নারীকে আলাদাভাবে সম্মান করতে হবে? নারী কি রুগ্ন?

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৮ ১:৩৩ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


নারীকে অপদস্থ করা, নারীর কাপড় চোপড় টেনে হিঁছড়ে লাঞ্চিত করা, অপমান করা, পণ্য করা, দুর্বল ভেবে তাকে নির্যাতন করা এটা নারীর প্রতি সহস্র সহস্র বছর ধরে চলা পুরুষতান্ত্রিকতার ইতিহাস। এখনো এই সমাজে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হয় না। ভাবা হয় এক দুর্বল, অক্ষম, রুগ্ন প্রজাতি। গত কয়েকদিন আগে শায়লা শ্রাবনী নামক যে মেয়েটি আরেকটি মেয়ের বস্ত্র হরণ করার যে প্রয়াস চালিয়ে ছিলেন। তা দেখে মনে হয়েছিলো, শায়লা শ্রাবনী নিজেই একজন পুরুষতন্ত্রের একনিষ্ঠ সেবাদাসী! যেন আরেক জন মেয়ের কাপড়-চোপড় টেনে খোলায় মধ্যে তিনি পুরুষতন্ত্র চর্চার অমৃত স্বাদ পেয়েছিলেন!পুরুষতান্ত্রিকতা কি শুধু পুরুষরা চর্চা করেন? আমার তো মনে হয় এদেশে পুরুষতন্ত্রের চর্চা পুরুষের চেয়ে নারীরাই অধিক পরিমান বেশি চর্চা করেন থাকেন। আমার মনে হয় এই সমাজে বাবা তার কন্যাকে চলার জন্য যে পরিমাণ অগ্রাধিকার দেন, তার ৫ ভাগেরও এক ভাগ মা তার মেয়েকে দিতে চান না। আমাদের মা'রাই বলে দেন, মেয়েকে কিভাবে নরম সরম করে চলতে হবে, মা'ই তো মেয়েকে বলে দেন, কখন কোথায় কিভাবে মেপে মেপে চলতে হবে। বাইরে গেলে কিভাবে ঢেকে ঢুকে চলতে হবে। কিভাবে চোখ, মুখ, ঠোট, বুক, নিতম্ব, সযত্নে ঢেকে ঢুকে রেখে গুছিয়ে চলতে হবে। যাতে তার মেয়েকে চলতে ফিরতে আবেদনময়ী না দেখায়, যাতে রাস্তার মধ্যে ছেলেরা তার মেয়েকে দেখে উত্তেজিত না হয়!

পুরুষতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হচ্ছে ধর্ম। যে ধর্মগুলো হাজার হাজার বছর ধরে পুরুষতন্ত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ধর্মে শেখানো হয়, স্বামীর প্রতি নারীর দায়িত্ব কি? নারীর দৈননিন্দ জীবন, -মানে নারীর কিভাবে চলা উচিত, কতটুক সংযমী হওয়া উচিত, স্বামী ও সন্তানের প্রতি নারীর কতখানি দায়িত্ব পরায়ন হওয়া উচিত, নারীর এমন একটা সীমানা বেঁধে দিয়েছেন আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলো। সেগুলো ভক্তিভরে মেনে আসছেন আমাদের নারী সমাজ। এখনো এই সমাজে নারীকে দইয়ের মাখনের মতো যত্নে করে রাখা হয়। এতে ফুটে উঠে একটা নারীর অবস্থান আসলে কতটা ঠুনকো। কতটা অস্তিত্বহীন!

সবচেয়ে যে বিষয়টা আমার কাছে একদম বাজে লাগে, তা হলো নারীকে আলাদা ভাবে সম্মান করার কথাটা। নারীকে সম্মান করুন, নারীকে মর্যদা দিতে শিখুন, এইগুলি যখন কোনো নারীর মুখে রাস্তা-ঘাটে শুনি, তখন মনে হয় নারীর অবস্থান আসলে কতোটা স্থুল! কতোটা টলমলে!

আচ্ছা নারীকে কেলো আলাদা ভাবে সম্মান করতে হবে? কি হাস্যকর বিষয়! তাই না? নারী কি রুগ্ন? অক্ষম? পরজীবি? আত্মবিশ্বাসহীন? আত্মসম্মানহীন? সে কেলো অপরের দয়া নিয়ে বাঁচতে চায়? তার কি আত্নবিশ্বাস নেই নিজের উপর ভর করে দাঁড়ানোর? এখানে নারীকে আলাদাভাবে সম্মান করার কথা বলে নারীর শারীরিক ও মানসিকতার উন্নতি হচ্ছে কোন দিক দিয়ে? আমার তো মনে হয় তারা আরো অক্ষমতা ও অধঃপতনের দিকে ঝুঁকছে। যেমন একটা উদাহরণ দিই, -বাসে একটা তরুণী দাঁড়িয়ে যাচ্ছে দেখে কোনো

নারীকে আলাদাভাবে সম্মান করতে হবে? নারী কি রুগ্ন?

