রোজীনা বেগম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স করেছেন।

ধর্ষণ (ডেট রেইপ), কমিউনিকেটিভ সেক্সুয়ালিটি এবং বাংলাদেশের ধর্ষণের অতিমারি না থামার কারণ

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ১৬২৭ জন। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৫৩ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন (তথ্যসুত্র-১)। সম্মতি ছাড়া কিংবা বল বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সম্মতি আদায় করে অপর পক্ষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনই ধর্ষণ। সকল ধর্ষণই মূলত ক্ষমতা চর্চার বহিঃপ্রকাশ। বল প্রয়োগের মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে কাউকে বাধ্য করা হলে তা ধর্ষণ কিন্তু বলপ্রয়োগ ছাড়াও অনেক সময় ধর্ষণ হয়। সম্পর্ক যখন আবেগতাড়িত হয় কিংবা সেখানে কর্তৃত্ববাদী কাঠামো বিরাজমান থাকে তবে তা ভুক্তভোগীর প্রতিরোধকে দুর্বল করে দেয়, ভুক্তভোগীর দৃষ্টিভঙ্গিকে বিভ্রান্ত করা হয় যা ভুক্তভোগীকে ধন্ধে ফেলে দেয়, এধনের শারীরিক সম্পর্কও ধর্ষণ।

ছবিঃ ধর্ষণবিরোধী গ্রাফিতি। উৎসঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। (এই গ্রাফিতি আঁকার জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর,২০২০ ছাত্র ইউনিয়নের দুজন কর্মীকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় এবং পরে ছেড়ে দেয়। সূত্রঃ নিউ এজ)

প্রতি বছর নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই নারীর প্রতি ঘটে যাওয়া যৌন সহিংসতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা, তাঁর শারীরিক, মানসিক ক্ষতিকে স্বীকার করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া এবং অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে বরং ধর্ষণের জন্য নারীকে এবং নারীর পোশাককে এবং নারীর চলাফেরাকে দায়ী করা হয় এবং ভুক্তভোগীর ওপর দোষ চাপিয়ে দায় মুক্তির একটা সংস্কৃতি চলমান রাখা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর মাস্টারমাইন্ড স্কুলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যুর ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়। ধর্ষণের ফলে যে মেয়েটির মৃত্যু হলো তাঁকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে “দোষী” বলে। সমাজের একটা অংশ ধর্ষণের কারণে প্রাণ হারানো মেয়েটিকেই দোষারোপ করাসহ নানা রকম মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার গুরুতর অভিযোগ করেছেন অভিযুক্তের পরিবার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে। উপরন্তু নারীদেরকেই সাবধান থাকার প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে, অথচ ধর্ষণের জন্য দায়ী পুরুষের জন্য এরকম কোনো প্রেসক্রিপশন চোখে পড়েনি। পিতৃতান্ত্রিক মোড়লদের আলোচনায় যৌন সংসর্গে নারীর ‘সচেতন সম্মতি’র ব্যাপারটা একদম উহ্য রাখা হয়েছে যেখানে যৌনতার ক্ষেত্রে সচেতন সম্মতিই মূল ব্যাপার। নারী যৌন সম্পর্কের জন্য সম্মতি দেবার পরও, সম্পর্কের কোনো এক পর্যায়ে যদি অস্বস্তি বোধ করেন, আনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং পুরুষ সঙ্গী তাতে গুরুত্ব না দিয়ে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যান তবে তা ধর্ষণ। সচেতন সম্মতির এই ব্যাপারটা সকল রকম যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এমনকি একজন যৌন কর্মীর বেলায়ও এটা ততখানিই সত্য।

