পরকীয়ায় অনৈতিকতা থাকলেও কি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সকে জাস্টিফাই করে?

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৯ ১:৫০ PM | বিভাগ : আলোচিত


বাংলাদেশের পরকীয়া সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কেউ পরকীয়ায় লিপ্ত হলে মেয়েটির বর যদি মামলা করে তাহলে পরকীয়ায় লিপ্ত ছেলেটি সাজা পাবে। সাজা পাঁচ বছরের জেল, জরিমানা, অথবা দু'টোই। তবে স্বামীর অনুমতি নিয়ে কেউ যদি তার বউয়ের সাথে পরকীয়ায় (সঙ্গমে) লিপ্ত হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আর মেয়েরা পরকীয়ায় লিপ্ত হলে তাদের কোনো সাজা নেই। সেই সুবাদে এই আইনে মিতু কোনো সাজাযোগ্য অপরাধ করে নি।

বর্তমান এই আইনে সাজা হলে পাটেলের হতো যদি আকাশ কেস করতেন। যতদূর বোঝা যাচ্ছে তাতে পাটেল আমেরিকার বাসিন্দা। তাই বাংলাদেশ নয়, নর্থ ক্যারোলিনার আইন অনুযায়ী বিচার আচার হলে পাটেল ধরা খাবে কী খাবে না সেটা নির্ধারণ করা যাবে। যতদূর জানি তাতে আমেরিকার ২১টি স্টেইটে পরকীয়া অপরাধ বলে গণ্য হয়, সবগুলোতে নয়। আবার স্টেইট ভেদে সাজা ভিন্ন ভিন্ন -দশ ডলার থেকে শুরু করে নানাবিধ। কোথাও জেল, কোথাও বা ফাইনের পরিমাণ বেশী হতে পারে। তবে একটি বিষয় আমেরিকার সবখানেই রয়েছে সেটি হলো পরকীয়ার কারণ থাকলে সহজে ডিভোর্স পাওয়া যায় এখানে।

এবার মিতুর দিকটি নিয়ে কিছু বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। অনেকেই মিতুর ফাঁসি চাইছেন যদিও অভিযোগ একটিই তিনি পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। এই আইনে বাংলাদেশে কেস হলে পাটেলের সাজা হবার সম্ভাবনা, মিতুর নয়। তথাপি, ফাঁসির দাবিতে মানব বন্ধন!

বিয়ের একটি ভিডিওতে আকাশ বলেছিলেন, মিতু অনেক সহজ সরল একটি মেয়ে। তাই তাকে তার এত ভালো লাগে। আত্মহত্যার আগেও তিনি লিখে গিয়েছেন, 'ভালো থেক আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকাদের নিয়ে!' মৃত্যুর আগে নাকি কেউ মিথ্যে বলেন না। সেই বিবেচনায় বলা যায় মিতু তার প্রেমিকাদের নিয়ে কী করে ভালো থাকবেন? ভালোবাসায় গদ গদ হয়ে আকাশ কী তাকে লেসবিয়ানও বলে গেলেন শেষ বিদায় বেলায়?

আকাশ আত্মহত্যার আগ দিয়ে মিতু বিয়ের আগে শোভন, মাহবুবের সাথে হোটেলে গিয়েছে, সবকিছু জেনে তারপরও তাকে বিয়ে করেছেন লোকলজ্জার ভয়ে সবই ভিডিও করে, লিখে রেখে গিয়েছেন। ছবি/ভিডিওতে দেখা যায় মারের চোটে মিতুর ঠোঁটে রক্ত জমে ফোস্কা পড়ে গিয়েছে, আরও মারের আশঙ্কায় ভয়ে সরে সরে যাচ্ছেন তিনি যেটাকে ডমেসটিক ভায়োলেন্স বলে -যেটা বাংলাদেশ এবং আমেরিকায় সবখানেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 
দেশের মানবাধিকার কর্মীরা কই? ভিডিও করেও তারাই ছেড়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির আইনে এটিও একটি অপরাধই।

সেইসাথে ভিডিওর ভাষার দিকে দৃষ্টিপাত না করলেই নয়।

তারা ডাক্তার দম্পতি ছিলেন। সভ্য উচ্চ স্তরের মানসিকতা ধারণ করার কথা ছিলো তাদের। অথচ বউকে কী ভাষায় তিনি প্রশ্ন করেছেন দেখলেই থমকে যেতে হয়! বউয়ের সাথে যে লোক অন্যের সাথে যৌন সম্পর্ক ঘটেছে কিনা তদন্ত করতে 'চ' বর্ণ ছাড়া আর কোনো শব্দই খুঁজে পান না সেই লোকের সাথে অধিকাংশ মেয়েরই এমন হবার কথা। সেখানে তিনি যদি শিক্ষিতা বা ডাক্তার মেয়ে হন তাহলেতো কথাই নেই। ছয় বছর প্রেম করে এমন লোককে কেমন করে মেয়েরা বিয়ে করে ভাবতেই অবাক লাগে!

বিয়েতে রক্তের সম্পর্ক কাজ করে না। কাজ করে শব্দ, বাক্য, কথা, রোমান্টিকতা, আবেগ, অনুভূতি, অভিমান, অনুরাগ, আদর, সোহাগ, ভালোবাসা, নির্ভরতা, শ্রদ্ধা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ইত্যাদি। যাদের বর লাভ মেইকিং, ইন্টারকোর্স, যৌন মিলন, সঙ্গম, শারীরিক সম্পর্ক জাতীয় সাধারণ শোভন শব্দগুলো বাদ দিয়ে শুধু 'চ' দিয়েই কথা বলেন তাদের বউদের মতো দূর্ভাগা কী আর হয় জগতে? এমন ভাষায় কথা বলা লোকদের কথায় নারীদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাও প্রকাশিত হয় না। এমন শব্দ শুনেই নারীর মন উঠে যায়, কিসের সংসার? এদের সাথে আর যাইহোক ঘর করা কঠিন। অবশ্যই বুঝেশুনে কাউকে বিয়ে করা উচিত।

শেষ কথাটি হলো কাবিনের উপর ভিত্তি করে বিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, এবং সমাজ সবকিছুর জন্যেই ক্ষতিকর। বিয়েতে রেজিষ্ট্রিও জরুরি নয় যদি মেয়েরা স্বনির্ভর হয়। রেজিষ্ট্রি বিয়ে মেয়েদের পরনির্ভরশীলতা বাড়ায়। রেজিষ্ট্রি না থাকলে, মেয়েরা স্বনির্ভর হলে, তাদেরকে আর ব্যক্তিগত মালিকানাভূক্ত স্থায়ী আপদ মনে করার অবকাশ থাকে না। মনে হয় আলাদা সত্তার একটি সম্পূর্ণ মানুষ । তখন হারাবার ভয়ে অত্যাচার আপনা আপনিই বন্ধ থাকে।

নারী শুধু একটি যৌনাঙ্গ নয়, আবেগ, অনুভূতি সম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ একটি স্বাধীন সত্তা। একে কব্জা করে নয়, মন জয় করে আপন রাখতে হয়, নইলে সুযোগ পেলেই উড়ে যায় পাখি।

যত যাইহোক জীবন একটিই!


  • ৩৮২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শিল্পী জলি

সমাজকর্মী, ইউএস প্রবাসী

ফেসবুকে আমরা