কৃষ্ণা দাস

সমাজ সচেতন লেখক।

আসুন, সন্তানের বয়ঃসন্ধিতে পাশে থাকি

বয়ঃসন্ধি কাল, জীবনের সব চাইতে জটিল সময়। সব কিছুর হঠাৎ পরিবর্তন এই বাচ্চা বয়সে মানিয়ে চলা সত্যিই কঠিন। যেখানে আমরা বড়োরা আমাদের সুবিধা মতো কখনও তাদের বড় বলি, কখনও বা ছোটো (যেমন ধরা যাক, আমরা তাদের অনেক সময়ই বকা দিয়ে বলে থাকি 'এতো বড়ো হয়েছো আর কবে তোমার বুদ্ধি হবে' কিংবা বাচ্চা কোনো ইনভেনশন/ কিছু করতে চাইলে আমরা তাদের থামিয়ে দিয়ে বলি, তুমি এখনও যথেষ্ট ছোটো')। এখানে বাচ্চাটা বুঝে উঠতে পারে না আসলে সে কী! সে কি বড়, না ছোট!?
 
এই জটিল জীবনকাল বুঝা আসলেই এ সময়ে বেশ বিভ্রান্তির। অথচ, শিশুর আগামীর জন্য এই সময়টার সঠিক বিকাশ ভীষন গুরুত্বপূর্ন। শারিরীক ও মানসিক যে পরিবর্তন, তার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক যে দৃষ্টিভঙ্গি তা কাটিয়ে কিংবা তা মানিয়ে চলতে চলতে অনেক সময় এই বাচ্চাগুলো দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলায় দুলতে থাকে। 
 
 
এই সময়টা আমরাও পার করে এসেছি, আমাদের সন্তানরাও এই সময়টা পার করবে। আধুনিক বাবা-মা হিসেবে আমাদের উপর গুরুদায়িত্ব বর্তায় এই কঠিন আলো আঁধারির সময়টা তাদের হাতে হাত রেখে একটা মসৃণ পথ তৈরি করার। ইন্টারনেটের এই সময়ে এবং আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার ফলশ্রুতিতে  এখনকার শিশুরা বয়ঃসন্ধিকালীন সময়কালের শারিরীক পরির্বতনগুলো সম্পর্কে খুব ভালভাবে ওয়াকিবহাল। পাশাপাশি আরেকটা কথাও বলা যায়, আমি, আপনি চাই কিংবা না চাই, প্রকৃতগত ভাবেই শিশুরা শারিরীকভাবে তার স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে উঠবে। কাজেই যেদিকে আমাদের দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হবে তা হলো শিশুর মানসিক বিকাশ। শারিরীক দিকগুলো সম্পর্কে যেহেতু ওরা বেশ খানিকটা সচেতন এবং এর ফলে আমরা/অভিভাবকদের বিরাট এক কাজের বোঝার অর্ধেকটাই কমে যায়। যা জরুরি তা হলো মানসিকভাবে তাদের পাশে থাকা। এই সময়ে শারীরিক পর্রিবতনের সাথে তারা পেরে উঠলেও, মানসিক যে পরিবর্তন তার সাথে পেরে উঠা অর্থাৎ সুস্থ ও সঠিক মানসিক বিকাশের সাথে সমন্বয় রেখে বেড়ে উঠানো রীতিমতো এক যুদ্ধের মতো। এই সময়টাতেই কেউ যদি তাদের হাতে মশাল জ্বালিয়ে এগিয়ে চলতে সাহায্য করে তবে অবশ্যই একজন ভাল মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব। আর এই ভাল মানুষ গড়ে তোলা জরুরি তা কেবলমাত্র পরিবারের জন্যই তা কিন্তু নয়, জরুরি তা সমাজের জন্য, জরুরি তা রাষ্ট্রের জন্য।
 
মানসিকতার বিকাশ তা কিভাবে সম্ভব :
 
★ আসলে এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ফর্মূলা নেই যে একে একটা ছকে ফেলে হিসেব করলেই মিলে যাবে, মোটেও এমন নয়। বাবা-মা কিংবা অভিভাবক হিসেবে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা অনেকেই ভাবি 'আমি যা জানি তাই শেষ কথা' প্রথমত এই মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। 
 
★ ছেলেমেয়েদের সাথে খোলামেলা মিশতে হবে, মোটেও ভুলে গেলে চলবে না আপনি দাঁড়িয়ে আছেন বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগে। কাজেই যা জানেন তাই স্বচ্ছতার সহিত বলবেন। যা বলবেন না ভাবছেন, সেটা ঘুড়িয়ে প্যাচিয়ে না বলে সোজাসাপ্টা বলে দিবেন 'তুমি আরেকটু বড় হও, তখন তোমাকে জানাবো' এতে করে ওর কিউরিয়াস মাইন্ড এ বিষয়টা নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামানো থেকে বিরত থাকবে। 
 
★ কোয়ালিটি টাইম দিতে হবে বাচ্চাদের। হ্যা, ব্যস্ততার কারণে তা অনেক সময়ই প্রায় দুরূহ হয়ে উঠে। তবে বিশ্বাস করুন আপনি যদি সময় দিতে চান তবে শত ব্যস্ততায়ও সময় দেয়া সম্ভব। 
 
★ সারাদিনে আপনি কীভাবে সময় কাটিয়েছেন সে গল্প সন্তানের সাথে করুন কিংবা আপনার ছোটবেলার বিভিন্ন ঘটনা ওদের সাথে শেয়ার করুন। দেখবেন সন্তানও স্কুল/টিউশন/খেলা থেকে ফিরে আপনার সাথে সব শেয়ার করার জন্য উৎসুক থাকবে। 
 
★ উৎসাহ আর উদ্দীপনা দিন। ভাল কাজে অবশ্যই উৎসাহ দিন, পাশাপাশি কোনো ভুল করে ফেললে বুঝিয়ে শুধরে দিন। 
 
★ আপনি নিজে স্বচ্ছ থাকুন, আপনাতেই সন্তান স্বচ্ছতাতে স্বাচ্ছন্দ থাকবে। 
 
আসলে এ বিষয়ে বলার অনেক আছে, সব এই আলোচনায় তুলে আনা সম্ভব না। সব কথার এক কথা হচ্ছে, আমরা নিজেরা সচেতনতার পাশাপাশি মুক্তমন নিয়ে ভাবতে পারলেই, জড়তা আর দ্বিধাদ্বন্দ্বগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলেই ওদের সঠিক মানসিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এক্ষেত্রে বাজারের বিভিন্ন শিশু বিকাশেরমূলক বই, এর সাথে সাথে ইন্টারনেট আছে আমাদের সাহায্য করার জন্য। প্রয়োজন শুধু ইচ্ছা শক্তির সাথে প্রয়োজনটাকে অনুধাবন করা। 
 

961 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।