মাদ্রাসার ছাত্রদের এতখানি আস্পর্ধা কে জুগিয়ে দিচ্ছে?

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮ ৬:৫৮ PM | বিভাগ : আলোচিত


‘মাগো আমি স্কুলেতে আর পড়বো না হাট্টিমা টিম টিম, মাদ্রাসাতে পড়বো গিয়ে আলিফ-লাম-মীম’- এটি একটি ইসলামিক গান। বাউল সামছেল হক চিশতী এই গানের কথা হুবহু আউড়িয়ে কি বলছিলেন তার গানে জানা নেই। তিনি কি এই কথার সঙ্গে দ্বিমত করছিলেন নাকি কথাগুলোকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরছিলেন উপস্থিত লোকজন বলতে পারবেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক আসাদুল্লাহ গালিব ২০০৫ সালে জঙ্গি মদদের অভিযোগে গ্রেফতার হোন। এই লোকের প্রচুর ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে তিনি বাউল ও লালন অনুসারীদের ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু, ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্য দায়ী… ইত্যাদি বলে বাউলদের বিরুদ্ধে উস্কানি ছড়িয়েছেন। আসাদুল্লাহ গালিব হচ্ছেন বাংলা ভাই তথা জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা। এসব অভিযোগেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ ফিরে পান। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জঙ্গিবাদ বিরোধী এক প্রচারণার বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েও আসেন! জঙ্গিবাদ বিরোধীতার সর্ষের মধ্যেই যে ভূত আছে এরকম ঘটনা একটি নিদর্শন। সাম্প্রতিককালে বাউল ও লালন অনুসারীদের নাম হিটলিস্টে চলে যাওয়াটা আসাদুল্লাহ গালিবের মতো ইসলামিক জিহাদের আধ্যাত্মিক নেতাদের ‘জঙ্গিবাদ বিরোধী আলোচনা সভায়’ যোগদানই সম্ভবত বড় অবদান রেখেছে। একইভাবে কিছুদিন পর পরই ইসলাম অবমাননারা অভিযোগ আসাটায় কারোর বিশেষ অবদান রয়েছে। সূর্যের আলোতেই বালু গরম হয়। মাদ্রাসার ছাত্রদের এতখানি আস্পর্ধা কে জুগিয়ে দিচ্ছে?

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় সরকারের ‘উন্নয়ন মেলায়’ গান গাইতে এসেছিলেন দেশবরণ্যে বাউল সামছেল হক চিশতীয়া। জঙ্গিবাদের প্রোডাক্টস হাউস হচ্ছে মাদ্রাসা। ইসলামের একাডেমিক জিহাদ কতল খেলাফত মাদ্রাসার পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত। সেই মাদ্রাসাকে এখন সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়ার দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢাকা শহরে বাউল ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলে, বক ভাস্কর্য উপড়ে ফেলে- এদেশে এত পুলিশ গোয়েন্দা থাকতে, একটা প্রসাশন থাকতে এতখানি সাহস তাদের হয় কি করে? তাদের হুমকির কারণে গ্রাম গঞ্জে বৈশাখী মেলা হতে পারে না, বাউল আসরের অনুমতি মেলে না- এতখানি ক্ষমতার জোর তাদের কোথায়?

স্কুলে হাট্টিমাটিম না পড়ে শৈশব থেকেই ছোট ছোট বাচ্চাদের সাম্প্রদায়িক হয়ে বড় হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। মাদ্রাসা উন্নয়নে কয়েকদিন আগেই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সনদ দিয়ে, অর্থ নিয়ে, প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে বাউল পিটিয়ে, মেলা বন্ধ করিয়ে, নাসিরনগর সৃষ্টি করে… এরকম শত শত আবদার আর ইতরামিতে পাশে থেকেও কি শেষ রক্ষা হবে? নাকি ভয়াবহ কোনো ভবিষ্যত অপেক্ষা করে আছে?

বাবুনাগরির কি বলেছে দেখুন। ফটিকছড়ির নানুপুর মাদ্রাসার ‘ইসলামিক আইন বাস্তবায়ন কমিটির সভায় বাবুনাগরি বলেন, “হযরত উসমান রাদিআল্লাহু আনহুর ঘটনা সবাই জানেন। উসমান (রাযি.) কে যখন মক্কায় আটকে রাখা হয়েছিলো, তখন একটা গুজব ছড়িয়েছিলো যে, উনি শহীদ হয়ে গেছেন। এমতাবস্থায় সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহকে বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! অন্যান্য কর্মসূচি পরে শহীদের রক্তের বদলা আগে। সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য ছিলো, আমরা হজ্ব-উমরা পরে করবো, আমার ভাইয়ের খুনের বদলা আগে নিবো। এরকম ঘটনা আমাদেরও আছে। শাপলা চত্বরে আপনারা গিয়েছেন। আমিও গিয়েছি। এই শাপলা চত্বরের শহীদদের খুনের বদলা আগে নিবেন, তারপর অন্যকিছু। এটা সাহাবায়ে কেরামের তরিকা, এটা সাহাবায়ে কেরামের সুন্নত”।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জন্য এটাই অপেক্ষা করে আছে। স্পষ্ট বলছে হেফাজত বদলা নিবে। এখন যাদের মুখে ঘি ননী তুলে দিচ্ছেন, তারাই ছোবল দিবে। যাদের কথায় সেলেবাস বদলে যায়, নারী নীতি পাশ হয় না, মাদ্রাসার মত কুশিক্ষাকে বিশ্ববিদ্যালয় সনদ দিয়ে এই জাতিকে এক হাজার বছর পিছিয়ে দেয়া হলো। নিরহ রসরাজের মতো গরীব সংখ্যালঘু আজো মামলার আসামী আর তাকে যারা ফাঁসিয়েছিলো তাদের দাড়ি আর টুপি দেখে এই যে নিশ্চুপতা, এই যে লাগাতার মন্দিরে প্রতীমা ভাংচুর দেখেও কোনো শব্দ নেই -একদিন নিজের আর্তনাদ দিয়েই হয়তো সব নিরবতার অবসান হবে…।


  • ৮৩৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা