একটি মেয়েশিশুর বেড়ে ওঠা এই সমাজে (প্রথম পর্ব)

রবিবার, মে ২৭, ২০১৮ ২:০৮ AM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


সাল ২০০৪। মেয়েটা শুয়ে আছে একটা টিনের বেঁড়া দেয়া ঘরে, ঘর বলাটা ঠিক হচ্ছে না আসলে ওটা ঘর নয়, চারপাশে টিনের বেঁড়া দিয়ে ঘেরা ঘরটাকে আঞ্চলিক ভাষায় ছাপরা বলে। রাত প্রায় দু’টা কি তিনটা বাজে, মেয়েটার হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, একটা হাত মেয়েটার সারা শরীর ছুঁয়ে যেতে থাকে, সাপের মতো এঁকেবেঁকে যেতে থাকে হাতটা শরীরময়, মেয়েটার গলা শুকিয়ে যায়, সে প্রাণপন চাইছে কখন সকাল হবে! কখন ভোরের আলো ফুটবে আর হাতটা শরীর থেকে সরে যাবে!

এমন ঘটনা প্রায় দশ বারো দিন থেকেই ঘটছে, যে লোকটা রাতে মেয়েটার শরীরে হাত দেয় সেই লোকটা কয়েকদিন আগে অবধি মেয়েটা বাসা থেকে বের হওয়া মাত্র মাথা নতো করে কুর্নিশ করতো কিন্তু আজ! হ্যাঁ লোকটা হচ্ছে মেয়েটার বাসার দারোয়ান, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া মেয়েটা বেশ কয়েকদিন থেকে বাসার নীচে দারোয়ান দম্পতির সাথে থাকছে, মেয়েটার বাবা কয়েকদিন আগে মেয়েটার মায়ের সাথে টাকা পয়সা নিয়ে বিবাদ করে বাসা থেকে চলে গিয়েছে আর ফেরে নি, খবর পাওয়া যায় তার বাবা অফিসের কাছেই কোনো একটা ম্যাসে উঠেছে। আর মেয়েটার মা সে গ্রামে গেছে জমি বিক্রি করে টাকা আনতে আর বাসার দারোয়ানকে বলে গেছে তার মেয়েটাকে দেখে রাখতে যে ক’দিন সে না ফেরে। তবে কয়েকদিনের কথা বলে মা আর ফিরছে না, বাসার সবাই বলাবলি করছে তোর মা আর মনে হয় ফিরবে না, তোর বড়ো ভাই ও তো তোকে রেখে চলে গেলো! তোর বাবাও তো সব জেনে তোকে নিতে আসছে না! তোকে কি কেউ ভালোবাসে না রে!

বাড়িওয়ালার ভাড়ার দরকার সে আর কতোদিন অপেক্ষা করবে! তাই মেয়েটাকে দারোয়ান দম্পতির কাছে রেখে ঘরে নতুন ভাড়াটিয়া তুলেছে। আর দারোয়ানকে বলে দিয়েছে ওর বাপের অফিসে খোঁজ নিয়ে ওকে দিয়ে এসো, বলা পর্যন্তই আর কোনোদিন উপরতলা থেকে নীচে নেমে দেখে নি দারোয়ান একমাস ধরে দিয়ে আসবো দিয়ে আসবো বলে এখনো দিয়ে আসে নি। আর প্রতি মধ্যরাতে মেয়েটার হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় একটা স্পর্শে।

গল্প থেকে সরে আসি ১৪ বছর পর! মেয়েটে এখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে, কিন্তু আজো সে সম্পুর্ন রাত নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে না, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ চমকে উঠে, কখনো বা চিৎকার করে উঠে কখন বা কেঁদে উঠে! 
শব্দ শুনে পাশের ঘর থেকে মা বাবা ছুটে আসে, জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে! প্রায় রাতে এভাবে চিৎকার কেনো করো! মেয়েটা থরথর করে কাঁপে মা ধরতে এলে চিৎকার করে বলে না আমায় কেউ ছুঁবে না! তখন সবাই চলে যায়, মেয়েটা কোনোদিন কাউকে বলে নি তার স্বপ্নে কেঁদে উঠার কারণ তার অসুস্থ শৈশব, মেয়েটা কোনো দিন কাউকে বলে নি সে প্রায় রাতে অনুভব করে তার শরীরে কারো হাত তখনই সে চিৎকার করে উঠে।।

(চলবে)


  • ৩৪৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সৈয়দা সুমাইয়া ইরা

চাকুরীজিবি, নারীবাদী।

ফেসবুকে আমরা