অসাম্প্রদায়িকতার জয় হোক

রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮ ১০:৫৫ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


সেক্যুলার’ – ‘অসাম্প্রদায়িক’ ‘সেক্যুলারিজম’ – ‘অসাম্প্রদায়িকতা’, ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ -এই শব্দগুলোর প্রতি ইচ্ছাকৃত ভাবে সামষ্ঠিক ঘৃণা তৈরির মিশনে নেমেছে একটি ‘ঘৃনাজীবী’ গোষ্ঠী। যেখানে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ / ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’র প্রকৃত অর্থ হচ্ছে সকল ধর্ম-মত-বিশ্বাসের মানুষের সম অধিকার নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান, সেখানে সেই ‘ঘৃনাজীবী’রা বোঝাতে চায় ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ বা ‘সেক্যুলারিজম‘ মানেই ‘ধর্মহীনতা’ বা ‘ধর্ম বিদ্বেষ’। তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যাগুরু ধর্মভীরু ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে’র চেতনার বিরোধী করে তোলা।

তারা চায়, সাধারণ সহজ সরল মানুষের ধর্মানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের নিজেদের ‘অসৎ‘ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে। দেশের মানুষ ‘ধর্ম নিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক’ হয়ে গেলেতো আর ‘ধর্মের‘ দোহাই তুলে ওরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে না। তাই তারা চায় না সব ধর্ম/মত-বিশ্বাসের মানুষের মাঝে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকুক। তারা চায় না মানুষ ‘মানবিক হোক। এই জঘন্য ঘৃনাজীবী অমানুষদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলতে হবে। এদেরকে রুখতে হবে। আর তাই এদের মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে Humane First Movement থেকে আমরা আবারো শুরু করতে যাচ্ছি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেয়া আমাদের অনলাইন ক্যাম্পেইন #BeHumaneFirst।  

এবারে আমরা পুরো বছরব্যাপী বিভিন্ন পর্বে এই ক্যাম্পেইন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রথম পর্বের ক্যাম্পেইন চলবে ১৫ ই জানুয়ারি থেকে ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত। ‘হবে না’, ‘সম্ভব না’, ‘সব শেষ’ – বলে হাত-পা গুটিয়ে চূড়ান্ত পতন দেখার অপেক্ষায় বসে থাকলে হবে না। প্রত্যেকের ই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা অন্তত করা উচিত যাতে বর্তমানের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক আবহাওয়া বদলে আমরা আশার সূর্যটাকে আবারো ফিরিয়ে আনতে পারি। সবকিছু এখনো শেষ হয়ে যায় নি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব আর আমরাই পারি পরিবর্তনের শুরুটা করতে। চলুন, সবাই মিলে সেই চেষ্টাটা করি। অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তি নিপাত যাক। অসাম্প্রদায়িকতার জয় হোক।


  • ৪১৭০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অজন্তা দেব রায়

মানবাধিকার কর্মী।

ফেসবুকে আমরা