হাইপেশিয়া: প্রাচীন আলেকজেন্দ্রিয়ার একজন মহান নারী দার্শনিক

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮ ৯:৩৪ PM | বিভাগ : পথিকৃত


ধর্মযুদ্ধের যুগে স্বীকৃত প্যাগানবাদী হাইপেশিয়া ছিলো এমন একজন নারী যে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা এবং দর্শনের চর্চা করতো।

মূল: সারাহ জেইলিন্সকি

অনুবাদ: মেহেদী হাসান 

প্রবন্ধটি স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনে (smithsonian.com) ২০১০ সালের ১৪ মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়।

৪১৫ অথবা ৪১৬ সালের একদিন, মিশরের আলেকজেন্দ্রিয়া শহরের রাস্তায় পিটার দ্যা লেকটরের নেতৃত্বে খ্রীস্টান চরমপন্থীদের একটা দল একজন নারীকে বহনকারী একটি ঘোড়ার গাড়ী ঘিরে ফেলে এবং নারীটিকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে একটি গীর্জায় নিয়ে তুলে, সেখানে তারা তাকে উলঙ্গ করে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার দিকে ছাঁদের টালি নিক্ষেপ করতে থাকে। এরপর তারা তার লাশ ছিন্নভিন্ন করে পুড়িয়ে ফেলে। কে ছিলো এই নারী এবং কি ছিলো তার অপরাধ? হাইপেশিয়া ছিলো প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া শহরের একজন সর্বশেষ মহান চিন্তাবিদ এবং সর্বপ্রথম নারী যে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা এবং দর্শনের উপর অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করতো। যদিও তার নৃশংস হত্যাকান্ডের জন্য তাকে অনেক বেশী স্মরণ করা হয়, তবে নাটকীয়তায় ভরপুর তার জীবনটি হচ্ছে এমন একটি কৌতূহলোদ্দীপক লেন্স যার ভেতর দিয়ে আমরা ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ যুগের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার দুরবস্থার চিত্র দেখতে পাই।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩১ অব্দে আলেক্সেন্ডার দ্যা গ্রেট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আলেকজেন্দ্রিয়া শহরটি বেশ দ্রুত প্রাচীন সমাজের সংস্কৃতি এবং শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। শহরটির প্রাণকেন্দ্রে ছিলো একটি জাদুঘর, যাকে এক ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা চলে, যার সংগ্রহে পাঁচ লক্ষেরও অধিক প্রাচীন গ্রন্থ (Scrolls) আলেকজেন্দ্রিয়া লাইব্রেরীতে সাজানো ছিলো।

আলেকজেন্দ্রিয়া, খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮ সালের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে আরম্ভ করে, যখন জুলিয়াস সিজার রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে শহরটিকে দখল করে নেয় এবং আকস্মিকভাবে লাইব্রেরীটিকে পুড়িয়ে ফেলে। (তখন এটাকে আবার পুনর্গঠন করা হয়।) ৩৬৪ সালের মধ্যে, যখন রোমান সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে এবং আলেকজেন্দ্রিয়া পাশ্চাত্যের অর্ধেক অংশে পরিণত হয়, তখন শহরটি খ্রীস্টান, ইহুদি এবং প্যাগানদের মধ্যকার সংঘর্ষের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠে। পরবর্তী সময়ের গৃহযুদ্ধগুলো লাইব্রেরীটির অধিকাংশ সংগ্রহ ধ্বংস করে ফেলে। ৩৯১ সালে, আর্চবিশপ থিওফিলিস সকল প্যাগান গীর্জাকে ধ্বংস করে ফেলার রোমান সম্রাটের আদেশকে কার্যে পরিণত করলে, জাদুঘরটির সাথে সাথে লাইব্রেরীর অবশিষ্টাংশও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু প্রাচীন গ্রন্থ (Scroll) অবশিষ্ট থাকা সেরাপিস(Serapis) এর গীর্জাকে থিওফিলিস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলে এবং সেই জায়গার উপর গড়ে তোলে অন্য একটি খ্রীস্টীয় গীর্জা।  

জানা গেছে, এই জাদুঘরের সর্বশেষ সদস্য ছিলো গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিদ থিওন- হাইপেশিয়ার বাবা।

