ইসলামিক নারীবাদ

মঙ্গলবার, জুন ১৯, ২০১৮ ৪:২০ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


ইদানিং বামঘেঁষা লিবারাল ঘরানার লোকাল পত্রিকাগুলোতে “ইসলামিক ফেমিনিজম” নামের এক কাঁঠালের আমসত্বের খুব দেখা পাচ্ছি, সাথে দেখা পাচ্ছি ইসলামিক ফেমিনিস্টদেরও। মূলত ইসলাম আর ফেমিনিজমের জগাখিচুড়িই হচ্ছে এই ইসলামিক ফেমিনিজম।

ইসলামিক ফেমিনিস্টেরা আল্লাকে খুশি রাখে আবার আবদুল্লাকেও খুশি রাখে আবার এই দুইকে খুশি রেখেই কিভাবে যেন পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধেও কথা বলে। এদের অনেকে হিজাব করা শিক্ষিত প্রফেশনাল, অনেকে সোশ্যাল রিফর্মার, কেউ একটিভিস্ট, কেউ লেখক-বুদ্ধিজীবি।

নারী অধিকারের ব্যাপারগুলো যে এরা বোঝে না তা বললেও ভুল বলা হবে, শুধু তাল গাছ আমার বলে তাদের নারীবাদ ইসলামের বালতিতে একটা চুবানো দিয়ে তুলে তারপর তারা পরিবেশন করে। তারা খুব ভালোই বোঝে সমাজে বিশেষত পশ্চিমা সমাজে নারীরা তথা মুসলিম নারীরা যে ধরণের ডিস্ক্রিমিনেশনের মুখোমুখি হয়। যেমন রাস্তাঘাটে মুসলিমফোব আক্রমণ, যোগ্যতা থাকা সত্বেও কাজ পেতে সমস্যা, ফোর্সড ম্যারেজ, ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন ইত্যাদি। নিঃসন্দেহে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ন সমস্যা কিন্তু তাদের ফোকাস শুধু পশ্চিমা সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তাদের প্রতিবাদও।

তারা নানাভাবে প্রমাণ করতে চায় শরিয়া আইন বা ইসলামিক আইন যে কতটা নারীবান্ধব যার মধ্যে অন্যতম হলো ইসলাম যখন নারীদের সম্পত্তি গ্রহণের অধিকার দিয়েছিলো সে সময়ের ইউরোপিয়ান নারীদের তুলনা করে, তবে ভুলেও বর্তমানের ইসলামিক দেশগুলোর সাথে বর্তমানের তুলনা করে না। তারা যে তাদের স্বামীদের অধীনে না তা প্রমাণ করার জন্য বলে যে তারা তাদের স্বামীদের লাস্ট নাম গ্রহণ করে না, কিন্তু তারা ভুলেও বলে না দেনমোহরের কথা যা আসলে পয়সার বিনিময়ে তাদের স্বামীর বিছানায় যাওয়া ছাড়া আর কিছুই না।

তারা বলে না তাদের স্বামীর ইচ্ছাতে শয্যায় না গেলে সারারাত যে ফেরেস্তারা তাদের উপর অভিশাপ দেবে, তারা বলে না স্বামীর কথা না শুনলে যে তাদের স্বামীদের অধিকার আছে তাদের ধরে পেটানোর। তাদের মুখে শুধু তোতা পাখির মতো একই কথা - ইসলাম নারীকে দিয়েছে সমান অধিকার।

হিজাব প্রসংগে কথা উঠলে তারা বলে হিজাব তাদের অধিকার, হিজাব তাদের ট্রেডিশন। কেউ কেউ হয়তো বা বলে ইসলাম নারী পুরুষ সবাইকেই মডেস্ট পোষাক পরতে বলেছে তাই তারা হিজাব করে কিন্তু তারা কখনো বলবে না পুরুষের ক্ষেত্রে মডেস্ট পোশাকের ইসলামিক সংজ্ঞা কি। তারা কখনোই বোঝে না অথবা বুঝলেও স্বীকার করে না হিজাব যে আসলে ছোটবেলার রিলিজিয়াস ইনডকট্রিনেশনের ফলাফল। মুসলিম নারীদের যে ইসলামিক আইনের অধীনে থেকেও কতটা উন্নতি করতে পারে তার উদাহরণ হিসাবে দেখায় খাদিজার ধন সম্পত্তির কথা বলে, কিন্তু তা যে ইসলাম পূর্ব সময়ের তা বলে না। রাজনীতি- যুদ্ধক্ষেত্রেও যে নারীরা এগিয়ে থাকতে পারে তার উদাহরণ হিসাবে নিয়ে আসে মুহাম্মদের বৌ আয়শাকে, কিন্তু কত হাদিসে আয়শাই যে কতবার মুহাম্মদের জারিজুরি ভেঙে দিয়েছে তা বলে না। তারা চেষ্টা করে ইসলামের অনেক সেক্সিস্ট ট্র্যাডিশনগুলোকে প্রমান করতে মানুষের তৈরি নিয়মকানুন অথবা আউট অব কন্টেক্সটের ইন্টারপ্রিটেশন বলে চালাতে তবে তারা সহজে বলে না ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার কতটা, বলে না কোর্টে তাদের সাক্ষীর মূল্য কতটুকু। কারণ এগুলো বললে তাদের কোর রিলিজিয়াস ভ্যালুর যে উৎস কুরআন তাকেই অবজ্ঞা করা হবে আর সেটা করলে পাশ্চাত্যের আর দশটা নারীবাদীর সাথে তাদের আর তফাৎ কোথায় থাকে?


  • ৮০৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শান্তনু আদিব

এক্টিভিস্ট, নিজেকে ফেমিনিস্টি বলতে পছন্দ করেন।

ফেসবুকে আমরা