ধর্ষণের এই অতিমারিতে দেশের রাজনৈতিক নারী নেত্রীবৃন্দ একরকম মৌনব্রত পালন করে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ ইস্যুতে কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না। এর কারণও রাজনৈতিক। সমাজের একটা অংশ ধর্ষণের ঘটনাকে ‘বিকৃত যৌনাচার’ বলে ধর্ষণের মতো অপরাধকে লঘু করতে চান কিন্তু আসলেই ধর্ষণ কি বিকৃত যৌনাচার? তাই যদি হয় তাহলে বিভিন্ন রেজিমে ক্ষমতাসীন দলের লোকদের এবং ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান করা লোকদের মধ্যে এই ‘বিকৃতি’ দেখা যায় কেনো? কারণ ধর্ষণ বিকৃত যৌনাচার নয় বরং ক্ষমতার চর্চা। নারীকে অধস্তন ধরে নিয়ে তাঁর ওপর নিজের বল প্রয়োগের মাধ্যমে আধিপত্যের চর্চা করা। ধর্ষণ সামাজিক সমস্যা হলেও এর কারণ হলো রাজনৈতিক, ধর্ষণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা না করার মতো এবং ধর্ষণ বন্ধ করার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অনুপস্থিতি স্পষ্টত লক্ষণীয়, ধর্ষণের পরিসংখ্যান দেখেই তা বোঝা যায়। ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন মোট ১৪১৩ নারী এবং ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৭৩২ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌন হয়রানী ও উত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ২০১ জন নারী (তথ্যসূত্র-২)। দেশের মোট ৬৭ টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের তথ্যমতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ২০২০ সালে ধর্ষণের/যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪২৬টি (তথ্যসূত্র-৩)। সরকারি হিসেবে শুধু অক্টোবরে যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২২৩টি (তথ্যসূত্র-৪)। ২০২০ সালে নারীর ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হন ১০৬ পুরুষ। একই বছর উত্যক্তকরণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ নারী। এ ছাড়া যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ জন নারী ও ১১ পুরুষসহ খুন হয়েছেন মোট ১৪ জন (তথ্যসূত্র-৫)।

ডেট রেপ এবং কমিউনিকেটিভ সেক্সুয়ালিটি:

২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকার একটি শিরোনাম ছিলো স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ এবং...”, এই শিরোনামই প্রকৃত অবস্থার জানান দিচ্ছে (তথ্যসূত্র-৬)। ধর্ষণকে বোঝার জন্য Susan Brownmiller এর লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই হল ‘Against Our Will’ । এই বইটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নির্যাতিত নারীদের নিয়ে প্রথমদিকের একটি দলিলও বটে। তিনি ধর্ষণকে বোঝার জন্য বিভিন্ন সমাজতাত্ত্বিক, নৃবৈজ্ঞানিক এবং মনস্তাত্বিক গবেষণা উপস্থাপন করেন। ‘ডেট রেপ’ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ডেট রেইপ ও ধর্ষণে অপরাধী ব্যক্তি ভুক্তভোগীর সাথে আগে থেকে সম্পর্কে থাকলে সেখানে প্রভাব খাটিয়ে বাধ্য করা হয় যা ভুক্তভোগীর দৃঢ় প্রতিরোধের বিরুদ্ধে কাজ করে। এখানে ব্যক্তির প্রভাব কিংবা কর্তৃত্ব প্রত্যাশিত আচরণের রূপ নেয়। এরকম ডেটিং পরিস্থিতিতে নিপীড়নকারী বল প্রয়োগের এমন পর্যায়ে উপনীত হতে পারে যেখানে আনন্দময়তা দ্রুত নিরানন্দময়তায় পর্যবসিত হয় এবং নারীটি যাতে সম্মত হয় তার চেয়ে বেশি কিছু ঘটে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত যা বলতে চায় না তা হলো যে “মেয়েটি পরবর্তীতে তাঁর ইচ্ছে পরিবর্তন করেছিল (তথ্যসূত্র-৭)।

