"ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে নাস্তিকদের শক্তিশালী ভূমিকা রাখা কর্তব্য" প্রসঙ্গেঃ

বুধবার, অক্টোবর ২, ২০১৯ ৯:৫০ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


প্রথমত, ইসলাম বিদ্বেষ আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত- এই কথাগুলো ব্যবহারেও সাবধান থাকা দরকার ... কেননা- এগুলোই ক্রমাগত নাস্তিকদের ডেমোনাইজ করার কামে ব্যবহার করা হয়েছে হচ্ছে- এইসব গ্রাউণ্ডেই হেফাজতের ফাঁসির দাবি, ব্লগার খুন, গ্রেফতার- মামলা এইসব চলছে ...

দ্বিতীয়ত, নাস্তিকদের ইসলাম বিদ্বেষ তথা ধর্ম বিদ্বেষ বনাম ইসলামসহ ধর্মগুলোর সমালোচনা তথা ইশ্বর সংক্রান্ত দার্শনিক বা জীবনের উদ্ভব ও বিবর্তন সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক আলোচনা- এই দুইয়ের ফাইন লাইন তৈরি করবেন কেমনে? কে ঠিক করে দিবে- কোনটা বিদ্বেষ আর কোনটা বিদ্বেষ না?

তৃতীয়ত, যে নাস্তিকদের উদ্দেশ্যে এই পরামর্শ স্ট্যাটাসটি পয়দা করেছেন- তারা কারা? নিশ্চিতভাবেই ইসলাম বিদ্বেষ কইতে এইখানে নাস্তিকদের ইসলাম বিদ্বেষই বুঝাইছেন! নিশ্চয়ই সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের ইসলাম বিদ্বেষ বুঝান নাই ... তারমানে যেইটা বুঝতেছি- নাস্তিকদের যারা ইসলাম বিদ্বেষ করে তাদের বিরুদ্ধে যারা ইসলাম বিদ্বেষ করে না তাদেরকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবার কথা কইছেন! কিন্তু সেইটা তারা কেনই বা রাখবে? মানে, শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে কেন? এইটা কি কোন সমস্বত্ব বডি? বা কোন সংগঠন? যার বিশেষ বা সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ উদ্দেশ্য বিধেয় আছে? নাকি- সব নাস্তিক সিম্পলি ইনডিভিজুয়াল ব্যক্তি মাত্র? তাইলে- যার যা অবস্থান, ভাবনা, মতাদর্শ, রুচি, সংস্কৃতি,অভ্যস্থতা, সক্ষমতা - এইসব নিয়াই কি আলাদা আলাদা অবস্থান রাখাটাই স্বাভাবিক না?

চতুর্থত, আমাদের দেশটায় ইসলাম বিদ্বেষ যা দেখেন (আপনার ভাষায় যদি ধইরাও নেই)- তার হাজার গুন বেশি পাইবেন হিন্দু বিদ্বেষ! মুসলমানের বাচ্চা হইয়াও সিম্পলি "হিন্দুয়ানি" নামটার জন্যে (বাংলা নাম)- সেই বাচ্চাকালে প্রচুর বুলিইং এর শিকার হইছি! তাইলে চিন্তা কইরা দেখেন- একেকটা হিন্দুর পোলার কি হয় ...! প্রতিবেশি হিন্দু পরিবারের ঘরের সামনে গরুর হাড্ডি ফেলে রাখতে দেখছি, আত্মীয় স্বজন পরিচিত- অনেক জায়গাতেই দেখছি- হিন্দু জিনিসটা একটা গালির সমার্থক ... স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও হিন্দু ধর্মের প্রতি তাচ্ছিল্য করা লেকচার শুনছি ... মসজিদের খুতবায়- ওয়াজগুলোতে ইহুদি-নাসারাদের চাইতেও ঘৃণা ছড়ানো হয় সবচাইতে বেশি- নারী ও হিন্দুর বিরুদ্ধে ...! এমনকি একদম নিরীহ প্রান্তিক আদিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষ এই দেশে ভয়ংকর রকম বেশি! এই বিদ্বেষ কেবল কথায়, লেখায়, ওয়াজেই সীমাবদ্ধতা থাকে না - একদম সরাসরি আক্রমণেও চলে যায়! অথচ- আমাদের দেশে ইসলাম বিদ্বেষ কথাটা যত মার্কেট পেয়েছে- হিন্দু বিদ্বেষ, আদিবাসী বিদ্বেষ নিয়া কেউ কথা কয় নাই - এইরকম শব্দ বন্ধ তো চোখে পড়ে না... সংখ্যালঘু আক্রমণ, সাম্প্রদায়িক হামলা (অনেক সময়ে তো হামলা/ আক্রমণও উল্লেখ না কইরা দাঙ্গা বসাইয়া দেয়) - এইসব কওয়া হয়, হিন্দু বিদ্বেষ তো কোথাও কোন কালে ইউজ করলো না ... সেইটা নিয়া আপনেরা তো কাউরে উপদেশ পরামর্শও দিলেন না ...! কারণ কি?

