কন্যারা মুখ খোলো

শনিবার, নভেম্বর ৩, ২০১৮ ৭:২৩ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


আমি কিছুটা বিস্ফোরিত হলাম, যা হয়তো কখনও কেউ দেখে নি, কিছুক্ষণ নয় ১০ মিনিটের মধ্যে ঐ জানোয়ারটার ফোন নাম্বার আমি চাই, না হলে আমি আইনের আশ্রয় নেবো কিংবা ফেসবুক লাইভে এসে সবাইকে জানাবো, আমার পরিবারও এই কারণে আমাকে দায়ী করছে, তখন জানোয়ার লিটন সিংহের নাম্বার এনে আমার হাসব্যন্ড কল করে, প্রথমে সে তো দুঃখ প্রকাশ করেই নি উল্টো ফাপর নিচ্ছিলো, আমি যখন তাকে গালি দিয়ে বাজে ভাষায় কথা বলি সে তখন আমাকে উল্টো থ্রেট করে যে তার মতো সন্মানি ব্যক্তির সাথে আমি এই ভাষায় কথা বলি, আসলে ভুলে গিয়েছিলাম যে লুচ্চাদের মানসম্মান একটু বেশিই থাকে। (আসলে এক সময় সে মৌসুমী ব্যবসায়ী ছিলো, ছাগল থেকে আনারস সবই বিক্রি করতো, শুনেছি মাদক ও হঠাৎ টাকা পেয়ে সে সকল নারীদের ভোগ্যপণ্য মনে করে, আর গায়ে হাত দেওয়া তো চা নাস্তা) আমাকেও তাই ভেবেছে, আমি নিরবে গিলে নেবো, লজ্জায় বেহায়া হয়ে বলে দেবো ইটস ওকে, হতেই পারে,,,

আসলে ঐ অতি ভদ্র শিক্ষা আমি পাই নি, আমি সব সময় অন্যায় এর প্রতিবাদ করতে শিখেছি, আর বড় হওয়া থেকে এখন পর্যন্ত আমি হীনমন্যতায় ভুগি নি, আমি ভিক্টিম, তাই বলে প্রতিবাদ করবো না, শুধু এই ভেবে যে আমাকে সবাই চিনবে! আমার গায়ে হাত দিয়েছে, আমি ঐ জানোয়ারটাকে প্রকাশ করবো না সবার সামনে, কিভাবে সম্ভব আমার পক্ষে, নবমী গেলো, দশমী গেলো, মায়ের বিদায় হলো, কিন্তু আমার উপর থেকে হয়তো তখনও মায়ের ভর কাটে নি। আমি শুধু ভাবছিলাম কী করবো? জীবনের প্রথম কোনো ব্যপারে এত দীর্ঘ সময় আমি দাঁত কামড়ে চুপ ছিলাম। কতটা দীর্ঘ ছিলো দিনগুলো আমি ভাবতে পারছি, সেই স্কুল থেকে বাড়ির দূরত্ব পাঁচ মিনিটের রাস্তার মতো, আমার আগে বান্ধবী আর পরে আমার কন্যার কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো, আজ যদি কোনো কারণে আমার মেয়ের সাথে কিছু হতো তখনও কি সবাই আমাকে শুধু মাত্র ফেইস করতে হবে তাও চুপ করিয়ে দিতপ? আমি কি চুপ করে থাকতে পারতাম?

আমি সত্যিই পারতাম না, আমার আমিই তবে হেরে যেতো। ২০ অক্টোবর আমি শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাসায় চলে আসি, পরদিন বিকেলে স্যাটাস দিই ফেসবুকে, আর আমাকে সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মানসিক টর্চার করা হয়, আমার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, আমাকে বাধ্য করা হয়, স্যাটাস অনলি মি করতে।

আমি অনলি মি করি, কিন্তু তাতে ঐ জানোয়ার আমার কাছে তখনও ক্ষমা চায় নি, বরং তার ভাগ্নে ও অনুসারীরা আমার নামে বদনাম ছড়াতে এর ওর ইনবক্সে ব্যস্ত, আমার মায়ের চরিত্রের সার্টিফিকেট দিতে ব্যস্ত। আমি ভালো না বলেই আমি এসব লিখেছি। আমি লজ্জাহীন, নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এমন বাজে কথা কেনো ফেসবুকে লিখলাম?

আমি কেনো প্রতিবাদ করলাম? আমি ভালো না ব্লা ব্লা ব্লা...

পর দিন সন্ধ্যায় আমি যখন আমার হাজব্যান্ডকে জানাই, তখন সে আমাকে আর বাধা দেয় নি, ও শুধু আমার এইসব ফেইস করতে হবে বলে চায় নি?

আমার মনে করি এইসব জানোয়ারদের মুখোশ উন্মোচন করা আমাদের সবার উচিৎ, নইলে আমরা তো নিজের কাছেই হেরে যাবো। নিজেকে এক সময় কি জবাব দেবো? ইস! কেনো তখন বলি নি, চলুন না বলি, আমি যা ফেইস করেছি, তা যেন আমার সন্তান ফেইস না করে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের মুখ খুলতে হবে, হবেই।

#metoo


  • ৩১৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা