ফরিদ আহমেদ

লেখক, অনুবাদক, দেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। দীর্ঘ সময় মুক্তমনা ব্লগের মডারেশনের সাথে জড়িত ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের অনুবাদ করেছেন। বর্তমানে ক্যানাডা রেভেন্যু এজেন্সিতে কর্মরত অবস্থায় আছেন। টরন্টোতে বসবাস করেন।

“ঈশ্বর কোন চ্যাটের বাল?”

অনেক দিন ধরেই ঈশ্বরের উপর রাগ আদমের। কিন্তু, ভয়ে কোনো দিন মুখ খোলে নাই সে। মুখ খোলার পরিণতি কী হতে পারে সেটা সে খুব ভালো করেই জানে। আজ পেটে বাংলা মদ একটু বেশি পড়ে যাওয়ায় হুশটা কমে গিয়েছিলো তার। বেহুশ অবস্থাতেই বেফাঁসে সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ফেললো।

"সবচেয়ে বড় স্বৈরাচার হচ্ছে ঈশ্বর।"

স্ট্যাটাস দিয়েই মদের ঘোরে ঘুমিয়ে পড়ে আদম। তার স্ট্যাটাস যে স্বর্গ-মর্ত্য জুড়ে ভূমিকম্প তৈরি করে ফেলেছে, সেটা পশ্চাতদেশে পেয়াদার লাঠির বাড়ি খাবার আগ পর্যন্ত সে বুঝতেই পারে নি।

আদমের স্ট্যাটাস প্রকাশ হবার সাথে সাথেই ইবলিশ আর তার সাঙ্গাৎরা ঝাঁপিয়ে পড়লো এর উপরে। বিপুল উদ্যমে এতে লাইক দিয়ে আর শেয়ার করে ভাইরাল করে ফেললো তারা। ঈশ্বরকে পঁচানোর এই সুযোগ তারা ছাড়ে নাকি?

পশ্চাৎদেশে পেয়াদার বাড়ি খেয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসে আদম। কড়া গলায় পেয়াদাকে গাল দিতে যাচ্ছিলো সে। হাত উঁচু করে ৫৭ লেখা কার্ড দেখিয়ে দেয় পেয়াদা তাকে। সাতান্ন দেখে ভয়ে আবার শুয়ে পড়তে যাচ্ছিলো আদম। পেয়াদা তাকে লাঠির বাড়ি দিতে দিতে ঈশ্বরের দরবারে নিয়ে যায়।

"তুমি নাকি ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছো আদম?" চোখ লাল করে খেঁকিয়ে ওঠেন ঈশ্বর। "এতো বড় স্পর্ধা তোমার! আমাকে স্বৈরাচার ডাকো! আর তা শুনে ইবলিশ আমার সামনে খিকখিক করে হাসে। গা জ্বলে যায় আমার রাগে।"

কুঁইকুঁই করে নিজের কৃতকর্মকে অস্বীকার করার চেষ্টা করে আদম। কাজ হয় না কোনো। ঈশ্বর তাকে স্মার্টফোনে স্ক্রিনশট দেখিয়ে দেন।

"এই কে আছো, একে যন্তর-মন্তর ঘরে নিয়ে যাও।" কঠিন কণ্ঠে ঈশ্বর আদেশ দেন। ঈশ্বর আজ ভালো মতো ক্ষেপেছেন।

যন্তর-মন্তর ঘরে নিয়ে আদমকে আচ্ছামতো ডলা দিয়ে দেয় আজরাইল। আজরাইলের হাতে ডলা খেয়ে সব প্রতিরোধ পানি হয় যায় আদমের। কেঁদে কেটে স্ট্যাটাস মুছে দিতে চায় সে। ঈশ্বরের কাছে বার্তা পাঠায় সে।

"না, স্ট্যাটাস মুছতে হবে না। আমি স্বৈরাচার নই, গণতন্ত্র এবং বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একজন। মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ আমি করি না। সামান্য একটু এডিট করে দিলেই হবে।"

ঈশ্বরের কথা শুনে স্ট্যাটাস এডিট করে দেয় আদম। ঈশ্বর কেটে সেখানে ইবলিশ করে দেয় সে। নতুন স্ট্যাটাস দাঁড়ায় এমন:

"সবচেয়ে বড় স্বৈরাচার হচ্ছে ইবলিশ।"

স্ট্যাটাস এডিট করা হতেই আদমের পশ্চাৎদেশে কষে দু’টো লাথি বসিয়ে দিয়ে তাকে মুক্ত করে দেয় আজরাইল। চোখের পানি মুছতে মুছতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাড়িতে ফিরে যায় আদম।

বাড়িতে ফিরেও শান্তি পায় না সে। হাওয়ার কাছে সব খবর চলে গেছে হাওয়ায় ভেসে। আদম সারাদিন ফেসবুকে থাকে, এটা নিয়ে সারাক্ষণই অশান্তি করে হাওয়া। তার ধারণা ম্যাসেঞ্জারে তরুণী মেয়েদের সাথে প্রেম করে বেড়ায় আদম।

আদম ফিরে আসতেই তাকে দু'ঘা লাগিয়ে দেয় হাওয়া। হাওয়ার মারে অবশ্য আদম বিচলিত হয় না। এমন দু'চার ঘা প্রতি দিনই সে খায়। নতুন কিছু না এটা তার জন্য।

মূল সমস্যা হয় অন্য জায়গায়। আদমের এডিট ইবলিশ আর তার ইঁচড়ে পাকা সাঙ্গোপাঙ্গদের চোখে পড়েছে। তারা লাইক শেয়ার দিয়েছিলো ঈশ্বরকে আদম স্বৈরাচার বলেছিলো বলে। আদম যে এমন ডিগবাজি দেবে সেটা তাদের ধারণারই বাইরে ছিলো।

আদমের বাড়ির সামনে এসে তারা প্রতিবাদ করতে থাকে তারা। কড়া গলায় ইবলিশ শয়তান শ্লোগান ধরে।

'স্বর্গরাজ্যের এমন হাল'

তার সাঙাৎরা গলার রগ ফুলিয়ে উত্তর দেয়

'ঈশ্বর কোন চ্যাটের বাল?'

পরের শ্লোগানে যায় শয়তান ইবলিশ,

'আদমের চামড়া'

চ্যালারা চেঁচিয়ে বলে,

তুলে নেবো আমরা।

অতি উৎসাহী কয়েকজন আদমের জানালা লক্ষ্য করে জুতা আর ঢিল ছুড়তে থাকে।

'জানালাটা বন্ধ করে দাও প্লিজ।' আদম অনুরোধ জানায় হাওয়াকে।

'ক্যান, অকাম করার সময় মনে ছিলো না তোমার? এখন ডরে পুতু পুতু করছো।' চোখ গরম করে হাওয়া বলে।

'অকাম করি নাই কোনো। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। সব গুজব, ঈশ্বর আর শয়তানের ছড়ানো গুজব। বিশ্বাস করো, আমি কিছু করি নাই।' আর্ত কণ্ঠে আদম বলে।

আস্ত একটা থান ইট এসে পড়ে ঘরের ভিতরে। অল্পের জন্য তা আদমের মাথায় পড়ে না। ভীত এবং করুণ চোখে হাওয়ার দিকে তাকায় সে। সেটা দেখেই হয়তো মায়া হয় হাওয়ার। উঠে গিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দেয় সে।

'হ, গু জব হইছে একটা।' বিড়বিড় করে হাওয়া বলে।

কথাটা সে কাকে বললো বোঝা যায় না অবশ্য।

1622 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।