নারীরা ঘরে, বাসে, অফিসে সবখানেই ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন, এমনকি প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। তাহলে কেমন হবে যৌন সম্পর্ক/ সচেতন সম্মতিমূলক যৌন সম্পর্ক? যৌন সম্পর্ক হতে হবে আদান-প্রদানমূলক। ‘ডেট রেইপ’ নিয়ে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে Lois Pineau একটি গবেষণা নিবন্ধ লেখেন, “Date Rape: A Feminist Analysis” নামে যেটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। তাঁর লেখায় তিনি কমিউনিকেটিভ সেক্সুয়ালিটি বা যোগাযোগমূলক যৌন সম্পর্ক কিংবা আদান-প্রদানমূলক যৌন সম্পর্কের কথা বলেন। পিনোর মতে কমিউনিকেটিভ সেক্সুয়ালিটি হলো এমন একটি যৌন সম্পর্ক যা স্বাচ্ছন্দ্য হবে, যোগাযোগ বা আদানপ্রদানমূলক হবে, যেখানে কোনো প্রকার শারিরীক-মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হবে না এবং যৌনতার সময় সার্বক্ষণিক সঙ্গীর অবস্থার ওপর নজর রাখা হবে। এই মডেলকে পিনো বলেছেন কমিউনিকেটিভ সেক্সুয়ালিটি। অর্থাৎ উভয়ের সম্মতিক্রমে কোনোরকম বলপ্রয়োগ ব্যতিরেকে একটি স্বচ্ছন্দ পরিবেশে যৌন সম্পর্ক হতে হবে যেখানে যৌন সঙ্গী সবসময় খেয়াল রাখবেন অপরজনের শারীরিক মানসিক অবস্থার প্রতি। আদানপ্রদানমূলক যৌনতা উভয়ের জন্য উপভোগ্য কারণ সেখানে একে অপরের উপর কোনো আধিপত্য থাকে না। পিনো আরও বলেছেন যেখানে কমিউনিকেটিভ সেক্সুয়ালিটি থাকে না সেখানে এটি সম্মতিমূলক যৌনতা বলে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই(তথ্যসূত্র-৮)।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যৌনতা, নারীবাদ এবং পুরুষ কর্তৃক নারীদের ওপর নির্যাতনের বৌদ্ধিক আলোচনা অনুপস্থিত থাকে এবং এই আলোচনাগুলো গৌণ বিষয় রুপে পরিগণিত হয়। যখন যৌনতা কিংবা পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্বের প্রশ্ন তোলা হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তখনই বিতর্ক শুরু হয়। মার্ক্সবাদ বনাম নারীবাদ, অর্থনৈতিক সমতা বনাম যৌনতার সমতা, জাতীয় বিপ্লব বনাম নারী অধিকার যেনো এই ধারনাগুলোকে পরস্পর বিরোধী হতে হবে, যেনো একজনের জীবন বাঁচানো মানে আরেকজনের মৃত্যু। অথচ এই বিষয়গুলোকে বাইনারি না করেও আলোচনা চালানো যায় (তথ্যসূত্র-৯)

ছবিঃ ধর্ষণের বিরুদ্ধে নারীদের প্রতিবাদ। উৎসঃ ইন্টারনেট

বাংলাদেশের ধর্ষণের অতিমারি না থামার কারণ:

বাংলদেশে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ না থামার প্রধান কারণ হলো বিচারহীনতা এবং সামাজিক অন্যায্যতা। ২০২০ সালের ঢাকা ট্রিবিউনের একটি রিপোর্ট জানাচ্ছে যে বাংলাদেশে ধর্ষণের মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র ৩% এর বিচার হয় (তথ্যসূত্র-১০)। যে রাষ্ট্রে প্রতি ১০০ টা ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ৯৭ টি-ই বিচারের বাইরে থাকে সেখানে ধর্ষণ বন্ধ হবার কোনো কারণ নেই। ২০১৭ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলায় বিচারে সাজা পাওয়ার হার ১ শতাংশ।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ এর মাধ্যমে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিচার করা হয়। এই আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায়ন সহ বেশকিছু সমস্যা রয়েছে, যাতে অনেক সময় ধর্ষণ হয়েছে আদালতে তা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই আইনের সংজ্ঞায়নে ধর্ষণ প্রমাণে জটিলতার পাশাপাশি বৈবাহিক সম্পর্কে ধর্ষণকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও প্রতীয়মান হয়। যে নির্দিষ্ট সময়ে পুলিশ প্রতিবেদন দেয়ার আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাও মানা হয় না। বিভিন্ন সময় ধর্ষণে অভিযুক্ত গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তিকে দ্রুত জামিন দেয়া হয় এবং জামিনে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগীকে আবার নিপীড়ন করে। তাছাড়া সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে ধর্ষককে বিয়ের শর্তে জামিন দেয়া এবং ধর্ষণে অভিযুক্তের সঙ্গে কোর্ট চত্ত্বরে (তথ্যসূত্র-১১), কারাফটকে অভিযুক্তের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ের আয়োজনের শর্তে (তথ্যসূত্র-১২) জামিনের নজির দেখা গেছে।

