পুরুষের বহুগামিতার পাশাপাশি নারীর বহুগামিতাও সমাজ স্বীকৃতি পাক

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৯ ১:০৬ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


আমি সত্যিই নির্বাক! আমার লজ্জা হয় এ কথা বলতে "আমি বাংলাদেশ নামক এক অসভ্য, মুর্খ, অমানবিক, মানসিক রোগীতে ভরপুর এক দেশে জন্মেছি"। গতকাল আমার এক লেখা "নারী"তে প্রকাশিত হবার পর এই উপলব্ধি আরো স্পষ্ট হয় আমার কাছে। যে লেখা নিয়ে পাবলিক মতামত অজস্র, অলংকারময় গালাগালিতে ভরপুর! ফিল্টার ম্যাসেজগুলা নিয়ে কথা আর না ই বলি! অন্যদিকে মিতুর বোনের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের কমেন্ট পড়লে বোঝা যায় কি পরিমাণ মানসিক রোগী আছে এই বঙ্গে।

প্রথমত, এই যে একজন সাইবার ক্রাইম কইরা মরছে, তারে বাদ দিয়া আপনারা ওই অপরাধীর কথার উপ্রে ভিত্তি কইরা "অপরাধী কতৃক অভিযুক্ত" মানুষটারে "বেশ্যা" বইলা গালি ক্যান দিতাছেন? হ্যাঁ, "বেশ্যা" শব্দটাতে আমার আপত্তি আছে, থাকবেও যতদিন না "বেশ্যা" শব্দটার পুরুষবাচক শব্দ সৃষ্টি হবে না কিংবা "বেশ্যা" শব্দটা ক্লিবলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত না হবে। এখন কাজের কথায় আসি, প্রচলিত "বেশ্যা" শব্দের অর্থ কি? এর অর্থ হইলো, "টাকাপয়সা কিংবা সুযোগ সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে শরীর বেচা"। এখানে মিতু কি সেটা করেছেন? করেন নি। তিনি শারীরিক চাহিদা, ভালোলাগা থেকে বহুগামিতার চর্চা করেছেন। তাহলে এই যে ধনওয়ালা পুরুষ এবং সতী সাবিত্রী নারীগণ কোন আক্কেলে আপনারা মিতুকে "বেশ্যা" আখ্যা দিতাছেন? আপনাগো মগজ সুস্থ আছে তো নাকি "মাইয়া মাইনষের বহুগামিতায়" বিচি কিংবা ভ্যাজাইনা কম্পিত হইয়া গেছে?

দ্বিতীয়ত আপনারা যে "ভালোবাসা "চোদাচ্ছেন, নিজেরা কোনোদিন কাউরে ভালোবাসছেন? ভালোবাসলে প্রেয়সী কিংবা প্রেয়সকে এভাবে কেউ জনসম্মুখে চরিত্রহনন করেন না। বুঝলাম ভালোবাসার ঠেলায় বউয়ের বহুগামিতা মাইনা না নিতে পেরে আকাশ বেচারা আত্মহত্যা করছে, কিন্তু তিনি যদি আদৌ সত্যিকারের ভালোই বাসতেন নিজে নীরবে মইরা যাইতেন এবং চাইতেন "আমার ভালোবাসা ভালো থাকুক, সুস্থ জীবনযাপন করুক তার নিজের ভালোলাগা, ফ্যান্টাসি নিয়া"। আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতেন না "তুমি ভালো থেকো তোমার প্রেমিকাদের নিয়ে"। ভালোবাসলে তার বউয়ের প্রাইভেট ছবি কিংবা চ্যাট জনগণের সামনে উপস্থাপন করতেন না। আপনারা এইডারে "ভালোবাসা" বলেন! কতো হাইস্যকর আপনারা!

