যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে #Metoo'র জাগরণকে বিতর্কিত করার প্রয়াস: প্রসঙ্গ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ১২:১৭ AM | বিভাগ : #Metoo


এক.

নাট্যজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র সেলিম আল দীন স্যার ও অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রাক্তন ছাত্রী ফেইসবুকে তাদের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন তা সুখকরতো নয়ই, বরং প্রকারান্তরে যৌন হয়রানি বা নিপীড়নের অভিযোগ। একজন মৃত মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করাটা আমাদের সমাজ মেনে নেয় না। তদুপরি সেই মানুষটি যদি প্রখ্যাত কেউ হন তবে বিতর্ক তৈরি হয়, তার ভক্তকূল বা সুবিধাপ্রাপ্তরা আক্রমণাত্মক হয়।

বিস্ময়কর এই যে, যে দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বিতর্ক করতে অসুবিধা নেই, তাদেরকে হিরোর পরিবর্তে জিরো বানাতে এবং এমনকি কলঙ্কিত করতে, জাতির পিতার হাতে দেয়া পদক বাতিল করতে বাধা নেই, এমনকি মহান সংসদে দাঁড়িয়ে রাজাকার বানিয়ে ফেলতেও কোনো বাধা নেই - সে দেশে লাম্পট্যের শিকার কোনো নারী তার অপমানিত হওয়ার যন্ত্রণা ও নিপীড়নের কথা প্রকাশ করলেই রীতিমত যুদ্ধ শুরু করে দিই আমরা। তার দাবিকে মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত করতে জোর চেষ্টা চালাই। কিন্তু কেনো? আজকের মধ্যবয়সী নারীটির সাথে যখন নোংরা ঘটনাটি ঘটেছিলো তখন তার বয়স, সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় সে ছিলো যথেষ্টই অসহায়। তারপরও সে কিন্তু তখনই প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলো বলেই প্রতীয়মান হয় সতীর্থ Kamaluddin Kabir কামাল উদ্দিন কবিরের বর্ণনায়।

সৃজনশীল ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা নারীপ্রীতি সম্পন্ন হয় তার উদাহরণ আছে ঢের, তাদের অনেকেরই ব্যক্তিজীবন বহুগামিতায় ও নারী লিপ্সুতায় ভরপুর। তবে আপোষে নরনারীর মিথস্ক্রিয় যৌন কার্যকলাপ, আর ছাত্রীর উপর জোরজবরদস্তি মূলক হামলে পড়া, বাধ্য করা, ব্ল্যাকমেইল করা বা প্রলুব্ধ ও প্ররোচিত করার পার্থক্যটুকু ভুলে গেলে চলবে না।

দুই.

চলমান বিতর্ক নিষ্প্রয়োজন একারণে যে, নিপীড়নকারীর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয় নি। প্রশ্ন হতে পারে এবং হয়েছে যে এতোদিন পর কেনো, তার জীবদ্দশায় নয় কেনো। খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। তবে বাস্তবতা বিবর্জিত। ভুলে যাচ্ছেন যে আজকের #Metoo আন্দোলন না হলে হয়তো আজো তিনি সাহস করতে পারতেন না। সমাজকে সেই স্পেসটুকু তৈরি করে দিতে হবে, যেন নারীরা নির্দ্বিধায় তাদের উপর ঘটে যাওয়া যেকোনো অন্যায়ের কথা প্রকাশ করতে পারে ও নিশ্চিতভাবেই প্রতিকার পায়। সে বাস্তবতা কি আমাদের সমাজে বিদ্যমান আছে?

তবে কোনো মিথ্যা অভিযোগকারী নারী যেন কোনোরকম ছাড় না পায়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আসে তারও ব্যবস্থা থাকতে হবে অবশ্যই।

যারা বিরোধিতা করছে তারা বুঝতে অক্ষম যে এই অভিযোগ বা আন্দোলন বিচার দাবিতে হচ্ছে না, বরং সাহায্য করছে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সমাজকে সচেতন হতে, নারীদেরকে সাহসী করছে প্রতিবাদী হতে। যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে পারে বা নিপীড়নের হার কমে যায়।

তিন.

