সৃজা ঘোষ

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপণে স্নাতোকোত্তর, বর্তমানে আকাশবাণীতে কর্মরত।

মুক্তি নারীর সই, আর যুক্তি? পুরুষের দোসর...

ভালোবাসলে যত্ন নিতে হয়। হঠাৎ একদিন অসম্ভব করে নয়। প্রত্যেকদিন, অল্প অল্প করে। যত্ন মানে আদর নয়, যত্ন মানে সময়, কথা বলা, কথা শোনা অথবা চুপ করে তাকিয়ে থাকা। আসলে ভালোবাসা এমনই এক বিষম বস্তু যেখানে একবার এসে পড়লে বুকের সমস্ত কঠিন পলেস্তরা খসে পড়বেই। এখানে যুক্তি চলবে না কোনোদিন, অভিমান চলবে; বুদ্ধি খাটবে না, খাটবে বোকামি। ভালোবাসা এমনই এক দারুণ জিনিষ- প্রচন্ড আঘাতে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা আছে তার, আবার চাইলে এক টোকায় সবকিছু একদম শেষ।

ভালোবাসলে তাকিয়ে থাকতে হয়, ভালোবাসলে লুকিয়ে রাখতে হয়, ভালোবাসলে চিৎকার করে পাড়া মাথা করতে হয় আবার এই ভালোবাসলেই টু শব্দটি না করে মরে যেতে হয় একেবারে। ভালোবাসা এমনই এক দুর্বিষহ বস্তু। এখানে কোনো সমীকরণ চলবে না, নিয়ম খাটবেনা, গতানুগতিকতার লেশমাত্র থাকলে বাইরে থেকেই বিদায় নিতে হবে। ভালোবাসতে বাসতে ক্লান্ত হলে চলে যাবে হয়তো, কিন্তু ক্ষান্ত হলে সেখানেই ইতি। 

পুরুষ ভালোবাসলে কি চায় আমি জানি না, কি করে জানবো? আমি তো পুরুষ নই। মনোবিদও নই। প্রেমিকা? সে তো একজনের মাত্র। আমার শুধু এতকাল ধরে মনে হয়েছে পুরুষ ভালোবাসলে একইসাথে নিঠুর আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে আবার মলমের পুরু আস্তরণে ঠান্ডা করে দিতে চায় সব। ওরা মারতে চায় আবার মরেও যেতে চায় একইসাথে। ওরা আঘাত করে আঘাত করবে বলে নয়, কালশিটের মধ্যে অশ্রুর শুশ্রূষা আনবে বলে। ওদের প্রেম অসম্ভব অনাবৃত আবার তেমনই অন্তরাল। ওদের আদর গুঁড়িয়ে দেওয়া আবার মুড়িয়ে নেবার মতো। ওদের বোঝা দুষ্কর, কিন্তু দুরূহ নয়।

মেয়েদের ক্ষেত্রে আবার উলটপুরাণ। এখানে সকল কিছু দুর্বোধ্য। হিসেব মিলবে না কোনোমতেই। মেয়েরা চায় ভালোবাসলে ভালবাসা ছাড়া এ দুনিয়ায় সব হবে ফুঃ। একজন লোক ক্লান্তিতে ভিজে হোক, চোখের জলে পুড়ে হোক, খুঁজে নেবে একটা মাত্র বুক, সেটাই হবে তার একমাত্র। আমাদের মেয়েদের কাছে ভালোবাসায় ফুরসৎ বলে কিচ্ছু হয় না। ঘরে যেটুকু অভাব, সেটুকুকেই উপচে ফেলতে হবে ভালোবাসায়; যেটুকু অনটন তাতে ভরে দিতে হবে আদর। আমরা মলমই হতে চাই শুধু, পুড়িয়ে দেবার নামে আমরা ভয় পাই। অথচ একদিন অনাবিল অবহেলা পেলে গুঁড়িয়ে দিতে পারি এ পৃথিবীর সর্বোচ্চ নৃশংসতায়। আর সেদিন মেরে, মরি। আগুনের মতো কিছু একটা আমাদের মেয়েদের চারপাশে এমনিই রয়ে গেছে আবহমানকাল। তাই একটু অযত্ন দেখলেই সরে আসি। ঘিরে থাকা সে আগুনে গা এলিয়ে দিতে দিই অনায়াসে, ব্যাস।

মুক্তি নারীর সই, আর যুক্তি? পুরুষের দোসর...

943 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।