তৃতীয়ত, আকাশ মিতুর ঘটনার মধ্য দিয়ে "নারীর বহুগামিতার" নিদর্শন কিছুটা হলেও লক্ষণীয়। নারী যে টাকা, সুবিধা ছাড়াও শারীরিক তৃপ্তির জন্য শুয়ে থাকেন কিংবা নারীর জীবনেও যৌনতার অস্তিত্ব আছে সেটা "নারীর যৌনতা নিষিদ্ধ" নামক সমাজ, দেশ জানতে পারলো। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে, আমরা শুধু আকাশের একপাক্ষিক বয়ানের উপর ভিত্তি করে জাজমেন্টাল হইতে পারি না৷ তার বউ যে যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ পাইলো, এটাও আকাশের মস্তিষ্ক ব্যথার কারণ হইতে পারে এই মর্মে "ওইখানে যেয়ে কি না কি করবে রে"! এদিকে বউডারে ডাইভোরস দেওয়া ঝামেলা তো কারণ "দেনমোহর", "সামাজিক মানসম্মান"।

চতুর্থত, আপনারা নারীগণ দয়া কইরা আপনাদের আত্মা, অস্তিত্ব এবং ভ্যাজাইনা ৩০/৩৫ লাখ টাকার বদলে বেচাবিক্রি বন্ধ করেন। এইটা খুবই অসম্মানজনক ব্যাপার। খুবই! পুরা নারীজাতির জন্য অসম্মানজনক। এই সংস্কৃতিটা দয়া কইরা বদলান, আপনারা নারীজাতি চাইলেই এই প্রথা বদলানো সম্ভব। অন্যথায় আজীবন "কেনাদাসী" হইয়াই থাকতে হইবো আপনাদের। যার দরুন উঠতে, বসতে, হাগতে, মুততে, শুইতে, চুদতে, খাইতে, পড়তে পুরুষের ঝাটা, জুতাই কপালে জুটবে।

শেষত, এই বঙ্গদেশে কতো নারী তার স্বামীর পরকীয়ার ফলে আত্মহত্যা করেছে সেই হিসাবটা কি আছে? সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তে উত্তরায় বাবার পরকীয়ার ফলে দুই কিশোর ভাইবোনের আত্মহত্যার কথা কি ভুলে গেছেন? এমন অজস্র ঘটনা আপনাদের চোখের সামনে ঘটেছে। তখন কেনো আপনারা ওই সকল পরকীয়াসক্ত পুরুষদের "গুষ্ঠি উদ্ধার" করেন নাই? কেনো ওই সকল পুরুষকে "বেশ্যা' বলেন নাই? কেনো ওই সকল পুরুষের ফাঁসি চান নাই? কেনো? "পুরুষ মানুষ একটু আধটু করবেই", "ধর্মের আদেশ স্বামীর বহুগামিতা মেনে নেওয়া" কারণ এইগুলা তো?

হিহি, দিনকাল পাল্টাইছে ভাইয়েরা। এখন নারীগণও একটু আধটু করবেই, আপনারা মাইনা নিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে শেখেন। তবে কথা একটাই, নারীপুরুষ উভয়েই তাদের সঙ্গীকে নিজেদের পলিগামিতা কিংবা মনোগামিতার ব্যাপারে সম্পর্কের শুরুতেই জানান অথবা সম্পর্ক শুরুর পর হঠাৎ কোনো এক সময়ে আপনি লক্ষ্য করলেন আপনি মনোগামী থাইকা বহুগামী হইয়া গেছেন, ঠিক সেই মুহুর্তেই সঙ্গীকে জানান। লুকায়িত সম্পর্কের পরিণতি ভয়াবহ, খুবই!

সুতরাং, সব থেকে ভালো হয় আপনারা নারীপুরুষ উভয়েই সৎ, সাহসী, মানবিক এবং নিরপেক্ষ হন। কষ্ট কইরা হলেও একটু ভাবতে চেষ্টা করেন আপনি যেমন "বহু ভ্যাজাইনায়" আসক্ত, আকৃষ্ট ঠিক তেমনি নারীও স্বাদ নিতে চায় বহু পুরুষের লিঙ্গের, ওষ্ঠের। তেমন কিছু না, "নারী হয় মানুষ" এটা ভাবতে পারলেই চলবে। দেখবেন আপনার সন্দেহবাতিকগ্রস্ততা লোপ পেয়েছে, নিজ কর্মে মন দিতে পারছেন। আপনার জীবন সুস্থ, সরল বনে গেছে।


  • ৩৫৬০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা

শিক্ষার্থী (ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং নারীবাদী লেখক।

ফেসবুকে আমরা