#metoo এবং কিছু প্রশ্ন

সোমবার, নভেম্বর ৫, ২০১৮ ৯:১৪ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


সিমন্তীর প্রতি আমার পূর্ণ সহমর্মিতা আছে। তার প্রতিটি কথাই সত্য ধরে নিচ্ছি। কারণ এটা নতুন নয়। সুপ্রীতি ধরের মাতৃত্ব এবং উনার দায়িত্ববোধ নিয়েও আমার প্রশ্ন নেই।

কিন্তু নারীবাদ বিশ্বাসী বলে উইম্যান চ্যাপ্টার সম্পাদক সুপ্রীতি ধরের কাছে আমার প্রশ্ন আছে। আমার নিজেরও কন্যা আছে। আমি জানি এই ব্যাপারে একজন মায়ের অনুভূতি কী হতে পারে।

কিন্তু #metoo শুধু আমার বা সুপ্রীতি ধরের বিষয় না। #metoo নির্যাতিত মানুষের একান্ত দুঃখের গল্প, যন্ত্রণার গল্প। এতে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আছি। মানব সভ্যতার ক্ষেত্রে এইগুলি শুধু কলঙ্কের চিহ্ন। গল্পগুলিতে আমরা সবাই দোষী হই। কেনো এটা ঘটেছে? কি করলে সেটা বন্ধ করা যেতো? কেনো সে প্রতিবাদ করতে পারে নাই? কেনো এত বছর তাকে চুপ করে থাকতে হয়েছে? কেউ কি ছিলো পাশে? কেনো ছিলো না? কেউ যদি জানে থাকে তাহলে সে কী ব্যবস্থা নিয়েছিলো? এইসব প্রশ্নগুলি জানা জরুরি। না হলে গল্প অসমাপ্ত থেকে যায়। আমরা ভিকটিমকে জাস্টিস দিতে পারি না। আর ভিক্টিম যদি মাইনর বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয় তাহলে তার কাছের লোকের জবাবদিহিতা জরুরি।

বাংলাদেশের পরিবেশ এখনও ভারত এবং পশ্চিমা দেশগুলির মত #metoo এর জন্যেও এতটা উপযুক্ত না। প্রিয়তির ঘটনার পর প্রধান সংবাদ পত্র এবং মিডিয়া চ্যানেলগুলির নীরবতা এটাই প্রমাণ করে বিচার পাওয়া এমনকি অত্যাচারীকে পাবলিক শেমিং করা অনেক দূরের ব্যপার।

এই পরিস্থিতিতে শুধু কিছু নারীবাদীরা #metoo এর ব্যপারে পুরো সমাজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে যে দুই একজন এগিয়ে এসেছে তাদের সহায়তা দিচ্ছে।

সেই কয়েকজন নারীবাদীদেরই একজন হলেন সুপ্রীতি ধর। তার কন্যার যদি এরকম হয় তাহলে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি তার কাছে আমরা একটা পুরো জবাবদিহিতা আশা করতেই পারি। না হলে উনার কাজকে আমরা যারা প্রশংসা করেছি তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। যারা নারীবাদে বিশ্বাস করে নিজের জীবনকে এগিয়ে নিতে চায় তারা আর বিশ্বাস করবে না আমাদের।

এমনিতেই সিমন্তী দেয়া বক্তব্যের পর সুপ্রীতির দেয়া প্রতিক্রিয়া মা হিসেবে আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। আমি সেটার মধ্যে কোনো মা খুঁজে পাই নি। তিনি হয়তো একজন নারীবাদী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, মা ছিলেন না।

যাই হোক ঘটনার সময় যেহেতু সুপ্রীতি ধরের কন্যা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলো, সেই সময়ে উনার ভূমিকা বা অবস্থান সম্পর্কে একটা বক্তব্য চাই #metoo ভিক্টিমদের স্বার্থে।

সেটা হলো তিনি কোথায় ছিলেন সে সময়? এখন কেনো তার কন্যার এটা বলতে হলো? সুপ্রীতি কি আগে জানতেন এই ঘটনা? সুপ্রীতি যদি জেনে থাকেন উনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? এখনই বা কী ব্যবস্থা নেবেন? তিনি কি মেয়ের এই সময়টাতে তার পাশে আছেন? এই সময়টাতে তার কন্যার তাকেই সবচেয়ে বেশি দরকার। আমি ধরে নিচ্ছি ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না। এখন কি আছেন? কেনো তার মেয়ে তাকে বললো না?

গ্রেট পাওয়ার, গ্রেট রেসপনসিবিলিটি। সুপ্রীতি ধর না হলে এবং কন্যা মাইনর না হলে এই সব প্রশ্ন আসতো না ।

আমরা চাই না যে সুপ্রীতি ধরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হোক। নারীবাদ প্রশ্নবিদ্ধ হোক। সমাজ অবিশ্বাস করুক।

কারণ এখনো অনেক কাজ আছে। যেই দেশে ৩৬৫টি শিশু এক মাসে ধর্ষিত হয় তখন প্রত্যেকে আমরা পরিবারের শিশুদের নিরাপত্তা সম্পর্কে কতটুকু সচেতন তা জানা এবং জানানো দরকার। এই বিষয়ে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিস্কার হওয়া জরুরি। এমন কি সুপ্রীতি ধর কতটুকু পরিস্কার সেটা জানা জরুরি।


  • ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফারজানা কবীর

এক্টিভিস্ট

ফেসবুকে আমরা