নারীর প্রতি সহিংসতা, #MeToo আন্দোলন ও পুরুষের যৌনবাদী মগজ

রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮ ২:০৬ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


বাস্তবতা কখনো অতিকল্পনাকেও হার মানায়। শিক্ষাদীক্ষা আছে এরকম এক বাঙ্গালি মুসলমানের সাথে কথা হচ্ছিলো #metoo আন্দোলন নিয়ে।

তিনি বললেন, "গল্প বলি শোনেন, আমাদের এই যে অভিনেত্রীদের দেখছেন না, এরা তো 'সব দিয়া থুইয়া' সেলিব্রেটি হয়। এরা আবার #metoo কিভাবে বলবে?"

বক্তার চোখ দু'টো চক চক করছে। কষ্ট করে উদগত অট্টহাস্য আটকে রেখেছে, ফলে এক ধরনের দেঁতোহাসি তার আদিম জান্তব যৌনতাড়িত অনুভূতিকে প্রকাশ করছে কুৎসিত এক অশ্লীলতায়।

আমি হতবাক হয়ে তার দিকে তাকাই। সে যে নারীদের প্রতি সহিংসতার নির্মম ও অবমাননাকর বর্ণনাগুলো "আদিরসাত্মক ছোটগল্প" হিসেবে উপভোগ করছে, তা কোনো মনোবিজ্ঞানী না হয়েও বলে দেয়া যায়। হায়, যৌন নির্যাতনের কাহিনী যে কারো কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে, এটা আগে কেনো ভাবি নি?

এই লোকের যৌনবাদী মগজের চেহারা বেশ স্পষ্ট। এরাই তো বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশীয় পুরুষচেতনার প্রধান ধরন। ওয়াজ মাহফিলে যে নারী বিদ্বেষ ও আদিরসাত্মক গল্পের ছড়াছড়ি, সে তো এই ধরনের ভোক্তা আছে বলেই। আমাদের সুস্থ্ যৌনশিক্ষা ও মানবিক ভালোবাসা বঞ্চিত সমাজ তো ছেলেশিশুকে এই ধরনের বিকৃত যৌনবাদী লেন্স দিয়ে সব কিছু দেখার শিক্ষা দেয়।

মরাল অফ দ্যা স্টোরি, যারা #metoo আন্দোলন করতে চান, সাবধানে লিখুন। নিপীড়ক কি করেছে, তার বর্ণনার বদলে, লোকটির সাথে আপনার সম্পর্ক, পরিবেশ পরিস্থিতির বর্ণনা, ও লোকটির কুৎসিত আচরণের ব্যাখ্যা করুন। সাথে এর পেছনের "ক্ষমতা" বিষয়টি উল্লেখ করুন। তারপর এই "ক্ষমতা" যে একটি পিতৃতান্ত্রিক আইনি ও সামাজিক "ব্যবস্থার" প্রকাশ, সেটিও বলুন। আপনার গল্প যেন যৌনবিকারগ্রস্থ পুরুষের কাছে "আদি রসাত্মক ছোটগল্প" না হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ত, ছেলে শিশুরাও যৌন নিপীড়নের শিকার। এক দু'জন নয়, হাজার হাজার। সাহসী পুরুষেরা এগিয়ে আসুন না, আপনাদের কৈশোরের কাহিনী নিয়ে। কিভাবে আপনার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তার বর্ণনায়। (যা এখন অনেক মাদ্রাসায় চলছে, ছেলেশিশুদের উপর, পত্রিকার ভাষ্যমতে।)

#metoo যেন সামাজিক সচেতনতা বাড়ায়। যৌনবাদী মতাদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গীকে বিশ্লেষণ করে। পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতা ও ব্যবস্থাকে উন্মোচিত করে। এই প্রত্যাশায়।


  • ১৫০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

খান আসাদ

সমাজকর্মী

ফেসবুকে আমরা