কল্পনা চাকমার ডায়েরি থেকে

শুক্রবার, জুন ১২, ২০২০ ২:২৬ PM | বিভাগ : আলোচিত


সারওয়ার তুষারঃ প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে হিল উইমেন্স ফেডারেশন-এর প্রতিনিধিবৃন্দের প্রতি প্রদত্ত বক্তব্য .....

"আমরা জানি , বিশ্বজুড়ে পশ্চাৎপদ দেশে ও সমাজে নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক নিপীড়ন প্রায় একই রকম। কিন্তু আমি মনে করি আমাদের দেশের মেয়েরা বেশি নিপীড়িত। কেননা আইন করেই নারীদের প্রতি বৈষম্য আরোপিত হয়েছে। তার অধিক আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের অবস্থান---এই পার্বত্য অঞ্চলের অন্তরালে রয়েছে বুকফাটা আর্তনাদ গগনবিদারী মহাচিৎকার।

পার্বত্য অঞ্চলের আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে নারী সমাজের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। একদিকে সেনা ও বাঙালিদের কর্তৃক ধর্ষণ, নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, অপমান অসহায়ত্বের নির্মম স্টীমরোলার। অন্যদিকে, সামাজিক বৈষম্য, গণ্ডিবদ্ধ জীবন-যাপন, নারী-পুরুষের বিভেদ, অপরদিকে জাতিগত নিপীড়নের বর্বরতম হত্যাকাণ্ড।

এই অবস্থায় রাজনীতিবিদ হিসেবে নারীর ভূমিকা পালন অত্যন্ত কঠিন কাজ নিঃসন্দেহে। আমাদেরকে অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। ইতিপূর্বে আমাদের নারী সমাজ নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার তথা নারী-পুরুষের সমঅধিকারের আন্দোলনে উপনীত হয়েছে।

আমাদের জানা আছে, সমাজের নিপীড়িত শ্রেণী ও জনগণের মুক্তি ব্যতীত পৃথকভাবে নারী জাতির মুক্তি হতে পারে না, শোষিত কোনো জাতি যেমনি অন্য একটি জাতিকে অধিকার দিতে পারে না তেমনি দিতে পারে না জীবনের নিরাপত্তা। কাজেই বোনেরা জাতীয় আন্দোলনের কাজ সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিয়েই নারীদের সম অধিকারের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থা , পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা আমাদের অস্বীকার করবার নয়। এই লক্ষ্যে আমাদের H.W.F. এর সংগ্রাম শুধু রাজনৈতিক নয়, সেইসাথে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে পুরুষ আধিপত্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম।

তাই সামাজিকভাবে আনতে হবে আমূল পরিবর্তন। এই সমাজ পরিবর্তনের জন্য আমাদের তথা সকল প্রগতিমনা, নারী-পুরুষদের নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে। সে কারণে আমাদের সমাজের আরো সচেতনতা বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, ক্ষমতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে গড়ে উঠতে হবে। সকল পর্যায়ের নেত্রী কর্মীদের এই যোগ্য নেতৃত্বে যেনো পারি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে। "

[প্রাপ্তিসূত্র : "কর্তার সংসার : নারীবাদী রচনার সংকলন" , সম্পাদনা : সায়দিয়া গুলরুখ, মানস চৌধুরী]

[ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা ১৯৯৬ সালের ১১ জুন মধ্যরাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাইল্যাঘোনার নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এর পাশাপাশি মানবাধিকার এবং নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে—এমন সংগঠনগুলোর মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় এবং সেই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

এই অপহরণের জন্য অপহৃতার পরিবার , রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা বরাবরই অপহরণকারী হিসেবে তৎকালীন সময় রাঙামাটিতে কর্তব্যরত সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অপহৃত হওয়ার দীর্ঘ চব্বিশ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী কল্পনা চাকমার। -সূত্র: উইকিপিডিয়া ]


  • ৩২২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নারী নিউজ ডেস্ক

নারী নিউজ ডেস্ক