মুশফিকা লাইজু শিমুল একা তো নন, জাবির আরো কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্রী যাদের কেউ কেউ বর্তমানে জাবিরই শিক্ষক তাদেরও অভিজ্ঞতা লিখেছেন সামাজিক মাধ্যমে, 'নারী' ও 'উইমেন চ্যাপ্টারে'। আর মুশফিকার বক্তব্যের বিবরণ এতো বিস্তারিত যে এর প্রমাণ মিলতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। প্রয়োজন কেবল আমাদের সততার। ঘটনার আশপাশে থাকা মানুষগুলো সেই সময়কার 'প্রথম শ্রেণি পাওয়ার' লোভের মতো এখন পরিণত বয়সের আরো বড় লোভকে জয় করে যদি সত্যটা স্বীকার করে তবেই বিতর্কের অবসান ঘটে।

চার.

ইতিমধ্যেই লাইজু শিমুলের #metoo পোস্টের তিন দিনের মাথায়ই সতীর্থ ব্যাচমেট কামাল উদ্দিন কবীর যে বয়ান দিয়েছে তারপরও দেখছি কিছু মানুষ সাফাই গাইছে নিপীড়নের পক্ষে, অনিয়ম-দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার পক্ষে। কবিরের সাথে যা করা হয়েছে তা সরাসরি তাকে হত্যা করার চেয়েও জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছেন সেলিম আল দীন ও তার সহযোগী শিক্ষকগণ। এর বিচার চাইতে এখনও কাউকেই দেখলাম না! উল্টো কেউ কেউ মন্তব্য করেছে কবিরের বক্তব্য নাকি ধোঁয়াশাময়!? প্রাঞ্জল শব্দের গাঁথুনির ও বিনয়ের চূড়ান্ত ভাষায় তার নিজের জীবন ধ্বংস করার যে বয়ান সেলিম আল দীন স্যারের বিরুদ্ধে বিবৃত হয়েছে ও একইসাথে শিমুলের অভিযোগের সপক্ষেও যে সমর্থন দেয়া হয়েছে, তারপরও আমরা কোন নৈতিকতায় দাঁড়িয়ে কথা বলছি - বোধগম্য হচ্ছে না! সেলিম স্যার তাঁর সৃষ্টির কারণে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন - তা আমরা চাই বা না চাই। তবে তিনি ও তার সহযোগীরা যেসব অন্যায় করেছেন তার তদন্ত হওয়া জরুরি - মরণোত্তর শাস্তি দিতে নয়, বরং এসব স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করে নিপীড়ন বিহীন নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।

ভাবুন তো কামালউদ্দিন কবির তার পরীক্ষার ফলাফল বিষয়ক বিক্ষুব্ধতা হেতু যে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট দিয়েছিলো, তার বিপরীতে সেলিম আল দীন ও তার সহযাত্রীদের উকিল নোটিসের দ্বারস্থ হতে হলো কেনো? কারণটি ভালো করে শুনুন। সে সময়ে সেলিম আল দীনরা ভিসিপন্থী শিক্ষক রাজনীতি করলেও সিন্ডিকেটে এবং শিক্ষক সমিতিতে প্রাধান্য ছিলো ভিসি বিরোধীদের। আর তাই তদন্ত ঠেকাতেই অপকৌশল হিসেবে উকিল নোটিস ও আদালতে নিয়ে যাবার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে দেয়া। সেলিম আল দীনের বিরুদ্ধে এরকম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রাস্তাঘাটে অহরহই শুনা যেত যে, কোনো ছাত্র-ছাত্রী তার পদলেহন না করলে ভালো রেজাল্ট করতে পারে না। সেরকম ভুক্তভোগীরা এখনও জীবিতই আছেন। তিনি যতবড় সৃজনশীলই হোন না কেনো, শ্রেণি কক্ষে যত ভালো পাঠদান করুন না কেনো, তার অপরাপর বৈশিষ্ট্য কোনভাবেই আদর্শ শিক্ষকের নয়। তার অনুরূপ উত্তরসূরী যে উনি রেখে যাননি তার প্রমাণ কি? তাই কামালউদ্দিন কবিরের সেই অভিযোগের এখনও সুরাহা হওয়া অত্যাবশ্যক। কারণ এমন স্বেচ্ছাচারিতা এখনও ঘটছে, কবিরের পরেও আরো অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি, এমনকি তদন্ত কমিটি গঠনও নয়।

