কর্মক্ষেত্রে বাছবিচারহীন অংশগ্রহণই হোক এবারের ‘নারী দিবসে’র অঙ্গীকার

শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০১৯ ৫:০৭ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


১৮৫৭ সালের নারী শ্রমিক আন্দোলনে নির্লজ্জভাবে আক্রমণ চালানোর ইতাহাস থেকে ১৯১৪ সালের ‘৮ই মার্চ’ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পথ যে মোটেই মসৃণ ছিলো না, তাতো সবারই জানা। তারও এক’শো বছর পেরিয়ে আজ ৮ই মার্চ। এই দেড়শো বছরে নারীর অর্জন-উপার্জন কম নয়। নারী বিজ্ঞানী থেকে সরকারপ্রধান সবই হতে পেরেছে। কিন্তু আসলেই কি তারা নারীর প্রতিনিধিত্ব করেন? প্রশ্ন থেকেই যায়!

আমাদের চারপাশের মেধাবী ও পর্যাপ্ত সুযোগপ্রাপ্ত নারীরা সাধারণত ডাক্তার কিংবা শিক্ষিকা হতে চান, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার কিংবা অন্যকিছু হতে চান না। এর কারণ তারা এই ফিল্ডগুলোকে ‘পুরুষের কাজ’ মনে করেন। এই ধারণাটাকেই পাল্টাতে হবে সবার প্রথমে। মনে রাখতে হবে কাজের বেলায় কোনো নারী-পুরুষ নেই। এই একবিংশ শতাব্দীতে লিঙ্গভেদে কোনো কাজ নেই, আছে শুধুমাত্র ক্রীড়া।

একটা দাবি নারীরা করতেই পারেন, সব সেক্টরে নারীদের নিরাপত্তা সমান নয়। যৌন হয়রানীর শিকার হবার সম্ভবনা থাকে। আমি বলি, নারীর এই চিন্তাটিই হয়রানীর শিকার হবার অন্যতম একটি কারণ। খেয়াল করে দেখবেন, পুরুষ নিয়ন্ত্রিত ফিল্ডে (যেখানে মেজরিটি পুরুষ) সেখানে নারী নিপীড়নের হার বেশি। সত্যিকার অর্থেই যদি আমরা ‘নারী দিবস’কে স্বার্থকতা এনে দিতে চাই, আমাদের সকল ফিল্ডে ‘সমান অংশগ্রহণ’ নিশ্চিত করতে হবে। একজন পুরুষ ডাক্তারের পাশে যেমন একজন নারী ডাক্তার ডালভাত ব্যাপার, আজকাল, সেভাবেই একজন পুরুষ ম্যাকানিকের পাশে একজন নারী ম্যাকানিকও কিন্তু সমতার পূর্বশর্ত।

নারী আকাশে উড়ার, পাতালে ডোবার, মহাকাশে যাবার স্বপ্ন দেখুক। নারী গৃহকর্মী হবার পাশাপাশি রংমিস্ত্রী, ইলেক্ট্রিশিয়ান, রিকশাওয়ালা, বাস ড্রাইভার হবার চেষ্টা করুক। সমতার কথা উঠলেই পুরুষতন্ত্র নারীর যোগ্যতার প্রমাণ চায়, তাই আজ দেড়শো বছর ধরে নারী যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। তবে পুরুষতন্ত্রের ঠিক করে দেওয়া কর্মক্ষেত্রে। যেখানে নারীত্ব আর সতীত্ব দু’টোই রক্ষিত থাকবে বলে পুরুষেরা মনে করে, নারী সেখানে শ্রম দেয়। যে কাজগুলো করলে পুরুষতন্ত্রের টিকিটিও ছুতে পারবে না নারী, সে কাজগুলোই সাধারণত বরাদ্দ হয়। নারীদের এই সার্কেল থেকে বেরোতে হবে। প্রয়োজনে আরেকটি ১৮৫৭ আসুক পৃথিবীতে, রাজপথে মিছিল হোক।


  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

জান্নাতুল মাওয়া

লেখক, মানবাধিকার কর্মী।

ফেসবুকে আমরা