাদেরকে বিপথে আমরাই ঠেলে দেই। বাচ্চা যখন বুঝে বাবা মা তাদের বিশ্বাস করে না তখন তারা বিশ্বাস রাখার ব্যাপারে আগ্রহীও হয় না, কোনো মূল্য থাকে না তার কাছে এসব বিশ্বাস অবিশ্বাসের হেলদোলের। বাচ্চারাও ভয়ে বড়দের মতোই দ্বৈত চরিত্র গড়ে নেয় ভেতরে বুঝে কিংবা না বুঝে।

বাচ্চারা অপরিণত বয়সে প্রেম করে- এইটা আমাদের চোখে খুব খারাপ কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের প্রতি এই আকর্ষণ কি খুব স্বাভাবিক বিষয় না? ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা খুব প্রেম করে, চুমাচাটি, জড়াজড়ি করে! এসব কথা শুনলে মনে হয় ইংলিশ মিডিয়ামের আগে পরে আর কোথাও কোনো প্রেম, চুমাচাটি, জড়াজড়ির ঘটনা নাই।

ওরে মা বাবারা, অনাদিকাল থেকে এসব প্রেম চুম্মাচাটি জড়াজড়ি সঙ্গম চলে আসতেছে। পাল্টেছে কেবল স্থান, কাল, পাত্র অনুযায়ী প্রকাশ, প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসছে। আগে ছেলে মেয়েতে প্রেম করতো, শুধু চোখের দেখা কিংবা পত্র বিনিময়। তারপর একটু পাশাপাশি হাঁটা অপরিচিতের মতো আর দৃষ্টি বিনিময়। এরপর আসলো ফোন, চোখের দেখা, পত্র বিনিময়ের সাথে যোগ হলো কখনো সখনো চুরি করে ফোনালাপ। পথের ধারে কিংবা সিড়ির গোড়ায় একটু দেখা, একটু আঙুল ছোয়াই তখন ছিলো আরাধ্য এবং সুযোগ পেলে চুমুও খেয়েছে পরস্পর। তারপর হাত ধরে, রিক্সায় ঘুরে বেড়ানো। প্রথম প্রথম লজ্জা পেলেও সুযোগ হয়েছে কিন্তু হাত ধরেনি, চুমু খায়নি, এমন প্রেম তো বিরল। কালের পরিবর্তন, টেকনোলজির উন্নয়নের সাথে সাথে প্রেমিকদের যোগাযোগ ও স্পর্শ বেড়ে গেলো। বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়াম, আরবী মিডিয়াম কিংবা কোনো মিডিয়াম ছাড়াই যুগযুগ ধরে মানুষ প্রেম করতেছে, চুমাচাটি জড়াজড়ি করতেছে এবং এমন কি প্রেমসহ কিংবা প্রেমহীন সঙ্গমও করেতেছে কেউ কেউ। নারী পুরুষের পরস্পরের প্রতি এই আকর্ষণ কি অস্বীকার করা যায়? তাহলে বাচ্চাদের প্রেম নিয়ে এত বাজে ভাষার প্রয়োগ কেন? কেনো আমাদের মন এত দ্বৈত আচরণ করে? কেনো আমরা শুধু দোষ চাপাই? দোষ চাপায়ে, অপবাদ দিয়ে কি সমাস্যার সমাধান হয় নাকি সেইসব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা যায়?

এখনকার বাচ্চাদের শারীরিক মানসিক বিকাশের জন্য কি ব্যবস্থা আছে বলেনতো? খেলাধুলার মাধ্যমে হরমোনাল লোচার হাত থেকে আমাদের রক্ষা মিলতো, অফলাইন সামাজিক যোগাযোগ, কমিউনিটির বন্ধুদের সাথে খেলা আড্ডা হরমোনাল লোচার থেকে রেহাই মিলতো, পরিবারের সাথে সাথে পাড়াতো ভাই বোন খালা মামা চাচা ফুপুদের সংস্পর্শে, নজরদারিতে, আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে আমরা এন্টারটেইনড হইছি, সাবধানে থাকছি এই সবকিছুই আমাদের শারীরিক মানসিক বিকাশে সাহায্য করছে, আমরা বিকারগ্রস্ত হওয়া থেকে বেঁচে গেছি কিন্তু এখনকার বাচ্চাদের এসব কোনো সুযোগ সুবিধা কই? তাদের তো ডিভাইস ছাড়া কিছুই নাই। সেই ডিভাইসে ন্যুডিটি পর্ণোগ্রাফি এডাল্টারি- সব এভেইলেবেল। যার ডিভাইস নাই তার ডিভাইসওয়ালা বন্ধু আছে।

