গৃহিণী হয়ে আর কতোকাল নারীরা?

বুধবার, জুন ২৪, ২০২০ ১২:২০ PM | বিভাগ : আলোচিত


স্কুলের মাঠ দেখলে বোঝা যায়, এদেশে কতো নারীর মেধার অপচয় হচ্ছে৷ সুশিক্ষিত হয়েও এই নারীরা খুব গর্ব করে বলে আমার স্বামী আমাকে চাকুরী করতে দেয় না৷ আবার বিয়ের পর বাবার পদবী ছেড়ে স্বামীর পদবী ধরে৷ আরে বোকারা তোমাদের ঘরের ভিতরে বন্দী জীবন উপহার দেবার জন্যই তোমাদের স্বামীদের এমন আহলাদ৷

ঘরের বাইরে চাকুরী করতে বের হলে তোমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে৷ তার সাথে আসবে সংসারে কথা বলার অধিকার৷ তোমরা অর্থের জন্য স্বামীর কাছে ধর্না ধরো বলেই তারা তোমাদের কন্ঠকে দমিয়ে রাখতে পারছে৷ তোমাদের ঘরের বাইরে যেতে হলে অনুমতি লাগে, টাকা খরচের অনুমতি লাগে, শখের দু'একটা জিনিস কিনতে অনুমতি লাগে৷ সব অনুমতি প্রদাণের মালিক হলো স্বামীধন এবং এসব কারণেই স্বামীদের ক্ষমতা প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই তোমাদের জীবনকে উপলব্ধি করার মত অবকাশ থাকে না৷ তাদের ইচ্ছাতেই ডিগ্রীধারী বুয়া হয়ে জীবন পার করছো৷

শপিং মলে গিয়ে দুহাত ভরে কেনাকেনা করাটাই জীবনের সুখ নয়৷ তোমাদের নিজের একটা জীবন আছে যা নিজের মতো করে কাটাতে চাও, তাও পাওনা৷ সব সময় সবকিছুর জন্য স্বামীর কাছে বায়না কেনো? শিক্ষিত হয়ে ঘরে বসে শুধু সন্তানের জন্ম দেয়া আর স্বামী সেবা করে কাটাবে আর কতোকাল? সেখান থেকে বেরিয়ে আসো, বাইরের জগতটাকে চোখ মেলে দেখো৷ তোমাদের কর্মদক্ষতা দিয়ে দেশের মানুষদের উপকার করো৷

স্বামী চাইনি বলে আমি উচ্চ শিক্ষিত হয়েও ঘরে বসে থাকবো এটা তো হতে পারে না৷ নিজেদের শখের কেনাকাটা ছাড়াও তোমাদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করতেও তোমাদের আয়ের একটা অংশ ব্যয় হতে পারে৷ সংসারের অন্যান্য খরচগুলোতে সাহায্য করতে পারো৷ তখন গাড়ী, বাড়ী, শাড়ী, গহনার জন্য স্বামীর কাছে হাত পেতে থাকতে হবে না৷ স্বামীদেরও  তোমাদের ঘ্যানঘ্যানানি শুনতে হবে না৷ সাবলীলভাবে সংসারটা চলবে৷ একা স্বামীর সংসারের দায়ভার থেকে তাদেরকে মুক্ত করো৷

স্কুলের মাঠে বসে কার কতো দামী শাড়ী ও গয়না আছে এসবের হিসাব আর পরচর্চা, পরনিন্দা না করে সময়গুলো আর নিজেদের মেধাগুলোকে কাজে লাগাও৷ যার যে দক্ষতা আর শিক্ষা আছে তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ো কর্মক্ষেত্রে৷ বাইরের জগতে পা রাখলে বুঝবে টাকা অর্জন করে ব্যয় করা কতোটা কষ্টের৷ হয়তো তোমার জীবনে এমন একটা সময় আসতেও পারে তখন স্বামী হয়তো না থাকতে পারে, তখন সেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে তো আবার সেই বাবা আর ভাইয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরতে পারো৷ অথবা কোন দুর্ঘটনায় তোমাদের স্বামীর উপার্জন করার ক্ষমতা নাও থাকতে পারে৷ তখন অনায়াসে সংসারের হাল ধরতে তোমাদের সমস্যা হবে না৷ সঞ্চয়ের টাকা দিয়েও সেই সময় নিশ্চিতভাবে খরচ চালিয়ে যেতে পারবে৷

স্বামীদের অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে তাদেরকে সংসারের চাপমুক্ত করো৷ তাহলে তারা কঠিন অসুখগুলো আর মানসিক চিন্তা থেকে রেহাই পাবে৷

নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য গলা ফাটালেও কেউ তোমাদের ঘরে এসে দিয়ে যাবে না৷ যা দিতে পারে তোমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি, সেই সাথে আসবে সামাজিক মুক্তি। তা না হলে, মুখ বুঝে নির্যাতন সয়ে মন ও শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে বারংবার। সম অধিকার চাইলে স্বামীর পাশাপাশি নিজেদেরকেও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে৷


  • ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

কেয়া তালুকদার

কবি ও প্রাবন্ধিক কেয়া তালুকদারের তিনটি কবিতার বই বের হয়েছে; "পূর্ণতা ফিরে এসো", "ছায়ামানব" এবং কলকাতার কবি মোনালিসা রেহমান'র সাথে যৌথ বই ভালোবাসার সাতকাহন প্রকাশিত হয় ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের একুশের বই মেলায়। ২০১৬ সালে পেয়েছেন 'সমতটের কাগজ' থেকে প্রাবন্ধিক হিসাবে পুরস্কার। ১৬ বছর আন্তর্জাতিক এনজিওতে চাকরী শেষে বর্তমানে "হেঁসেল" নামে রংপুরে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন। লেখকের লেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে।