পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও আমি নিজে পুরুষতন্ত্রের শিকার!

সোমবার, অক্টোবর ১, ২০১৮ ৮:৩০ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


উপরের শিরোনাম দেখে অনেকেই  হয়তো চমকে উঠবেন- কিভাবে, কিভাবে এটা সম্ভব!

বলছি, একে একে গুটিকতক-    

প্রথমেই বলে নেই -পুরষতান্ত্রিক সমাজের প্রথা মেনে বিয়ে করাটা আমার কাছে খুবই ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক একটা কাজ বলে মনে হয়। কেনো মনে হয়? কারন হলো- বিয়ে হচ্ছে এমন একটি প্রথা যা পুরুষ কর্তৃক নারী শোষণের অনেক বড় একটা হাতিয়ার বা বিস্তৃত একটা ক্ষেত্র এবং আদিম সমাজে নারীর ঐতিহাসিক পরাজয় প্রক্রিয়ার সমান্তরালে এই প্রথার আবির্ভাব যেখানে পুরুষের উত্তরাধিকারকে সুনির্দিষ্ট করার জন্য নারীকে একগামী হওয়ার কড়া নির্দেশ প্রদান করে এবং বিপরীত ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য রয়ে যায় -সমাজে চালু থাকা নারীর গণিকাবৃত্তি এবং পুরুষের বহুবিবাহের ফলে- সামষ্টিক যৌনকাজের বিস্তৃত পরিসর।

সমাজের মানুষের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের সহযোগীতায় বিয়ের জাঁতাকলে ফেলে একজন পুরুষ খুব সহজেই একজন নারীর(নারীটি যদি অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বীও হয়, আর তা না হলে তো কথাই নেই) উপর যথেচ্ছ অত্যাচার, নির্যাতন, শোষণ ও ধারাবাহিক নীরব ধর্ষণ চালানোর বৈধ অধিকার হাতিয়ে নেয় এবং পরিণত করে সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রমাত্রে, গৃহস্থালী কাজ করার দাসীতে।

বর্তমান সমাজে বিয়ে প্রথাই কেবল একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের- জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে- স্বামী বা প্রভূর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার এখতিয়ার প্রদান করে থাকে।

যাহোক, আমি দীর্ঘ অধ্যবসায়ে, একজন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ার তাগিদে, নিজের মধ্যকার নির্যাতক, শোষক, ধর্ষক -এই প্রবৃত্তিগুলোকে বেশ মাত্রায় কমিয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি বা সযত্নে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি। সুতরাং ক্ষয়িষ্ণু এবং সুপ্তাবস্থায় থাকা প্রবৃত্তিগুলোকে জাগিয়ে তোলার বা চরিতার্থ করার ক্ষেত্রের বা অধিকারের ন্যূনতম প্রয়োজন আমার যেমন নেই ঠিক তেমনি ভাবে মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে তা প্রচন্ডরকম ক্ষতিকারকও বটে। অথচ বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রথা মেনে বিয়ে না করলে আমি কোনো মেয়েকে শারিরীক এবং মানসিকভাবে কাছে রাখার বা সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার অধিকার হারাবো। যদিও বা পাওয়া যায় তাহলেও সেটা কিছুদিনের জন্য- অন্য কোন পুরুষের সাথে মেয়েটির বিয়ে নামক কার্য সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত- এই সংক্ষিপ্ত সময়কালেও হয়তো শুধু মানসিকভাবেই কাছে পেতে পারবো শারিরীকভাবে নয়। ক্ষেত্রবিশেষে সম্ভব হলেও সামাজিকভাবে প্রচন্ডরকম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে, পুরুষ হিসেবে আমার ক্ষেত্রে যতটা নয় মেয়েটার ক্ষেত্রে অনেক বেশী রকমভাবে। আবার কোনো মেয়ের (দাসত্ব মনোভাব পোষণকারী মেয়েদের ক্ষেত্রে, আমাদের সমাজে এ ধরনের মেয়ের সংখ্যাই বেশী) সাথে প্রণয় সম্পর্কের শুরুর দিকে তাকে- না বলাটা উচিত কাজ হবে না- যদি বলে নেই যে, “তোমার সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বা সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করার জন্য কঠোর শর্তগতভাবে তোমার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সকল ধরনের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়ভার কাঁধে নেওয়ার কোনো ধরনের সদিচ্ছাই আমার মধ্যে নেই”-  এবং এ ধরনের দায়িত্বের বোঝা সামলানোও আমার পক্ষে হয়তো সম্ভবপর হবে না যেখানে আমার নিরাপত্তাই চরমভাবে বিঘ্নিত- তাহলে কেউ আমার সাথে প্রণয় সম্পর্কের সূত্রপাত করার স্পর্ধা দেখাবে- এমনটা মনে হয় না।

(নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভার কাঁধে না নিলে যেখানে তার সাথে যৌন প্রণয় উৎসারিত শারিরীক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়া যায় না, বিপরীত ক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভার কাঁধে নিলে শারিরীক সম্পর্কে জড়িত হতে ন্যুনতম যৌথপ্রনয়েরও প্রয়োজন পড়ে না, সেখানে ব্যাপারটাকে নারীর বৈধ গণিকাবৃত্তি ছাড়া আর কি নামে সম্বোধন করা যায়! অবৈধ গণিকাদের যেখানে খদ্দের অনির্দিষ্ট এবং বহুসংখ্যক এবং বৈধ গণিকাদের খদ্দের সুনির্দিষ্ট এবং একজন- পার্থক্য এটুকুই। তবে অবৈধ গণিকাদের যৌনকাজ বাদে অন্যান্য ক্ষেত্রে খদ্দেরের দাসত্ব করার প্রয়োজন পড়ে না তবে বৈধ গণিকাদের সকল ক্ষেত্রেই তার সুনির্দিষ্ট খদ্দেরের দাসত্ব করতে হয়।) 

কোনো নারীর সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ না হওয়ার কারণে ভয়ানক রকমভাবে ব্যর্থ হবো- একজন পুরুষের অনেক বড় একটা আকাঙ্ক্ষা, পিতা হওয়ার, পরিপূরণ করতে। আমাদের সমাজে বিয়ে বহির্ভূত সন্তান অবৈধ এবং সমাজের জন্য কলঙ্কস্বরূপ, নানা ধরনের ক্ষতির কারণ ও অশুভের আমদানিকারক হিসেবে চিহ্নিত হয়। ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত “গেমস অফ থ্রোনস” শিরোনামের একটা মেগা টিভি সিরিয়ালে বিয়ে বহির্ভূত মিলনের ফসল, সমাজের চোখে অবৈধ সুতরাং অবিবাহিত একজনক যুবক, যে কোনো নারীর(বেশ্যা) কাছে গমন করতে ভয় পায়- প্রচন্ডরকম যৌনাকাঙ্ক্ষা নিজের ভেতরে পোষণ করা সত্ত্বেও- কারণ সে তার মতো আরেকজন অবৈধ মানুষকে কোনোভাবেই সমাজে প্রবেশ করাতে চায় না। (তখনকার দিনে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিলো না)। সমাজে অবৈধ হওয়ার মনোযাতনা তার মতো আর কয়জন মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব! সমাজে ঐ চরিত্রটির মতো অবৈধ না হয়েও অন্যের মনোবেদনার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার কারণেই যতটুকু বুঝতে পারি, তাতেই সমাজের চোখে একজন জারজ উৎপাদন করার ইচ্ছা খুব বেশী বোধ করতে পারি না -নিজের মধ্যে প্রচন্ডরকম পিতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বোধ করা সত্ত্বেও।

আরেকটি বিষয় হলো, পুরুষতন্ত্রে আগাগোড়া মোড়া সমাজের কোনো মেয়েই সাধারণত- পুরুষতন্ত্রের চোখে অবৈধ সন্তানকে পেটে ধরার সাহস দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না। (আমাদের সমাজে এ ধরনের কোনো উদাহরণ হাতে গোনার মতোও নয়)। দুর্ঘটনাবশত প্রেমের ফসলকে কেউ নিজের গর্ভে ধারণ করে ফেললেও বুঝে উঠার সাথে সাথে সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসার ন্যূনতম ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও যথাশীঘ্র গর্ভপাত ঘটাবে এবং যদি তা করা কোনক্রমে সম্ভবপর না হয়ে উঠে তাহলে সন্তানটি জন্মের পূর্বেই নির্ঘাত আত্মহত্যা করে বসবে (আমাদের সমাজে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে)। সমাজে বিয়ে বহির্ভূত সন্তান যদিও বা শত নিগ্রহ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে, তবে কুমারী মায়ের বেঁচে থাকাটা এই সমাজে প্রায় অসম্ভব; পুরুষতন্ত্রের হাতে ক্ষণে ক্ষণে শত শত মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই সে নিজের হাতেই নিজের জীবনাবসান ঘটায়- এ ধরনের উদাহরণ আমাদের সমাজে কম নয়।

সুতরাং মানবিক মানুষ হওয়ার ইচ্ছা পোষণে আবশ্যিকভাবেই আমাকে সন্তানের পিতা হওয়ার অধিকার হারাতে হবে- এমনই একটা সমাজে আমাদের বসবাস। পাঠকের কাছে প্রশ্ন রাখি, কোনটি আমার পক্ষে উচিত কাজ হবে- সন্তানের পিতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষার পরিপূরণ নাকি মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়ার পথে অবিচল থাকা? 

আধুনিক নারীবাদের বাইবেল কথিত “দ্বিতীয় লিঙ্গ” বইতে লেখক সিমন দ্যা বুভোয়ার(নারী) অনেকটা এরকম বলেছেন, “মানুষমাত্রেই-নারী, পুরুষ নির্বিশেষে- সহজাত আকর্ষণে বা মনোদৈহিকতায় কোমলতা, পেলবতা এবং স্নিগ্ধতার দ্বারা বেশীমাত্রায় আকৃষ্ট হয়;” যেগুলো নারীর শরীরেই তুলনামূলক বেশী ফুটে উঠতে দেখা যায়। পুরুষ হয়ে জন্ম নেওয়া বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক মেয়েদের প্রতি শারিরীকভাবে তো অবশ্যই, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নানা ধরনের নির্যাতন, নিগ্রহ ও শোষণের শিকার হওয়ার ফলবশত অনেক নারীর মধ্যেই এক ধরনের দাসত্ব মনোভাব জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও- শারিরীক আকর্ষণের ফলশ্রুতি হিসেবেই হয়তো- মানসিকভাবেও তাদের সাথে মেশার আগ্রহ জন্মে।

অথচ এই সমাজ ভয়ানকরকম পুরুষতান্ত্রিক হওয়ার কারণে মেয়েদের সাথে কথা বলার বা অন্তরঙ্গভাবে মেশার তেমন কোনো ধরনের সুযোগ তৈরি হয় না। কারণ, পুরুষতন্ত্রের চোখ রাঙ্গানিতে, আজো মেয়েরা পুরুষের তুলনায় ঘর থেকে অনেক কম বের হয়; রাস্তা-ঘাটে, খেলার মাঠে, নানা ধরনের পরিবহনে, শিক্ষায়তনগুলোতে (আশার কথা শিক্ষায়তনগুলোতে নারীর পাদচারণা আগের তুলনায় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে), রেস্টুরেন্টে, ক্যাফে-চা-কফিস্টলগুলোতে, নানা ধরনের আড্ডার জায়গায় মেয়েদের উপস্থিতি পুরুষের তুলনায় অনেক কম। কিছুজনের উপস্থিতি যদিও বা লক্ষ্য করা যায়, অন্তত কাজের জায়গাগুলোতেও তাদের সাথে অন্তরঙ্গ হতে ভয়ানক রকম জড়তা এবং বাঁধো বাঁধো বোধ করি; কারণ দেখা যায় -এদের মধ্যে কিছুজন বিবাহিত বা অধিকাংশই অন্য পুরুষের সাথে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কথিত প্রেম-ভালোবাসায় (পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রেমভালোবাসা মূলত পুরুষটা কোনো একজন মানুষের শরীর-মনের মালিক হওয়ার এবং নারীর ক্ষেত্রে কোনো একজন মানুষের কাছে নিজের শরীর-মনের অধিকার সম্পূর্ণরূপে দিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বা আকাঙ্ক্ষার সাথে মিশ্রিত এক ধরনের মনোদৈহিক বাসনা বৈ কিছু নয়।) জড়িত। আর বিবাহিতরা তো তাদের দাস-মালিক সম্পর্ককে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নথিভূক্ত করে ফেলেছে। ফলে, মেয়েদের সাথে নিবিড়ভাবে মিশতে ইচ্ছা হলেই মনে হতে থাকে এমন একজন মানুষের সাথে আমি কথা বলছি বা মেশার চেষ্টা করছি যার শরীর-মনের মালিক- সে নিজে নয়-অপর একজন।

