রুকাইয়া সাওম লীনা

ফ্যাশন ডিজাইনার।

বোরখার বাংলাদেশ

আপনারা যখন যেটা ভাইরাল করছেন, তাতে আপনারা বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করছেন! জেনে বা না জেনেই পৃথিবীর সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন! আপনি কেমন মানুষ? কী ধরনের চর্চা করেন ? সেটা অবশ্যই আপনার প্রকাশ্য বিষয় থেকেই বাইরের মানুষ জানতে পারবে! আপনি কী পোশাক পড়ছেন? কী ধরনের কথা বলেন? কী ধরনের জিনিস আপনি দেখেন? আপনি কাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন? আপনি কী লাইক দিচ্ছেন? কী ডিজলাইক দিচ্ছেন? সব কিন্তু আপনাকে জানতে সাহায্য করে!

তাই পোশাক অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়! আপনি আপনার সংস্কৃতির ধারক বাহক হিসেবে কোন পোশাককে সকলের সামনে তুলে ধরবেন, সেটা আপনার আদর্শকে তুলে ধরবে! পোশাক দিয়ে আপনার কাজকে বিবেচনা না করলেও! পোশাক থেকে আপনার আদর্শকে আলাদা করা যাবে না! আপনার পোশাক অবশ্যই আপনার আদর্শের ধারক বাহক!

সেই ধারাবাহিকতায়, এতোদিন সবাই বাংলাদেশকে জানত হিজাবের দেশ হিসেবে! যেখানে নারীরা বাহারি পোশাকের সঙ্গে মাথায় বাহারি হিজাব পড়তো! কখনো-সখনো হিজাবের উপর ফুল, কপালের টিপ ইত্যাদিও দেখা গেছে! বর্তমানে বাংলাদেশে বোরখার দেশ হিসেবে সকলের সামনে উঠে এসেছে! বোরখা পরে ক্রিকেট খেলছেন, এতে হাততালি দেওয়ার কিছু নেই! আমি কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে বোরখা পরে ক্রিকেট খেলতে পারব না! যিনি খেলছেন, তিনি খেলোয়াড়! পোশাকটা হচ্ছে তার আদর্শ! এটা তার সংস্কৃতি!

যদি এটা তার সংস্কৃতি হয়! তবে তিনি কি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন? যদি আপনাদের উত্তর হয় হ্যাঁ তবে বাংলাদেশে বোরখার দেশ! আর যদি হয় না! তবে তিনি কোন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন? ছবিটি ভাইরাল হতে দেখে আমার কিন্তু সৌদি আরবের কথা মনে পড়েছে! ছবিটি প্রথম দেখে আমার তাদের কথাই মনে পরেছে! যেখানে মেয়েরা বোরখা পড়ে বীচে যায়! বোরখা পড়ে পার্টিতে নাচে!

সৌদি আরবে বা ইরানে নারীরা কি খুশি হয়ে বোরখা পরে? নাকি তাদেরকে জোর করে তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়? সৌদি বা ইরানি নারীরা মাই চয়েজ বলে রাস্তায় মিছিল করে না! কিন্তু আমরা করি! তবে বোরখা হোক আমাদের জাতীয় পোশাক? হিজাবের পর আমরা তো এখন বোরখার পথেই!

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।