সৌভাগ্যবশত, থিওনের কিছু লেখা টিকে যায়। বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউক্লিডের এলিমেন্টস (Euclid’s Elements ) এর উপর তার ভাষ্যটি (Commentary) (টীকাভাষ্য সম্বলিত চিরায়ত গ্রন্থের প্রতিলিপি) ছিলো জ্যামিতির উপর ঐ মূল কাজটির একমাত্র পরিচিত ভার্সন। তবে তার এবং হাইপেশিয়ার পারিবারিক জীবন সমন্ধে খুব কমই জানা যায়। এমনকি হাইপেশিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে -পন্ডিতেরা অনেক দিন ধরে দাবী করে আসছে, সে জন্মগ্রহণ করেছে ৩৭০ সালে, তবে আধুনিক কালের ইতিহাসবিদদের ধারনা তার জন্ম সাল ৩৫০ হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। তার মায়ের পরিচয় এখনও পুরোপুরি রহস্যাবৃত এবং হাইপেশিয়ার সম্ভবত একজন ভাই ছিলো, এপিফানিয়াস, যদিও হাইপেশিয়াই ছিলো থিওনের একমাত্র প্রিয় শিক্ষানবিস।  

থিওন তার কন্যাকে গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা দেয়। এবং সে ও তার কন্যা একসাথে মিলে কিছু ভাষ্য (Commentary) তৈরির কাজও করে। মনে করা হয় যে, টলেমির আলমাজেস্ট (Ptolemy’s Almagest) গ্রন্থের থিওন ভার্সনের তৃতীয় অধ্যায়ের গবেষণা কার্যটি- যা পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের মডেলকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং যেটা কোপার্নিকাস এবং গ্যালেলিও এর সময়কাল পর্যন্ত স্বীকৃত হয়ে এসেছে- প্রকৃতপক্ষে হাইপেশিয়ার কাজ ছিলো।

হাইপেশিয়া নিজেই একজন গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ ছিল এবং নিজে থেকেই ভাষ্য (commentaries) তৈরির কাজ করতো। এবং নিয়মিতভাবে নিজ বাড়িতেই নানা পাঠ্যক্রমের ছাত্রদের পাঠদান করতো। সেই ছাত্রদের মধ্যকার একজন, সাইনেসিয়াসের একটি চিঠি ইঙ্গিত করে যে, পাঠগুলোর মধ্যে ছিলো কিভাবে একটি অ্যাস্ট্রোল্যাবের (এক ধরনের বহনোপযোগী জ্যোতির্বিদ্যক ক্যালকুলেটর যা বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়ে আসছে।) নকশা করতে হয়। 

তার বাবার বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার পরিমন্ডল বাদেও, হাইপেশিয়া এমন একটা চিন্তার দার্শনিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে যা এখন নিওপ্ল্যাটোনিক স্কুল (Neoplatonic school) হিসেবে পরিচিত। চিন্তাটি হলো -যাবতীয় কিছু শুধুমাত্র একটি জায়গা থেকে প্রবাহিত হয়। (পরবর্তীতে, তার ছাত্র সাইনেসিয়াস খ্রীষ্টিয় গীর্জার বিশপ পদে অধিষ্ঠিত হয় এবং নিওপ্ল্যাটোনিক চিন্তাকে ট্রিনিটি (Trinity) মতবাদে রূপান্তরিত করে।) জনসম্মুখে দেওয়া হাইপেশিয়ার ভাষণগুলো ছিলো বহুল জনপ্রিয় এবং তা অনেক মানুষের সমাগম ঘটাতো। দার্শনিক ডামাস্কিয়াস হাইপেশিয়ার মৃত্যুর পরে লেখেন, “হাইপেশিয়া পণ্ডিতের আলখাল্লা গায়ে চাপিয়ে শহরের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়াতো এবং যারা প্লেটো, এরিস্টটলের ব্যাপারে শুনতে চায় তাদেরকে ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে বলতো।” 

সম্ভবত প্লেটোর পরিবার ব্যবস্থা বিলোপের ধারণাকে লালন করার ফলে, হাইপেশিয়া কখনও বিয়ে করে নি এবং কুমারী জীবন-যাপনেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতো। দ্যা সুডা লেক্সিকন, দশম শতাব্দীয় ভূমধ্যসাগরীয় সভ্যতার উপর এনসাইক্লোপেডিয়া, তাকে বর্ণনা করে, “দৈহিক অবয়বে অসাধারণ সুন্দর ও সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার বক্তব্য বাগ্মীতায় পূর্ণ ও যৌক্তিক, তার কার্যক্রম দূরদর্শিতার পরিচায়ক ও জনসাধারণের মঙ্গলসাধনকারী এবং শহরের সকলে তাকে উষ্ণ অভিবাদন জানাত ও বিশেষ শ্রদ্ধায় ভূষিত করতো”।

তার অনুরাগীদের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর অরেস্টেসও একজন ছিলো। গভর্নরের সাথে সম্পৃক্ততাই পরিণামে তার ভয়াবহ মৃত্যু ডেকে আনে।

আলেকজান্দ্রিয়ার বিশাল লাইব্রেরীটির ধ্বংসকারী আর্চবিশপ থিওফিলিসের মৃত্যু পরবর্তীতে স্থলাভিষিক্ত হয় তার ভাতুষ্পুত্র ক্রিল, যে তার চাচার অন্যান্য বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শত্রুতাকে চালিয়ে নিয়ে যায়। (তার অন্যতম প্রধান কাজ ছিলেঅ নোভাটিয়ান খ্রীস্টান সম্প্রদায় (the Novatian Christian sect) এর গীর্জাগুলোকে বন্ধ করে দেয়া এবং লুন্ঠন করা।)

আলেকজেন্দ্রিয়া শহরের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে, শহরের মূল ধর্মীয় অংশের নেতৃত্বে থাকা ক্রীল এবং জনসরকারে (civil government) দায়িত্বপ্রাপ্ত গভর্নর অরেস্টেসের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। যদিও অরেস্টেস ছিলেঅ একজন খ্রীস্টান, তবে সে গীর্জার নিকট ক্ষমতা অর্পণের পক্ষপাতী ছিলো না। ইহুদী চরমপন্থী কর্তৃক একদল খ্রীস্টানকে হত্যা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রিলের নেতৃত্বে উন্মত্ত জনতার একটি দল সমস্ত ইহুদীকে শহর থেকে বের করে দেয় এবং তাদের বসতবাটি এবং গীর্জা লুন্ঠন করে -এর ফলে ক্ষমতার লড়াই সর্বোচ্চ আকার ধারণ করে। অরেস্টেস কনস্টান্টিনোপলে রোমান সরকারের কাছে এর প্রতিবাদ জানায়। অরেস্টেস, ক্রিলের আপোষ-মীমাংসার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করলে ক্রিলের অনুসারীরা তাকে হত্যার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। 

যাহোক, হাইপেশিয়া আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেশ সহজ ছিলো। সে ছিলো একজন প্যাগান যে অখ্রীস্টীয় দর্শন ও নিওপ্লাটোনিজম সমন্ধে জনসম্মুখে কথা বলতো এবং সে অরেস্টেসের মতো সৈন্যবাহিনী দ্বারা সুরক্ষিত অবস্থায়ও থাকতো না। এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, অরেস্টেস এবং ক্রিলের মধ্যকার মতদ্বৈধতাকে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে হাইপেশিয়া বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর থেকেই পিটার দ্যা লেকটরের নেতৃত্বে একদল চরমপন্থী তাদের কাজে নেমে পড়ে এবং হাইপেশিয়াকে বরণ করতে হয় ভয়াবহ পরিণতি।

ইতোমধ্যে হাইপেশিয়া নারীবাদীদের পথিকৃৎ, প্যাগান এবং নাস্তিকদের কাছে একজন শহীদ এবং গল্প-উপন্যাসে একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে। গীর্জা এবং ধর্মকে দোষারোপ করতে গিয়ে ভলতেয়ার হাইপেশিয়ার নামোল্লেখ করতো। ইংরেজ যাজক চার্লস কিংসলে তাকে মধ্য ভিক্টোরিয়ান রোমান্সের (mid-Victorian romance) মূল বিষয়বস্তুতে পরিণত করে তোলে। সে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে স্থান লাভ করেছে রাচেল অয়েইসজ পরিচালিত স্প্যানিশ চলচ্চিত্র আগোরা (Agora) তে যা ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রদর্শনের জন্য মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটিতে হাইপেশিয়ার একটি কাল্পনিক কাহিনী (the fictional story of Hypatia) উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেখানো হয় যে, খ্রীস্টান মৌলবাদীদের হাত থেকে সে লাইব্রেরীটিকে রক্ষা করার চেষ্টা চালায়।

হাইপেশিয়ার মৃত্যুর সাথে সাথে আলেকজেন্দ্রিয়াতে প্যাগানবাদ ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কোনটিরই সমাপ্তি ঘটে নি, তবে তা ছিলো নিশ্চিতভাবেই একটা বিশাল আঘাত। “প্রায় একাকী, কার্যত সেই যুগের সর্বশেষ পন্ডিত ব্যক্তি, হাইপেশিয়া তার জীবন বাজী রেখেছিলো মননশীলতা, কঠোর গণিত, আত্মনিরোধী নিওপ্লাটোনিজমের চর্চা এবং সমাজে মানব চিন্তার ভূমিকা, নাগরিক জীবনে সহনশীলতা এবং সভ্যতার বাণীকে রক্ষা করার জন্য,” ডিকেইন লিখে। সে সম্ভবত ধর্মীয় উচ্চণ্ডতার শিকার হয়েছিলো, তবে এমনকি আধুনিক যুগেও হাইপেশিয়া অনুপ্রেরণার একটি উৎস হিসেবে টিকে আছে।

................................