ইংলিশ/ বাংলা/ আরবি মিডিয়াম নির্বিশেষে আজকালকার বাচ্চারা অনেক এগিয়ে, ওদের জন্য রিলেশনশিপ, কিসিং, সেক্সচ্যাট, মাস্টারবেশন, ইন্টারকোর্স, কনডম, ইমার্জেন্সি পিল কোনো ব্যাপারই না আবার একই সাথে বিড়ি সিগারেট গাজা মদ পান করার অদম্য আগ্রহ- বাচ্চাদের হরমোন লোচা করে আর ওরা ব্যাস শরীরের তৃপ্তি খুঁজে পেতে ব্যাস্ত হয়ে যায়, মনের শরীরের মজা আনন্দ আরামই মুখ্য হয়ে উঠে এবং এসবের পার্টনারের অভাব হয় না। এটা ওদের কাছে ফান। প্রেমের সম্পর্ক ছাড়াও শুধু এবং শুধুমাত্র শরীরের সম্পর্কে যেতেও বাধে না ওদের। ওদের শুধু একা একা লাগে, ওদের কিছুই ভালো লাগে না। ওদের মনে হয়, কেউ ওদেরকে বুঝে না, কেউ ওদেরকে সাহায্য করে না, ওদের মনে হয় মা বাবা যা বলে, যা করে সব ভুল, ওরা নিজেদেরকে বঞ্চিত মনে করতে থাকে আর অন্যদেরকে প্রিভিলেজড ভাবতে থাকে, নিজের অবস্থাকে বন্দীদশা মনে করে করে হতাশ হতে থাকে তার উপর যখন মা বাবা শাসন করে তখন মা বাবা হয়ে উঠে পরম শত্রু। প্রচুর কথা লুকায়, প্রচুর মিথ্যা কথা বলে, যা মানা করা হয় তাইই বেশি করে লুকায়ে লুকায়ে, মা বাবাকে অহরহ বোকা বানায়, বিশ্বাস ভাঙতেই থাকে, বেয়াদবি করতেই থাকে- এইসব বাচ্চাদের বেশিরভাগই কোনো সম্পর্কই বুঝে না। ওরা তখন কেবল ফ্যান্টাসিতে চলে যায়। বয়সটাতে বুঝে যে সেক্স করতে হবে কারণ তাদের শরীর মন চায়, তাদের স্যাটিসফেকশন দরকার এবং পার্টনার এভেইলেবল। ওরা সম্পর্ক, মন ও শরীরের সঠিক পাঠটা কোথায় পাবে যদি না আমরা তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করি, গাইড করি। তারমানে কি ছেলেমেয়েদের এইসব প্রেম চুমাচাটি ইন্টারকোর্স মেনে নিতে হবে? না না না। ১৩/ ১৪/ ১৫/ ১৬ বছর বয়সের বাচ্চাদের এসব রিলেশনশিপ স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়ার জন্য কিংবা তাদেরকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য বলছি না বা মেনে নিতে মোটিভেট করছি না, মা বাবাকে- মোদ্দা কথাটা হলো বাচ্চাদেরকে সেক্স এজুকেশন দেয়ার সাথে সাথে তাদেরকে নিজেদের শরীর, সঠিক সময় এবং সম্পর্কের সুস্থতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে তালিম দিতে হবে, পারস্পরিক সম্মানবোধের শিক্ষা দিতে হবে। আপনি আমি যখন অপরাপর বাচ্চাদের নিয়ে অসংবেদনশীল নোংরা মন্তব্য করি তখন আমাদের নিজেদের বাচ্চাগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আপনারা আমরা বাচ্চাদেরকে দোষ দেই- আমার মেয়ে/ছেলেকে ট্র‍্যাপ করছে কিংবা বড়দের বিষয়েও বলি অমুক নর/নারী অমুক নারী/নরকে তার স্বামী/স্ত্রী'র থেকে হরণ করছে! এসব বলে নিজের ঘরের পুত্র/ কন্যা, নারী/পুরুষকেই সবচেয়ে বেশি অপমান অসম্মান করা হয়। আপনার ঘরের মানুষটা এতই অবুঝ, এতই নাদান যে তাকে সহজেই ভুলানো যায়, তারমানে কোনো সুশিক্ষা সুবোধ বিবেক বিবেচনার পাঠ পরিবার থেকে সে/তারা অর্জন করতে পারেনি।

নিজের এবং অপরের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হতে না পারলে, তাদেরকে যথাযোগ্য সময় ও সম্মান দিতে না পারলে, তাদের সাথে আন্তঃযোগাযোগ প্রতিষ্ঠা না করলে, তাদেরকে যথাযথ সেএক্স এজুকেশান দিতে না পারলে, তাদেরকে ধৈর্য্য সম্মান ও বুদ্ধির সাথে সামলাতে না পারলে, তাদের সাথে দ্বৈত চরিত্র ও ভণ্ডামো চরিতার্থ করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমরাই হবো। আমরাই আমাদের বাচ্চাগুলোকে একটা অসুস্থ সমাজে পচে গলে যাওয়ার জন্য এগিয়ে দিচ্ছি।

সত্যি কথা যেইটা, আমরা বেশিরভাগই আমাদের বাচ্চাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি না তাদের বয়োঃসন্ধিকালে। আমরা ভাবি আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে চিনি, জানি, বুঝি কিন্তু এই বয়সের বাচ্চাদের মনের ঠাঁই পাওয়া যায় না এবং তারা আমাদের অজান্তেই আমাদের চেনা জানা বুঝার উর্ধ্বে উঠে যায়। অনেক গভীর একটা গ্যাপ তৈরি হয়। আমার এই গ্যাপটাকে খুব ভয়ংকর মনে হয়। এই গ্যাপের গহ্বরে সম্পর্কের সৌন্দর্য ও সম্মান হারায়ে যায়। সকল শব্দ হারায়ে যায়, সন্তানগুলো হারায়ে যায়!

766 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।