রোজীনা বেগম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স করেছেন।

ধর্ষণ বন্ধে পতিতালয় নয়, দরকার সঠিক যৌনশিক্ষা ও যৌন অবদমন মুক্ত সমাজ

ধর্ষণ বন্ধে ব্রোথেল স্থাপন চাওয়া মানে নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখতে অন্যের সন্তানকে ব্রোথেলে ঠেলে দেওয়ার মতো। সেক্স ইন্ডাস্ট্রিতে বেশিরভাগ নারীকে জোরপূর্বক আনা হয়, বিক্রি করে দেয়া হয়। এর মধ্যে শিশুও থাকে। এটাকে যারা স্বেচ্ছায় পেশা হিসেবে নিয়েছেন তাঁদের জন্য ঠিক আছে, কিন্তু ধর্ষণ রোধে ব্রোথেল খোলা আত্মঘাতী হবে। নতুন ব্রোথেল খোলা হলে সেগুলো পূরণ করবে কারা, আমাদেরই সন্তানরা!

বাংলাদেশের ব্রোথেলে নারী ও শিশু নিপীড়নের ওপর 'The living hell of young girls enslaved in Bangladesh's brothels' শিরোনামে বিগত সাত তারিখে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত আর্টিকেলখানা পড়ে দেখতে পারেন। যেভাবে নতুন ব্রোথেল করার দাবি করা হচ্ছে তা ক্রসফায়ার আহবান করার মতোই। ক্রসফায়ার রোধে নিয়মিত আয়োজন করে অন্য মানুষকে বন্দুকের সামনে সরবরাহ করার মত ব্যাপার এটা। এই রাষ্ট্র যেভাবে এগোচ্ছে এবং যতো পুরুষতান্ত্রিক লোকে ভরা এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাতে সন্দেহ হয় ব্রোথেল খোলার দাবি তাদের বাসনায় ঘৃতাহুতি হয়ে কাজ করবে। বিচারবহির্ভূত কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ায় হলেও হত্যা যেমন হত্যাই থেকে যায় তেমনি ব্রোথেলেও, যার সন্তানের ওপর বল প্রয়োগ করা হোক না কেনো নিপীড়িত হয় মানব সন্তান।

দেশে সেক্স এডুকেশনের কি অবস্থা সেটা তো দৃশ্যমান। দু'জন তরুণ-তরুণী একসাথে রাস্তায় হাঁটা কিংবা আড্ডা দেয়া এখনো গ্রামগুলোতে কিভাবে দেখা হয় সেটা বড় শহরে বসে বোঝা যায় না। এইসব খুন, ধর্ষণ, বিনা ক্রসফায়ারে, বিনা ব্রোথেল তৈরীর মাধ্যমেও থামানো সম্ভব তবে এর জন্য এই রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন আনতে হবে যেটা অসম্ভব কিছু নয়। ধর্ষণ রুখতে হলে একটা যৌন অবদমনমুক্ত সমাজ তৈরী করতে পারতে হবে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে রাষ্ট্রকে বের করে আনতে হবে। একটা শিশুর সামাজিকীকরণ সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত রাষ্ট্র যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করে তাহলে এরকম ধর্ষক তৈরী হবে না, রাষ্ট্রের দেওয়া পোশাক পরেও এবং রাষ্ট্রীয় নির্দেশ থাকার পরেও কারোও বুকে বন্দুক ধরতে হাত উঠবে না।

1049 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।