স্ক্রল(Scroll)- লেখার জন্য কাগজ বা চামড়ার ফালি; ঐরূপ কাগজে লেখা প্রাচীন গ্রন্থ।

সেরাপিস(Serapis)- সেরাপিস হচ্ছে মিশরীয় গ্রীকদের ঈশ্বর। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় অব্দে মিশরের টলেমি(প্রথম) এর নির্দেশে মিশরীয় এবং গ্রীকদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশে সেরাপিসকে কল্পনা করা হয়।

ইউক্লিডের এলিমেন্টস (Euclid’s Elements)- খ্রীস্ট পূর্ব ৩০০ অব্দে আলেকজেন্দ্রিয়ার গ্রীক গণিতবিদ ইউক্লিড কর্তৃক লিখিত তেরটি অধ্যায় সম্বলিত গাণিতিক এবং জ্যামিতিক গবেষণামূলক গ্রন্থ।

টলেমির আলমাজেস্ট (Ptolemy’s Almagest)- দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমান যুগের মিশরীয় পন্ডিত ক্লডিয়াস টলেমি কর্তৃক নক্ষত্র এবং গ্রহের সুস্পষ্ট গতিপথের উপর লিখিত গাণিতিক এবং জ্যোতির্বিদ্যক গবেষণা গ্রন্থ।

ট্রিনিটি(Trinity) -এই মতবাদ ঈশ্বরকে একই উপাদানে গঠিত তিনটি ব্যক্তি, অভিব্যাক্তি বা ধারনার সমাহার হিসেবে দেখায়। পিতা, পুত্র(যিশু খ্রীস্ট) এবং পবিত্র আত্মা। তিন ব্যক্তির মিলিত রূপ একজন ঈশ্বর।  

নোভাটিয়ান খ্রীস্টান সম্প্রদায় (the Novatian Christian sect) -ধর্মতাত্ত্বিক এবং লেখক এন্টিপোপে নোভাটিয়ান এর অনুসারী প্রথম দিককার খ্রীস্টান সম্প্রদায়।


  • ৩০৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

মেহেদী হাসান

জন্ম ১৯৮৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের মাছিমপুরে নানার কর্মস্থলে । বেড়ে উঠেছেন টাঙ্গাইলের ক্ষেত খামারে ছাওয়া সভ্যতার আলোহীন এক নিভৃত গ্রামে। স্থানীয় স্কুল কলেজে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে প্রাতিষ্ঠানিক লেখা-পড়ার পাট চুকিয়েছেন। শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তার বিরামহীন ভালোবাসার কারনে স্থান হয়েছে সমাজের নির্জনতম কোনে- সেখানেই বসবাস। সমাজ-রাষ্ট্রের শ্যাওলা ধরা প্রথা-প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে নিঃসঙ্গ ঝাঁক চ্যুত মাছের মতই সাহিত্যের জলে সাতার কাটতে ভালোবাসেন । তিনি মূলত একজন পাঠক- নিজেকে অবিরাম পাঠ করতে চাওয়ার তাড়না থেকেই লেখা-লেখির জগতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রবেশ। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য আকারে নিজেকে, নিজের স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন, চিন্তা, অনুভূতি, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া, চারপাশের পরিবেশ যেভাবে মনের আয়নায় প্রতিফলিত হয়- প্রকাশ করে চলেছেন এখন পর্যন্ত। গল্প গ্রন্থ “অসময়ের গল্প”- বই আকারে নিজেকে প্রথমবারের মত প্রকাশ। স্বপ্ন দেখেন- এই সময়ের আলোতে তার স্বপ্নেরা পঙ্গু, বিবর্ণ -গন্ধ, আকার, পুষ্টিহীন- অন্ধ, বোবা, কানে শোনে না। ওরা মাঝে মাঝে প্রচন্ড জেদী-একগুয়েমী আচরণ করে, তাকে ও তার পরিজনকে বিড়ম্বনায় ফেলে দেয়। স্বপ্নগুলো নানা ধরনের ঘাতক রোগ ব্যধিতে প্রতিনিয়ত হয় আক্রান্ত। যদিও মাঝে মাঝে তারা উলম্ফ-উদ্বাহু নৃত্য জুড়ে দেয়, দিক্বিদিক ছুটে বেড়ায় উন্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নীচে, পাখি হয়ে শূন্যে ডানা মেলে উড়ে । এখনো কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বপ্নকে লালন করার পাশাপাশি তার অসুস্থ স্বপ্নগুলোকে ঔষধ-পথ্য দেয়। তার মুমূর্ষু স্বপ্নেরা গড়িয়ে-গড়িয়ে, হাতড়ে-হাতড়ে, ডানা ঝাপটিয়ে এখনও অসময়কে পিছনে ফেলে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে । ইদানিং সময়ে বিশ্বসাহিত্য অনুবাদের কাজও করে চলেছেন ।

ফেসবুকে আমরা