সইরা যখন সংসারী

বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮ ২:৩৮ AM | বিভাগ : ওলো সই


নাঈমাঃ আমরা ৩ জন বান্ধবী ছিলাম। এদের মধ্যে আমি সবচেয়ে খারাপ রেজাল্ট করছিলাম, আমার অল্প বয়সে বাবা মারা গেলো। নানুরবাড়ি চলে আসলাম। বাকী ২ জন খুব ভালো ভালো রেজাল্ট করলো, ভালো ইউনিভার্সিটিতে, ভালো ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হলো। আমার মতন 'প্রাইভেটে' না। সেখানেও ভালো রেজাল্ট। ওদের দেখতাম আর মন খারাপ করতাম।এদের মধ্যে একজন ছিলো মহাসুন্দরী, আরেকজন এর ফর্সা টুকটুকে চেহারা। আমি ছিলাম কালো, শুকনা কংকাল।

একজনের বিয়ে হলো। হলো না বলে, বলা উচিৎ সে নিজেই বিয়ে করলো। আরেকজন অনেকদিন ধরে প্রেম করলো।

২ জনই আমার জন্য বিয়ের পাত্র খুঁজতো। মানে গরীব, কালো, শুকনা মেয়েদের জন্য বড়লোকরা দয়া করে সম্বন্ধ খুঁজে না? সেরকম।

যার বিয়ে হয়েছিলো, সে আবার আরেকটা বিয়ে করলো, সেইটাও ভেঙ্গে গেলো। তারপরে সে একদিন আমার সাথে প্রচণ্ড ঝগড়া করলো। ঝগড়ার মধ্যেই বলে দিলো, 'একটা জামাইও তো জুটাইতে পারিস নাই, খুব না তোর সেলফ রেসপেক্ট? এই সেলফ রেসপেক্ট এর জন্য তোর সাথে কেউ থাকতে পারে না।'

আরেকজন বিয়ে করলো, তাও অনেককিছুর পর। যার সাথে প্রেম ছিলো, সেটা ভেঙ্গে আরেকজনকে। এই রাগে আগের প্রেমিক অনেক ব্যক্তিগত ছবিটবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছিলো। আমি কয়েকদিন প্রচণ্ড ভয়ে ছিলাম। পরে একদিন শুনি, সে ভালোই সংসার করছে। শুনে খুশি হলাম। সবাই পারে না উঠে দাঁড়াতে। ওর জন্য গর্ব হতো আমার।

আজকে দুপুরে সেওও বললো, 'কীরে? তোর এখনো বিয়ে হয় নি? আর কবে করবি? শোন, মা হতে পারাই নারীজীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। আর বিয়ের মূলমন্ত্র হলো, জামাইকে খুশি রাখা, বশ করে রাখা।'

কেন জানি খুব রাগ হচ্ছে, আবার ভালোও লাগছে। ভাগ্যিস, আমার একমাত্র সম্বল, আমার আত্মসম্মানবোধটা আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছিলো!

আমার ঘেন্না হয়। আবার আনন্দও হয়। যে জীবনে আমি শুধু নারী, শুধুই জরায়ুসহ একজন নারী, যার কাজ বাচ্চা পয়দা করা, এরজন্য তাকে সব বিসর্জন দিতে হয়, সেই অনাগত বাচ্চার কথা ভেবে, একদম বিপরীত মেরুর, বিপরীত মানুষ এর সাথে দাঁত কামড়ে পরে থাকতে হয়, সেই মানুষ এর 'অর্ধাঙ্গিনী' হওয়ার জন্য, নিজের গোটা জীবন, সেটার শখ-আহ্লাদ, অভ্যাস-অনভ্যাস, ধর্মবিশ্বাস, সংস্কৃতি সঅঅঅব বিসর্জন দিতে হয়, যাকে একটুও ভালো লাগে না, কিন্তু নিজের নারীসত্তাকে 'সবচেয়ে বড় পূর্ণতা' দিতে, নিজের ব্যক্তিসত্তাকে বিসর্জন দিতে হয়, কোনও একদিন, আমার কোলে একটা বাচ্চা হুটোপুটি খাবে বলে, আমাকে ক্লাস নাইন থেকে নিজের দৈর্ঘ্যর দ্বিগুণ একটা ওড়না পরে, চোখ মাটিতে নিবদ্ধ রেখে পথ চলতে হয়, নাহলে আমি 'ভালো মেয়ে, ভালো পাত্রী, ভালো বউ, এবং ভালো মা' হতে পারবো না, (এগুলা সব একটাই শর্ত, বুঝলেন তো? একটা নাহলে পরেরটাও হওয়া যায় না), সেই 'সফল জীবন' আমার নাই বলে একটু আনন্দও হয় বৈকি!


  • ৩৬১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নারী নিউজ ডেস্ক

নারী নিউজ ডেস্ক

ফেসবুকে আমরা