কারোর সৃজনশীলতা আর ব্যক্তি চরিত্রকে গুলিয়ে ফেলার প্রবণতা থেকেও আমাদের মুক্তি আবশ্যক। সৃজনশীল হলেই পুত পবিত্র হবে বা হতেই হবে এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসাটা জরুরি নয় কি? শিক্ষকতা পেশাটাই তো এক পবিত্রতম পেশা। অথচ শিক্ষকগণ যে হেন অন্যায় নেই, যার সাথে জড়িত হচ্ছে না - তা কিভাবে সম্ভব?!

পাঁচ.

বিচারহীনতার কারণে বর্তমানকালে ঘটমান অনুরূপ বা তার চেয়ে ঢের বেশি মাত্রার যৌন নিপীড়ন ও অন্যান্য বহুবিধ নিপীড়নের ঘটনা সমূহকে যেভাবে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে সেদিকে নজর দেয়াটা জরুরি। তাকিয়ে দেখুন সেলিম আল দিনের আমলের ঘটনাগুলোর চেয়েও মারাত্মক রকমের যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিকট অতীতে বা বর্তমান সময়ে ঘটেছে, ঘটে চলেছে। এগুলোর সবক'টিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। সেলিম আল দীনের নাট্যতত্ত্ব বিভাগেরই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে অন্তত ৪ জন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছিলো যৌন নিপীড়নের। সেটা নিয়ে বিচারহীনতার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো। সেই আন্দোলন দমাতে প্রশাসনের মাস্তান বাহিনী লেলিয়ে দেয়া হয়েছিলো। অদম্য ছাত্ররা তবুও বিচার দাবিতে অনড় থাকলে প্রশাসনিক যে তদন্ত হয়, সেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দোষ প্রমানিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তাকে বেকসুর খালাশ দেয়। সিন্ডিকেটের আলোচনায় এসেছিলো, অভিযুক্ত শিক্ষককে শাস্তি দিলে শিক্ষকরা ছাত্রীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে, তাই শিক্ষকতা করাই দুরূহ হয়ে পড়বে। কতোটা খোঁড়া যুক্তি হতে পারে একজন জঘন্য অপরাধীকে রক্ষা করার জন্য? কানকথা বাজারে প্রচলিত যে, সেই সিন্ডিকেটে অনুরূপ নিপীড়ক বা নিপীড়কের সহযোগী কেউ ছিলো, যারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই অমন সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছিলো প্রশাসনকে! ক্ষুব্ধ ছাত্ররা এরূপ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে নিপীড়ক শিক্ষককে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। সেই শিক্ষক বীরদর্পে পরদিনই বিভাগে হাজির হলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়। একারণে প্রশাসন দ্রুততম সময়ে বেশ কয়েকজন ছাত্র ও ছাত্রীর ছাত্রত্ব বাতিল করে, বহিষ্কার করে আজীবন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে একটি রিট মামলা হলে আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে দোষ প্রমাণ হবার পরও বেকসুর খালাশ দেয়া হলো কিভাবে! আদালতের রায় হয়েছিলো- "বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ ও অভিযুক্তকে বেকশুর খালাশ প্রদান" কে বেআইনী ঘোষণা করে। উপরন্তু "অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষককে যথাযথ শাস্তি প্রদান" করার আদেশ দেয়া হয় ২০০৯ সনের মে মাসে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হাইকোর্টের আদেশ পালনার্থে সমস্ত সুযোগ সুবিধাসহ তিন বছরের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করে অভিযুক্তকে যথাযথ শাস্তি দিয়েছিলো? এটার নাম যথাযথ শাস্তি, নাকি পুরষ্কৃত করা তা নিয়ে কেউ আর মাথা ঘামায় নি। ছাত্র-ছাত্রীদের বরখাস্ত করা ও অভিযুক্ত শিক্ষককে বেকসুর খালাশ দেয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিলো ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায়।

