ধর্ষক নয়, ধর্ষণের শিকার নারী/শিশুটির পক্ষে থাকুন

রবিবার, জুন ২৪, ২০১৮ ১২:৪৬ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


ধর্ষক’কে 'ধর্ষক' বলতে আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নাই৷ ধর্ষণের শিকার নারী’র বয়ানের উপরেই আস্থা রাখুন, ধর্ষকের নয়৷ ধর্ষক ও ধর্ষণের শিকার নারীর মধ্যে নিরপেক্ষ কোনো অবস্থান থাকতে পারে না৷ মানবতা ভাইয়া ও আপারা নানান তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা সহকারে বড় বড় থিসিস রচনা করবেন, ওগুলো দেখে বিভ্রান্ত হবেন না৷ মামলা চালানোর সামর্থ্য ও প্রমাণের অভাবে প্রতিদিন কত সহস্র ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায় তার কথা ভাবুন৷

দেড় বছরের মেয়েটির কথা একবার ভাবুন যার জননাঙ্গ ছুরি দিয়ে কেটে প্রশস্ত করা হয়েছিলো৷ নয় বছরের বালিকাটির কথা ভাবুন যে গণধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পেতে কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলো৷ এগারো বছরের সুজাতা চাকমার কথা ভাবুন যাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছিলো৷ ধর্ষণের পর বিষপ্রয়োগ করে মেরে ফেলা দুই নাবালিকা কন্যার পাশে পাথর হয়ে বসে থাকা পিতার কথা ভাবুন৷ ধর্ষণ নামের এই মহামারী যতদিন না থামছে আপনার মানবতা ধর্ষণের শিকার নারীর পক্ষেই থাকুক, নির্যাতিতার পক্ষেই থাকুক৷

আপনি জানেন, বাসে পথেঘাটে একজন নারী কতবার নির্যাতনের শিকার হয়৷ প্রতিটি ঘটনায় থানাপুলিশ করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না৷ এই দেশের থানা পুলিশ আইন কতটা হয়রানিমূলক আশা করি ব্যাখ্যা করতে হবে না৷ অনেকে পরামর্শ দেয় মার্শালআর্ট শিখতে, এগুলো এবসার্ড কথাবার্তা৷ দলে ভারি ইভটিজার বা গ্রুপ রেপিস্টের সামনে মার্শালআর্ট মার্টে কাজ হবে না৷ রাষ্ট্রে ও সমাজে বাস করা মানুষের একে অন্যের প্রতি কিছু রেসপন্সিবিলিটি থাকে, নইলে তো রাস্তাঘাটে যখন খুশি যে যার উপর হামলে পড়তো৷ নির্যাতিতা নারীর পক্ষে দাঁড়ানো সেই রেসপন্সিবিলিটির অংশ৷

অনেকে এই 'সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি'কে পশ্চিমের 'মব জাস্টিস' ইত্যাদি টার্মের সাথে গুলিয়ে ফেলে, তাদের কথা এই কান দিয়ে ঢুকিয়ে ঐ কান দিয়ে বের করে দিন৷ মানবতা ভাইয়া ও আপুদের দরকার কেবল লাইক, এটেনশন ও শক্তিমান লেখকের স্বীকৃতি। তাদেরকে নিরাশ করবেন না৷ লাইক দিন, চাইলে 'একমত ভাইয়া' বা 'সহমত আপু' বলে আলগা কমেন্ট করে আসতে পারেন, কিন্তু দিনশেষে নির্যাতিতার পক্ষেই থাকুন৷ বাসে, ট্রেনে, হাটে, মাঠে, অফিসে, পাবলিক প্লেসে নারী আওয়াজ তুললে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ান৷ দেখবেন আপনার দেখাদেখি অনেকেই দাঁড়াবে৷ হাতেনাতে ধরা পড়া রেপিস্টকে উত্তম মধ্যম দেয়া যেতেই পারে, উত্তম মধ্যম মানে কিন্তু জীবন কেড়ে নেয়া নয়৷ ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে যেয়ে যেন খুনী হতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন৷ সর্বাত্মক গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন কমতে বাধ্য৷

সম্পূরক খবরঃ
খাগড়াছড়ির জেলা পরিষদ পার্কে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপর দুই জন জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে৷ স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে জনতার সহযোগিতায় কয়েকজনকে আটক করেন। পরে খবর দিলে পুলিশ এসে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নির্যাতিতা আটককৃতদের মধ্যে পাঁচ ধর্ষককে সনাক্ত করে। এরা হচ্ছে, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের দক্ষিণ গঞ্জপাড়ার বাসিন্দা আবুল কাসেমের ছেলে, মোজ্জাম্মেল হোসেন, একই গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেছে আনোয়ার হোসেন, সামসুলের ছেলে সাখায়াত হোসেন বাবু, জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফুল আসলাম অন্তর ও নরসিংদীর হাজিপুরের বাসিন্দা ইস্রাফিলের ছেলে রুবেল হোসেন।


  • ১০৬৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

কুঙ্গ থাঙ

আদিবাসী বিষয়ক লেখক ও গবেষক

ফেসবুকে আমরা