নারীকে অপদস্থ করা, নারীর কাপড় চোপড় টেনে হিঁছড়ে লাঞ্চিত করা, অপমান করা, পণ্য করা, দুর্বল ভেবে তাকে নির্যাতন করা এটা নারীর প্রতি সহস্র সহস্র বছর ধরে চলা পুরুষতান্ত্রিকতার ইতিহাস। এখনো এই সমাজে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হয় না। ভাবা হয় এক দুর্বল, অক্ষম, রুগ্ন প্রজাতি। গত কয়েকদিন আগে শায়লা শ্রাবনী নামক যে মেয়েটি আরেকটি মেয়ের বস্ত্র হরণ করার যে প্রয়াস চালিয়ে ছিলেন। তা দেখে মনে হয়েছিলো, শায়লা শ্রাবনী নিজেই একজন পুরুষতন্ত্রের একনিষ্ঠ সেবাদাসী! যেন আরেক জন মেয়ের কাপড়-চোপড় টেনে খোলায় মধ্যে তিনি পুরুষতন্ত্র চর্চার অমৃত স্বাদ পেয়েছিলেন!

পুরুষতান্ত্রিকতা কি শুধু পুরুষরা চর্চা করেন? আমার তো মনে হয় এদেশে পুরুষতন্ত্রের চর্চা পুরুষের চেয়ে নারীরাই অধিক পরিমান বেশি চর্চা করেন থাকেন। আমার মনে হয় এই সমাজে বাবা তার কন্যাকে চলার জন্য যে পরিমাণ অগ্রাধিকার দেন, তার ৫ ভাগেরও এক ভাগ মা তার মেয়েকে দিতে চান না। আমাদের মা'রাই বলে দেন, মেয়েকে কিভাবে নরম সরম করে চলতে হবে, মা'ই তো মেয়েকে বলে দেন, কখন কোথায় কিভাবে মেপে মেপে চলতে হবে। বাইরে গেলে কিভাবে ঢেকে ঢুকে চলতে হবে। কিভাবে চোখ, মুখ, ঠোট, বুক, নিতম্ব, সযত্নে ঢেকে ঢুকে রেখে গুছিয়ে চলতে হবে। যাতে তার মেয়েকে চলতে ফিরতে আবেদনময়ী না দেখায়, যাতে রাস্তার মধ্যে ছেলেরা তার মেয়েকে দেখে উত্তেজিত না হয়!

পুরুষতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হচ্ছে ধর্ম। যে ধর্মগুলো হাজার হাজার বছর ধরে পুরুষতন্ত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ধর্মে শেখানো হয়, স্বামীর প্রতি নারীর দায়িত্ব কি? নারীর দৈননিন্দ জীবন, -মানে নারীর কিভাবে চলা উচিত, কতটুক সংযমী হওয়া উচিত, স্বামী ও সন্তানের প্রতি নারীর কতখানি দায়িত্ব পরায়ন হওয়া উচিত, নারীর এমন একটা সীমানা বেঁধে দিয়েছেন আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলো। সেগুলো ভক্তিভরে মেনে আসছেন আমাদের নারী সমাজ। এখনো এই সমাজে নারীকে দইয়ের মাখনের মতো যত্নে করে রাখা হয়। এতে ফুটে উঠে একটা নারীর অবস্থান আসলে কতটা ঠুনকো। কতটা অস্তিত্বহীন!

সবচেয়ে যে বিষয়টা আমার কাছে একদম বাজে লাগে, তা হলো নারীকে আলাদা ভাবে সম্মান করার কথাটা। নারীকে সম্মান করুন, নারীকে মর্যদা দিতে শিখুন, এইগুলি যখন কোনো নারীর মুখে রাস্তা-ঘাটে শুনি, তখন মনে হয় নারীর অবস্থান আসলে কতোটা স্থুল! কতোটা টলমলে!