২০২০ সালে এই আইনের সংশোধন করে ১২ অক্টোবর, ২০২০ এ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মৃত্যুদণ্ড বিধানটি যুক্ত করে সংশোধনীর মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাশ করা হয়। মানবাধিকার ও নারী সংগঠনসমূহের মতে, কেবল সাজা বাড়িয়ে ধর্ষণের মতো সামাজিক অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মানবাধিকার ও নারী সংগঠনসমূহের বিরোধিতা সত্ত্বেও এই আইন পাশ হয়। শুধু শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করলেই ধর্ষণ থামবে না –এটা প্রমাণিত হয় যখন গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হওয়ার পরও অব্যাহতভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে থাকে। আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ১৬০ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। (তথ্যসূত্র-১৩)।

ভারতীয় সমাজ সংস্কৃতিতে ধর্ষণ নিয়ে মারগারেট মীড অনেকটা এরকম মন্তব্য করেছেন যে, যে সকল নারীকে সমাজ ‘খারাপ নারী’ বলে মনে করে তাদেরকে পুরুষরা সহজলভ্য মনে করে এবং ধর্ষণ করে। এই খারাপ নারী হলো তাঁরা যাদের কোনো পুরুষ সঙ্গী নেই তাদের ‘রক্ষা’ করার জন্য এবং যারা গালাগালি করে এবং অন্যের সঙ্গে বিতর্কে জড়ায়। সতরাং, ধর্ষণ বন্ধ করতে নারীর প্রতি পিতৃতান্ত্রিক সমাজের আধিপত্যমূলক সম্পর্কের ইতি ঘটিয়ে নারীপুরুষের সকল বৈষম্য ঘুচিয়ে সমান মর্যাদাভিত্তিক সমাজ গড়তে হবে।

বাংলাদেশে ধর্ষণের মতো অপরাধ বন্ধ না হওয়ার বেশকিছু কারণ আছে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কোনরকম যৌনশিক্ষা ছাড়াই বড় হয় এবং যৌনজীবনে প্রবেশ করে। সঠিক যৌন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, এই দায়িত্ব রাষ্ট্র এবং সমাজকেই নিতে হবে। সমাজ, ধর্ষণ নিয়ে কথা বলতে না পারা হলো দুর্বলতা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো চায় না নারীরা ধর্ষণ নিয়ে কথা বলুক। ধর্ষণ নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে না পারা নারী-পুরুষ সম্পর্কের মধ্যেকার ক্ষমতা কাঠামোর কর্তৃত্বাধীনতার প্রকাশ মাত্র। যৌনতা এবং যৌন সহিংসতা নিয়ে সাবলীলভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সামাজিক ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

 

উৎসঃ
১। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২০: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) 
২। পূর্বোক্ত
৩। http://mspvaw.gov.bd/contain/29
৪। পূর্বোক্ত
৫। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২০: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
৬। প্রথম আলো  
৭। Susan Brownmiller, Against Our Will (1975)
৮। Lois Pineau, Date Rape: A Feminist Analysis (1989)
৯। Chandra Talpade Mohanty, Third World Women and the Politics of Feminism (1991)
১০। ঢাকা ট্রিবিউন  
১১। যুগান্তর
১২। ইত্তেফাক
১৩। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২০: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

1141 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।