ছয়.
বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিজে নারী হয়েও এহেন নিপীড়নসহ বহু অপরাধের ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগকারীকেই উল্টো হেনস্থা করা হচ্ছে। বাধ্য হলে কখনও আইওয়াশ টাইপ বিচারও করা হয়। ফারজানা ইসলামের পক্ষেই কেবল নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে অধিকারের দাবিতে আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছেলেমেয়েদেরকে ভিসির বাস ভবন থেকে গভীর রাতে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো সম্ভব হয়েছে। এর অন্যতম কারণ, নিজেদেরকে যারা একমাত্র নীতির ফেরিওয়ালা মনে করে, সেই শিক্ষকরা ক্ষমতার রাজনীতির ঘেরাটোপে আটকে গেছেন। তাদের জন্য ফারজানা ইসলামের প্রশাসন অধিকতর সুবিধাজনক বিধায় ক্যাম্পাস মূলত অচল হয়ে থাকলেও, হাজারো অনিয়মে নিমজ্জিত থাকলেও তাদের এখন আর খারাপ লাগে না। অথচ এই তারাই নিকট অতীতে মিথ্যা ইস্যু তৈরি করে মাসের পর মাস অশালীন আন্দোলন করতে কুন্ঠিত হয় নি।

সাত.

বর্তমানে চলমান বহু নিপীড়ন, সন্ত্রাসী তৎপরতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি জালিয়াতি, তহবিল তছরূপসহ নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করতে গেলে উল্টো প্রথমে নিরুৎসাহিত করা হয়, না দমলে নানাবিধ চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার সর্বশক্তি প্রয়োগে থামিয়ে দেয়া হয়। তারপরও অভিযোগ হলে বিচার প্রার্থীকেই হয়রানি করা হয় আর পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয় দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসীদের।

আট.

বিগত কয়েক বছরে কয়টি অভিযোগের সুরাহা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন? যৌন নিপীড়ন সেল তাদের কাছে জমা হওয়া কয়টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছে? যারা কাজ করবে না, তারা দায়িত্বে থাকবে কেনো? পদপদবীর লিস্ট লম্বা করে সিভি ভারী করতে?

নয়.

আমরা কি বর্তমান সময়ে আমাদের আশপাশে বিদ্যমান দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী যৌন নিপীড়কদের থামাতে চাই, তাদের হাত থেকে নিজেকে বা কোনো সতীর্থকে রক্ষা করতে চাই? এসব লম্পটের হাত থেকে রক্ষা করতে চান কি প্রজন্ম পরম্পরায় আপনার বোন বা মেয়েদেরকে? তাহলে আপনার আশপাশে খোঁজ নিন, নিপীড়িত যেসব মেয়েদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখা হয়েছে, বিচার চাইতে গেলে উল্টো যাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করা হবে, পরীক্ষায় খারাপ করবে মর্মে ভয় দেখানো হয় - তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।

একই সাথে সেসব কতিপয় মেয়েদের আত্মমর্যাদা সম্পন্ন হওয়া অত্যাবশ্যক, যারা বেশি নম্বরের আশায় লম্পট শিক্ষকদের অন্যায় আচরণকে প্রতিবাদ না করে প্রশ্রয় দেয় এবং যারা এহেন লাম্পট্যকে উপভোগ করে।

দশ.

চলমান এসব নিপীড়নমূলক ঘটনাসমূহের অনেক কিছু অনেকেই অবগত আছেন। কিন্তু সোচ্চার হচ্ছেন না। উল্টো চেপে যাবারই পরামর্শ দেন প্রতিবাদী ও প্রগতিশীলতার ধ্বজাধারীরা।

সকল লোভ আর লাভের হিসেব নিকেশের উর্ধ্বে উঠে অন্যায়কে না বলতে শিখার অনুশীলন করা জরুরি। বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে যেকোনো অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাটা এখন সময়ের দাবি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে কারো প্রশাসন বেকায়দায় পড়বে কিনা, সে হিসাব মুক্ত হয়ে নামতে পারলেই বুঝা যাবে প্রগতিশীলতা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চারে আমাদের আসল অবস্থান, আসল রূপ।


  • ৪০২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আকন্দ

প্রাক্তন সভাপতি, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ এবং প্রাক্তন প্রোক্টর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুকে আমরা