জোয়ান বেইজের রূপোলী গীটারে ‘সং অফ বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশের গান’

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮ ১:১৮ PM | বিভাগ : সীমানা পেরিয়ে


(জোয়ান শ্যান্ডোজ বেইজের জন্ম ১৯৪১ সালের ৯ জানুয়ারি। মার্কিনী এই গায়িকা, গীতিকার, সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ ও এ্যাক্টিভিস্ট সাতের দশকে পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন সামাজিক নানা অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নানা গান গেয়ে। গত ৬০ বছর ধরে নানা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনার পাশাপাশি ৩০টির বেশি এ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি। স্প্যানিশ ও ইংরেজিতে অনর্গল এই গায়িকা তাঁর প্রধান দুই ভাষা ছাড়াও আরো ছয়টি ভাষায় গান গেয়েছেন।

প্রথম যৌবনে পিট সিগারের গানে প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে বব ডিলান বা লিওনার্ড কোহেনসহ সঙ্গীত ভুবনের আরো কিছু জ্যোতিষ্কের সাথে বন্ধুত্ব হয় তাঁর। এই গায়িকার বিখ্যাত এ্যালবামগুলোর ভেতর রয়েছে ‘ডায়ামন্ডস এ্যান্ড রাস্ট,’ ‘দেয়ার বাট ফর ফর্চুন,’ দ্য নাইট দে ড্রোভ ওল্ড ডিক্সি ডাউন,’ ‘ফেয়ারওয়েল, এ্যাঞ্জেলিনা,’ ‘লাভ ইজ জাস্ট আ ফোর-লেটার ওয়র্ড,’ ‘ফরএভার ইয়ং’ এবং চির অমর ‘উই শ্যাল ওভারকাম।’ ১৯৭২ সালে প্রকাশিত এই প্রতিবাদী গায়িকার এ্যালবাম ‘কাম ফ্রম দ্য শ্যাডোজ’-এ ‘সং অফ বাংলাদেশ’ গীত হয়েছিলো। ডিসেম্বর মাস উপলক্ষে জোয়ান বেইজের সেই অসামান্য গানটির এক অক্ষম বাংলা অনুবাদ এখানে করা হলো)।

বাংলাদেশ, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ, বাংলাদেশ

সূর্য যখন ডুবছে পশ্চিমে

লক্ষ মানুষ মরছে সেই দেশে।

 

বাংলাদেশের গল্পটা তো’ জানাই

পুরনো গল্প ঘটলো নতুন ভাবে

অন্ধ যত হুকুমের সৈনিক

গণহত্যায় তারাই যে রাঙায় হাত

বিধিবদ্ধ আইন থেকে চুঁইয়ে পড়া

রুধিরাক্তের ধারা

এর উপরই দাঁড়ানো যত জাতি,

নিজ ভূমি পেতে শহীদ যে হতেই হবে।

 

বাংলাদেশ, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ, বাংলাদেশ

সূর্য যখন ডুবছে পশ্চিমে

লক্ষ মানুষ মরছে সেই দেশে।


আমরা তো’ আছি যথারীতি দায়সারা

দেখছি যত ক্রুশবিদ্ধ পরিবার

দ্যাখো ঐ কিশোরী মায়ের শুণ্য জোড়া চোখ

দেখছে তার উপোসী শিশুর আমরণ যুদ্ধ

কলেরা আর বৃষ্টিজলের সাথে।

 

আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা

দিব্যি তো’ ছিলো ঘুমে কাদা

তবু সৈন্যরা এলো রাতে আর

চালালো শয্যাতেই গুলি

ঘুমন্ত যত ছাত্রাবাস আহা

জেগে উঠলো প্রবল আর্তনাদে

বালিশগুলো রক্তে উঠলো ভিজে

আর মৃত দেহগুলো জমে গেলো হিমে

জমে গেলো নৈঃশব্দ্যে।

বাংলাদেশ, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ, বাংলাদেশ

সূর্য যখন ডুবছে পশ্চিমে

লক্ষ মানুষ মরছে সেই দেশে।

 

তোমরা কি পড়োনি রক্ত চেয়ে

মুক্তি সৈন্যের নিবেদন?

তরুণেরা তো’ নিজেই ফুটিয়েছে সুঁই

টগবগে ধমনীতে

আর দিয়েছে রক্ত।

আগু-পিছু ভাবার সময়ই পায় নি তারা

পায় নি ব্যথা, যাতনা এতটুকু।

 

অন্ধ যত হুকুমের সৈনিক

গণহত্যায় তারাই যে রাঙায় হাত

বিধিবদ্ধ আইন থেকে চুঁইয়ে পড়া

রুধিরাক্তের ধারা

এর উপরই দাঁড়ানো যত জাতি,

নিজ ভূমি পেতে শহীদ যে হতেই হবে।


  • ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অদিতি ফাল্গুনী গায়েন

লেখক ও কলামিস্ট

ফেসবুকে আমরা