আচ্ছা নারীকে কেলো আলাদা ভাবে সম্মান করতে হবে? কি হাস্যকর বিষয়! তাই না? নারী কি রুগ্ন? অক্ষম? পরজীবি? আত্মবিশ্বাসহীন? আত্মসম্মানহীন? সে কেলো অপরের দয়া নিয়ে বাঁচতে চায়? তার কি আত্নবিশ্বাস নেই নিজের উপর ভর করে দাঁড়ানোর? এখানে নারীকে আলাদাভাবে সম্মান করার কথা বলে নারীর শারীরিক ও মানসিকতার উন্নতি হচ্ছে কোন দিক দিয়ে? আমার তো মনে হয় তারা আরো অক্ষমতা ও অধঃপতনের দিকে ঝুঁকছে। যেমন একটা উদাহরণ দিই, -বাসে একটা তরুণী দাঁড়িয়ে যাচ্ছে দেখে কোনো তরুণ সিট ছেড়ে উঠে গিয়ে তরুণীটিকে জায়গা করে দিলো বসার জন্য। আর তাকে দেখে আমাদের নারী সমাজ মনে করে তরুণটি আসলে নারীকে সম্মান করতে জানে। এটা সোজা করে ভাবলে দয়াও তো বলা যায়। তাই না? মানে তরুণটি তরুণীটিকে করুণা করলো। আর এই করুণার মধ্যেই তারা সম্মান খুঁজে পান। কি আত্নসম্মানহীন মূল্যবোধ নিজেদের প্রতি!আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, এই সমাজের এখনো অধিকাংশ নারী নিজেদের পুরুষের কাছে একমাত্র ভোগ্যবস্তুই মনে করে। তার শরীরটা যেন পুরুষের কাছে একমাত্র লালায়িত ভোগ্য পণ্য। একটা মেয়ে যখন কোনো অপরিচিত পুরুষের সামনে যায়, সেই ইতস্ততবোধ করে। তার কাঁধের কাছে ব্রার ফিতাটা বেড়িয়ে আসছে কিনা, বুকের ওড়নাটা সঠিকভাবে গোছগাছ আছে কিনা, পেছনে নিতম্বের কাপড় অগোচালো আছে কিনা সেই চিন্তায় অস্থির থাকে সেই। তার মানে সে ভেবেই নিয়েছে সে পুরুষের কাছে একমাত্র ভোগ্যবস্তু। এটাও তো ভাবা যায়, আমার স্তন আছে, আমার যোনি আছে, আমার নিতম্ব আছে এটা তো চিরন্তন সত্য। আমি কেনো আমার এই শরীরের জন্য এতো ইতস্তত, এতো অস্বস্তিবোধ করবো? আমি কেনো পুরুষের কামুক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লজ্জিত হয়ে খুব গুছিয়ে গাছিয়ে চলবো? আমি কেনো আমার থলথলে মাংসপিন্ডগুলো ভোগ্যবস্তু ভাববো? সমস্যা তো আমার না, সমস্য তো পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীর।

-যে সমাজের নারীরা পুরুষের দয়া করাকে এখনো নারীকে সম্মান করা বলে ভেবে নেয়, সেই সমাজের নারীদের এখনো মনসিকতার তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়...

তরুণ সিট ছেড়ে উঠে গিয়ে তরুণীটিকে জায়গা করে দিলো বসার জন্য। আর তাকে দেখে আমাদের নারী সমাজ মনে করে তরুণটি আসলে নারীকে সম্মান করতে জানে। এটা সোজা করে ভাবলে দয়াও তো বলা যায়। তাই না? মানে তরুণটি তরুণীটিকে করুণা করলো। আর এই করুণার মধ্যেই তারা সম্মান খুঁজে পান। কি আত্নসম্মানহীন মূল্যবোধ নিজেদের প্রতি!

আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, এই সমাজের এখনো অধিকাংশ নারী নিজেদের পুরুষের কাছে একমাত্র ভোগ্যবস্তুই মনে করে। তার শরীরটা যেন পুরুষের কাছে একমাত্র লালায়িত ভোগ্য পণ্য। একটা মেয়ে যখন কোনো অপরিচিত পুরুষের সামনে যায়, সেই ইতস্ততবোধ করে। তার কাঁধের কাছে ব্রার ফিতাটা বেড়িয়ে আসছে কিনা, বুকের ওড়নাটা সঠিকভাবে গোছগাছ আছে কিনা, পেছনে নিতম্বের কাপড় অগোচালো আছে কিনা সেই চিন্তায় অস্থির থাকে সেই। তার মানে সে ভেবেই নিয়েছে সে পুরুষের কাছে একমাত্র ভোগ্যবস্তু। এটাও তো ভাবা যায়, আমার স্তন আছে, আমার যোনি আছে, আমার নিতম্ব আছে এটা তো চিরন্তন সত্য। আমি কেনো আমার এই শরীরের জন্য এতো ইতস্তত, এতো অস্বস্তিবোধ করবো? আমি কেনো পুরুষের কামুক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লজ্জিত হয়ে খুব গুছিয়ে গাছিয়ে চলবো? আমি কেনো আমার থলথলে মাংসপিন্ডগুলো ভোগ্যবস্তু ভাববো? সমস্যা তো আমার না, সমস্য তো পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীর।

-যে সমাজের নারীরা পুরুষের দয়া করাকে এখনো নারীকে সম্মান করা বলে ভেবে নেয়, সেই সমাজের নারীদের এখনো মনসিকতার তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়... 


  • ৭২১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অপ্রিয় কথা

লেখক একজন নারীবাদী, ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্ট।

ফেসবুকে আমরা