অপরাজিতার বলিষ্ঠ পদভারে জেগে ওঠে মফঃস্বল শহর

সোমবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭ ৪:৫১ PM | বিভাগ : ওলো সই


ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাই আমার কাছে সেরা। জীবন কখনই স্মুদ জার্নি নয়। এই সমাজের প্রেক্ষাপটে একজন মানুষের সফলতার গল্প তৈরি হওয়াটা খুব সহজ নয়। মফঃস্বল শহরগুলোর মানুষের মানসিকতা যে কি পরিমাণ ভয়াবহ কুচুটে টাইপ, সংকীর্ণ চিন্তায় পুর্ণ মাঝে মাঝে আমাকে সেখানে যেতে হয় বলে বুঝতে পারি।

আমার খুব কাছের একজন মানুষ। তিনি ছোটবেলা থেকেই বেশ স্বাবলম্বী। স্কুল শিক্ষিকা মায়ের মেয়ে তিনি। তো আমার সেই কাছের মানুষের আসল নাম বলবো না, আমি তার নাম দিলাম অপরাজিতা। অপরাজিতা শান্ত মিস্টি একটা মেয়ে লেখাপড়া শেষে জব ক্রমান্বয়ে বিয়ে এবং এখন দুই কন্যা সন্তানের মা। 
সমস্যা শুরু হয় বিয়ের পর। স্বামীর কাছে শারীরিক ভাবে নির্যাতিত তো হতেই হতো এমন কি সেই স্বামী প্রভুত্ব খাটানোর কোনো সুযোগই হাত ছাড়া করতো না। অপরাজিতা শুধু তার সন্তানের কথা ভেবে কাটিয়ে দেয় জীবনের কয়েকটা বছর ওই মানুষরূপী জানোয়ারটার সাথে।

অবশেষে একদিন আসে, যেদিন অপরাজিতা আর নিজের সহ্য ক্ষমতাকে ক্ষমা করতে পারে না। সে এক বস্ত্রে বেরিয়ে পড়ে ওই নরক থেকে। আশ্রয় ছিলেন তার মা এবং অন্যান্যরাও ছিলেন দু’একজন। এর পর শুরু হয় অপরাজিতার আসল যুদ্ধ।

সন্তানরা পড়ে থাকে ওই পাষণ্ড লোকটার কাছে আর একজন মা প্রতিমুহূর্তের বুক হাহাকার করা যন্ত্রণা নিয়ে গুটি গুটি পায়ে পথ হাঁটেন। অপরাজিতা শিখে যায় এক সময় একা একা পথ হাঁটা।

তারপরও একজন অপরাজিতা হয়ে ওঠার গল্প অত সহজ নয়। মফঃস্বল শহরের মানুষের কুচুটে চিন্তার সামনে সে ঝুঁকে পড়ে ক্লান্তি আর অবসন্নতায়। যেন স্বামীর ঘর ছেড়ে আসা একজন নারীর দোষের শেষ নেই, যেন তার চরিত্রের মাপকাঠিও বিচার করবে অফিসের উর্ধ্বতন অধঃস্তন থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশী সবাই। যেন একজন স্বামী হীন নারী সমাজের গণসম্পত্তি, যে যখন যেভাবে খুশি তাকে দু কথা শুনিয়ে দিতে পারে।

হায় রে সভ্য সমাজ! কিন্তু, তাদের ওই কুচুটে নোংরা মুখে অস্বীকারের থুথু ছিটিয়ে জেগে ওঠে অপরাজিতা। সে নিজেকে জানায় সে নির্দোষ সে যা করেছে একদম ঠিক করেছে, সে তেলাপোকা নয়, সে কচুরিপানা ও নয়, সে একজন পরিপুর্ণ মানুষ, একজন পরিপুর্ণ মানুষের জীবন যাপনের সবটুকু অধিকার তার আছে।

ততদিনে অপরাজিতার কন্যাদ্বয় বড় হয়ে যায় ওরা খুঁজে নেয় ওদের মা' কে। 
অপরাজিতার বলিষ্ঠ পদভারে জেগে ওঠে মফঃস্বল শহর। দৃঢ় পায়ে সে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। পেছনে সুর্যটা পড়ে থাকে একদম কিংকর্তব্যবিমূঢ়!


  • ৩৯৬৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শামীমা শোভন

লেখক ও কবি।

ফেসবুকে আমরা