হয়রানির শিকার তরুণীর পাশে থাকুন

রবিবার, মার্চ ১০, ২০১৯ ৯:২৪ PM | বিভাগ : আলোচিত


নোয়াখালী সাইন্স এন্ড কমার্স কলেজের #অধ্যক্ষ_ড_আফতার_উদ্দিন এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে এক তরুণী (https://bit.ly/2VPudmy)।

একজন অধিকার সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। এই হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করার জন্য মানবাধিকার রক্ষাকর্মী হিসেবে আমি সেই তরুণীকে অভিনন্দন জানাই।

ইতোমধ্যে হয়রানির শিকার তরুণীর ভিডিওটি ফেসবুকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ দেখেছে এবং কমবেশি ৫০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। বহু মানুষ কমেন্ট করে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, এমনকি নোয়াখালী সাইন্স এন্ড কমার্স কলেজের অনেক শিক্ষার্থী তাদের সাথেও একই ধরণের আচরণ করা হয়েছে বলে কমেন্ট করে জানাচ্ছে।

ইতোমধ্যে হয়রানির শিকার তরুণী এই ঘটনার জন্য #অধ্যক্ষ_ড_আফতার_উদ্দিন’কে একটি চিঠি দিয়ে তার অভিযোগ তুলে ধরেছে এবং এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলে। (যারা তরুণীর চিঠিটা দেখতে চান,
https://www.dropbox.com/sh/elkvsby53swkdes/AABsRHvPmJu2HUspNeq0WDXCa?dl=0).

পরবর্তীতে বাংলাদেশের খ্যাতনামা আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া Jyotirmoy Barua সেই তরুণীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং তরুণীর পক্ষে #অধ্যক্ষ_ড_আফতার_উদ্দিন’কে একটি আইনী নোটিশ প্রেরণ করেন। আমি ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়ার প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তরুণীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। (আইনী নোটিশটি দেখতে পারেন, https://www.dropbox.com/sh/6x25aev1pb0szo1/AACta7KcLNGa6ERu-0qsuOr8a?dl=0).

২৪ ফেব্রুয়ারি ’১৯ তারিখে প্রেরিত আইনী নোটিশে এই ঘটনার জন্য #অধ্যক্ষ_ড_আফতার_উদ্দিন’কে ৫ দিনের সময় দিয়ে তরুণীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করা হয়।

অধ্যক্ষ ড. আফতার উদ্দিন

কিন্তু, স্যার আফতার এই নোটিশেরও কোনো জবাব দেন নি। ভিডিওতে তরুণী বলেছেন, উল্টো তিনি পুলিশের শেল্টারের জন্য পুলিশের সাথে যোগাযোগ করছেন।

আমি মনে করি, এটি আফতার স্যারের মামুলি কোনো অন্যায় নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে তার কাছ থেকে নারীরা যদি ‘শরীরের বিনিময়ে চাকুরি পাওয়া’ বা ‘উপরে উঠতে চাইলে শারীরিকভাবে সমঝোতা করা’ এবং তাতে রাজী থাকলে সেই নারীকে ‘বিভিন্ন জনের কাছে পাঠানো’র মত প্রস্তাব/ পরামর্শ পায় তাহলে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী/ অভিভাবক/ সহকর্মীরা কতখানি নিরাপদ তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে।

ইতোমধ্যে, বহু মানুষ কমেন্ট করে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, এমনকি নোয়াখালী সাইন্স এন্ড কমার্স কলেজের অনেক শিক্ষার্থী তাদের সাথেও একই ধরণের আচরণ করা হয়েছে বলে কমেন্ট করছে।

তাই, এই ঘটনার জন্য শুধুমাত্র ভিডিওতে প্রকাশিত সেই তরুণীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মধ্যদিয়ে এই ঘটনার অবসান হবে তা আমি মনে করি না। বরং, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের জন্য কতখানি নিরাপদ সেটিই এখন বড় প্রশ্ন!

ব্যক্তিগতভাবে আমি #অধ্যক্ষ_ড_আফতার_উদ্দিন’ কে চিনি না, কখনো পরিচয়ও হয় নি। তবে একজন শিক্ষা-ব্যবসায়ী হিসেবে তার নাম শুনেছি এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় তার বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চোখে পড়েছে।

এই ভিডিওটি প্রকাশের পর স্যার আফতার সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পেরেছি তিনি সবসময় ‘উপরের লোক’দের প্রভাব দেখান। আমি জানি না এই উপরের লোক কারা? আমি স্যার আফতাবের ফেসবুক একাউন্টে দেখতে পাচ্ছি তার সাথে আমার ৩৮ জন পারস্পরিক বন্ধু রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই তাদের স্বস্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

স্যার আফতার এবং আমার ৩৮ জন পারস্পরিক বন্ধুদের কাছে ফরিয়াদ করছি, আপনার পরামর্শ চাইছি- আপনিই বলুন, হয়রানীর শিকার তরুণীটির এখন কি করা উচিত? স্যার আফতাবেরই-বা কী হওয়া উচিত? বন্ধু হিসেবে স্যার আফতাবের এই আচরণকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

নোয়াখালীতে যারা নিজনিজ সামর্থ্য-সাহসের মধ্যে অন্যদের অধিকার নিয়ে কাজ করে, ইনসাফের জন্য কথা বলেন দয়া করে তরুণীটির পাশে থাকুন।

(নুরুল আলম মাসুদ এর ফেসবুক পাতা থেকে)


  • ২৮৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নারী নিউজ ডেস্ক

নারী নিউজ ডেস্ক

ফেসবুকে আমরা