রিয়েলি? ফ্লোরা দ্যাট ইউ কল স্ট্রাগল?

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৯ ৯:২৮ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


......"একেক জন মানুষের পার্সোনালিটি একেক রকম। সেই অনুযায়ীই একজন তাঁর মনের ভাষা প্রকাশ করে। লিখে, কিংবা ছবি তুলে।

তো ফাহমিদা জামান ফ্লোরা, তাঁর পার্সোনালিটি অনুযায়ী একটা লেখা লিখেছেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত মতামতই প্রকাশ পাচ্ছে। মানুষ কে মূল্যায়ন করা বা কিভাবে করা এই বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। একদিন হবে। আমি আশাবাদী।"

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা, লেখাটিতে নিজেকে "নীলাকাশের উড়ন্ত পাখি, এবং সূর্যমুখীর মতো গর্বিত জ্বলন্ত ফুল" বলে বিশেষায়িত করেছেন।

শৈশব থেকে এই পর্যন্ত তাঁর স্ট্রাগল যেটুকু সেটুকু হচ্ছে, নিজের মায়ের কাছে নিজের স্বাধীন জীবনের জন্য স্বীকৃতি পাওয়ার স্ট্রাগল এবং দুইমাস নিজের টাকায় চলা।

তাও সেটা চালিয়ে নেয়াটা তাঁর পোষায় নাই, কারণ সেই দুইমাস গভীর রাতে ঘুমাতে যাওয়া এবং আবার ভোর বেলায় উঠে পুরান ঢাকায় যাওয়া আসা করাতে মারাত্মক ফলাফল হয়েছিলো, তা হচ্ছে, বই পড়া, ফিল্ম দেখা, ছবি আঁকা, নিজেকে সময় দেয়া তাঁর হচ্ছিলো না। রিয়েলি? দ্যাট ইউ কল স্ট্রাগল?

স্ট্রাগল তো করেন সেই নারী যিনি স্বামীর অত্যাচারের শিকার হয়ে, একলা তাঁর সন্তানের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য রোজগার করেন। স্ট্রাগল করেন সেই গার্মেন্টস শ্রমিক, যিনি খুব ভোরে বের হোন কাজের জন্য, হাড়ভাঙা সেই কাজ করে তিনি রাতে বাড়ি ফেরেন।

স্ট্রাগল তো করেন সেই নারী, যিনি মাথা ফাটা রোদে চালতা পারার জন্য নয়, পেটের ভাতের জন্য ইট ভাটায় কাজ করেন, ধান শুকান, কৃষিকাজ করেন, এবং সেই ধানের মণ হয় ৫০০ টাকা।

স্ট্রাগল করেন সেই মানুষ, যিনি নিজের সন্তানের জন্য বৃদ্ধ বয়সে রিকশা চালিয়ে যান। স্ট্রাগল করেন সেই মানুষ যিনি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, দিনের পর দিন মজদুরি করেন।

স্ট্রাগল করেন সেই নারী, যিনি একলা একা অচেনা শহরে, একটু বড় হবেন বলে, কোনোমতে খেয়ে পড়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই জন্য না যে তিনি নিজের খেয়াল রাখবেন, বই পড়বেন, মুভি দেখবেন, শিল্প সংস্কৃতি মারাবেন, এই জন্য কারণ এইটুকু স্ট্রাগল না করলে তাঁর অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য এইটুকু স্ট্রাগল তাকে করতেই হবে।

ওই লেখায় ফ্লোরা লিখেছেন, নারীরা অত্যাচার কেনো সহ্য করে। তারা কেনো অমৃত ন্যায় তাদের অত্যাচার করা লোকের লিঙ্গ চোষে। চোষে কারণ, সঙ্গম সে আপনার মতো এনজয় করার জন্য করার ক্ষমতাই রাখে না। এটা অনেকটা সার্ভাইভাল সেক্স।

অত্যাচার সহ্য করেন, কারণ পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা তাকে এমন ভাবে বড়ো করেছে যে তিনি তাঁর নিজের জন্য সেই অত্যাচার থেকে বেড়িয়ে আসার মতো গাটস রাখেন না। কারণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাকে শিখিয়েছে, তাঁর ভরণপোষন হয় তাঁর বাবা দেবে, নইলে তাঁর স্বামী দেবে। তাঁর মানসিকতা এমন যে তিনি সব সময় অন্যের উপর ভর দিয়ে চলতে অভ্যস্ত। তাই তাঁর যখন কাওকে নিজের কথা বলতে ইচ্ছে হয়, তখন আপনার সঙ্গমের সময় জ্ঞান না রেখেই ফোন দিয়ে বিরক্ত করেন।

এই দেশে, নারী চাকরি করবে বলে বেরিয়েছিলো, ফিরতে পারেনি বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ভাত খেতে না পেয়ে কিশোরী আত্মহত্যা করেছে, পাহাড়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এবং সেই আতংকে ডুবে থাকছে সারাক্ষণ। সেটা স্ট্রাগল। বহু বহু নারী আইনী সাহায্য চাওয়ার জন্য পরামর্শের জন্য নিজের কষ্ট বলার জন্য মানুষ খোঁজে, যাকে একটু বুঝবে বলে মনে হয় তার কাছে আসেন। হ্যাঁ এইজন্যেও আসে, কারণ তাঁর শুধু এইটুকু বলতে পারার ক্ষমতাই আছে। এই জন্যেও আসে কারণ তাঁর একটু এটেনশন দরকার। কারণ তাঁর এই সমস্যার তাঁর পরিবারের কারো কাছে সমস্যাই না। সে কারো কাছে এটেনশন পায় না।

অনেক খারাপ অবস্থায় থেকে একজন মানুষ এসে আপনাকে বিরক্ত করেছে, আপনি তাঁর ফোনের জ্বালায় "আরামে চুদতে" পারেননি বলে, রাগে ক্ষোভে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে বিশাল স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলেছেন।

সাত বছরের বড় ছেলের চোখ গালিয়ে দেয়া, মুসলমানি করা ছেলের লিংগে ইটের টুকরা মেরে রক্তাক্ত করা, এই ভায়োলেন্স গুলো প্রমোট করা কি স্বাধীনতা? জীবন যাপন? নাকি পরিষ্কার নার্সিসিজম।

এত শিল্প, এতো সাহিত্য, এতো বই পড়া, এতো এতো কবিতা লেখার কি মূল্য যদি, মানুষ কেনো মর্যাদা নিয়ে মানুষের মতো বাঁচতে পারে না, সেই মূল সমস্যাকেই বুঝতে না পারলাম।

নীলাকাশের উড়ন্ত পাখি নয়, পুরো আকাশ হতে হবে, সূর্যমূখী ফুল নয়, সূর্য হতে হবে।

এতো কিছুও হতে হবে না। মানুষ হতে হবে। আর মানুষকে অবজ্ঞা এবং ঘৃণা করে কেউ কখনো মানুষ হতে পারেনি।


  • ৩২৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

প্রমা ইসরাত

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

ফেসবুকে আমরা