পঞ্চমত, ইসলাম বিদ্বেষ বা ধরেন যেকোনো ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ কিভাবে বর্ণবাদ হয়? কিংবা বর্ণবাদী রাজনীতির আইডিওলজি হইতে পারে? ইসলাম তো একটা আইডিওলজি। দর্শন, কিংবা ইসলামের ভাষাতে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান! এখন, আমারে কন- একটা আইডিওলজির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থাকলে অসুবিধেটা কোথায়? বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আপনার যদি বিদ্বেষ থাকে- বর্ণবাদী আইডিওলজিগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থাকতে কি পারে না? ধর্মগুলো তো বর্ণবাদী! কেবল নিজেদের অনুসারীকে শ্রেষ্ঠ মনে করে- বাকিদের নিচুসারির, পাপিষ্ঠ বলে মনে করে ... ! হ্যাঁ- আপনি কইত পারেন- কোন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীরে তার জন্মগত ভাবে পাওয়া ধর্মের আইডিওলজিকাল জায়গা ধরে- ডেমোনাইজ করা, ঘৃণা করা- সেই ধর্মের কোন অংশের অপরাধকে সমস্ত ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর উপরে চাপিয়ে দেওয়া- এইসবরে বর্ণবাদী কইতেই পারেন ... । কিন্তু, ধর্মরে নিয়া বিদ্বেষরে কি বর্ণবাদ কওন যায়?

ষষ্ঠত, আচ্ছা- নাস্তিকদের প্রতি ঘৃণা/ বিদ্বেষরে কি বর্ণবাদ বলা যাবে? সেইটা নিয়া আপনার পরামর্শ কি? আপনেও যখন- নাস্তিকদেরকে (এবং বামপন্থীদের নিয়া) জেনারালাইজ কইরা "বিদ্বেষ" কিংবা "সমালোচনা" করেন - সেইটারে বর্ণবাদ কওন যাইবো কি? কোন নাস্তিক বিশেষের, কোন বাম নেতার/ কর্মীর/ ফেসবুকারের কাম/ আলাপরে জেনারালাইজ কইরা যখন নাস্তিকদের/ বামদেরকেই ওভারল একহাত দেইখা নেন- সেইটা কোন পর্যায়ে পড়ে?

সপ্তমত, বিজেপি-আরএসএস এর রাজনীতিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ কিংবা হেফাজতি-জামাতি রাজনীতিতে হেন্দু- খ্রেস্টানদের নিয়া যে ঘৃণা, নাজীদের রাজনীতিতে ইহুদীদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা- সেইটার সাথে নাস্তিকদের এইসব ধর্মীয় আইডিওলজি যেইসব কারণে আরএসএস-হেফাজতি-নাজীদের পয়দা হয়- সেইটার প্রতি ঘৃণারে এক কইরা দেখেন কেমনে? কেমনে- নাস্তিকদের ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ সেইসব বর্ণবাদী-ঘৃণাবাদী রাজনীতিতে ব্যবহৃত হয়, হইছে- উদাহরণ দেন ... দুনিয়ায়, যুগে যুগে- এই নাস্তিকরাই এই ঘৃণাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে দাড়াইছে, সেইসব ঘৃণার হাত থেকে- নির্যাতিত- নিপীড়িত- ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর পক্ষে সোচ্চার থাকতেও কোনদিন পিছপা হয় নাই- যতই তাদের ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ থাকুক ...


  • ৪৪০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নাস্তিকের ধর্মকথা

লেখক, ব্লগার এবং মানবাধিকার কর্মী।

ফেসবুকে আমরা