কারো সাথে কথা বলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মাঝখানে অদৃশ্য শক্তিমান আত্মার মতো আরেকজনের উপস্থিতি টের পাওয়ার অভিজ্ঞতাটা কারো কাছেই নিশ্চয় সুখকর হবে না। আমার কাছেও তা একধরনের বিড়ম্বনার মতোই মনে হয় এবং সেই অদৃশ্য শক্তিমান আত্মাটির যে কোনো মুহুর্তে আমার উপর হামলে পড়ার আশঙ্কায় ভীত হয়ে থাকি সবসময়। এই যে এরকম মনে হওয়া তা শুধু শুধু নয়, নানা ধরনের ঘটনা-উপঘটনা আমার মধ্যে এ ধরনের মনে হওয়ার ছাপ জোরালোভাবে মেরে দিয়েছে। কোনো রকম শর্তহীনভাবে কাছে পাওয়ার বাসনাটাকেই প্রেম-ভালোবাসার একমাত্র এবং উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা বলে মানি। অথচ আমাদের সমাজে-পুরুষতন্ত্রের সদর্প উপস্থিতি থাকা পর্যন্ত- সেরকমটি হওয়ার কোনো জো নেই। সমাজে পুরুষতন্ত্রের উপস্থিতির কারণেই সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত যারা তাদের সাথে মেশার সুযোগটুকুও হারাই।

এর পরেও উপরের শিরোনাম দেখে কোনো পাঠকের চমকে উঠার আর কোনো বাড়তি কারণ থাকতে পারে বলে মনে হয় না।

    


  • ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

মেহেদী হাসান

জন্ম ১৯৮৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের মাছিমপুরে নানার কর্মস্থলে । বেড়ে উঠেছেন টাঙ্গাইলের ক্ষেত খামারে ছাওয়া সভ্যতার আলোহীন এক নিভৃত গ্রামে। স্থানীয় স্কুল কলেজে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে প্রাতিষ্ঠানিক লেখা-পড়ার পাট চুকিয়েছেন। শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তার বিরামহীন ভালোবাসার কারনে স্থান হয়েছে সমাজের নির্জনতম কোনে- সেখানেই বসবাস। সমাজ-রাষ্ট্রের শ্যাওলা ধরা প্রথা-প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে নিঃসঙ্গ ঝাঁক চ্যুত মাছের মতই সাহিত্যের জলে সাতার কাটতে ভালোবাসেন । তিনি মূলত একজন পাঠক- নিজেকে অবিরাম পাঠ করতে চাওয়ার তাড়না থেকেই লেখা-লেখির জগতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রবেশ। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য আকারে নিজেকে, নিজের স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন, চিন্তা, অনুভূতি, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া, চারপাশের পরিবেশ যেভাবে মনের আয়নায় প্রতিফলিত হয়- প্রকাশ করে চলেছেন এখন পর্যন্ত। গল্প গ্রন্থ “অসময়ের গল্প”- বই আকারে নিজেকে প্রথমবারের মত প্রকাশ। স্বপ্ন দেখেন- এই সময়ের আলোতে তার স্বপ্নেরা পঙ্গু, বিবর্ণ -গন্ধ, আকার, পুষ্টিহীন- অন্ধ, বোবা, কানে শোনে না। ওরা মাঝে মাঝে প্রচন্ড জেদী-একগুয়েমী আচরণ করে, তাকে ও তার পরিজনকে বিড়ম্বনায় ফেলে দেয়। স্বপ্নগুলো নানা ধরনের ঘাতক রোগ ব্যধিতে প্রতিনিয়ত হয় আক্রান্ত। যদিও মাঝে মাঝে তারা উলম্ফ-উদ্বাহু নৃত্য জুড়ে দেয়, দিক্বিদিক ছুটে বেড়ায় উন্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নীচে, পাখি হয়ে শূন্যে ডানা মেলে উড়ে । এখনো কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বপ্নকে লালন করার পাশাপাশি তার অসুস্থ স্বপ্নগুলোকে ঔষধ-পথ্য দেয়। তার মুমূর্ষু স্বপ্নেরা গড়িয়ে-গড়িয়ে, হাতড়ে-হাতড়ে, ডানা ঝাপটিয়ে এখনও অসময়কে পিছনে ফেলে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে । ইদানিং সময়ে বিশ্বসাহিত্য অনুবাদের কাজও করে চলেছেন ।

ফেসবুকে আমরা