মেয়েদের শুধু সাহসটা প্রয়োজন : প্রসঙ্গ #metoo

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮ ৪:৫৯ PM | বিভাগ : আলোচিত


একটা মেয়ে যখন তার সাথে হওয়া নির্যাতনের ঘটনাগুলো বলে সমাজ তখন তার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। যেনো নির্যাতিত হওয়া কুৎসিত একটি অপরাধ। যে পুরুষগুলো যৌন উত্তেজনার কারনে নিরীহ গরু-ছাগল, কুকুর-বিড়ালগুলোকেও ছাড়ে না তারা নাকি ভদ্র মেয়েদের উত্যক্ত করে না! যেনো খারাপ মেয়েদের উত্যক্ত করা পুরুষদের একটি নৈতিক দায়িত্ব যা তাদের সকলেরই ত্রুটিহীনভাবে পালন করা উচিৎ।

আমি নিজে যখন ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েছি, নিজেদের নারীবাদী দাবি করে এমন পুরুষেরাও বলেছে, হয় আমার চরিত্রে সমস্যা আছে নয় আমিও একজন ধর্ষিত। যখন তৃতীয় লিঙ্গের নির্যাতিত মানুষগুলোর পক্ষে কথা বলেছি তখন ওরা আরো দ্বিগুন উৎসাহে বলেছে , 'ওসব ধর্ষিত হিজরাদের কথা শুনে কাজ নেই '।

সমাজের সবচেয়ে বড় নিয়ম হলো তারা ক্ষমতার পদতলে মাথা বাঁচিয়ে চলে। আজ সারা বিশ্বের নারীরা তাদের যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বলছেন, যদিও অধিকাংশেই বলছেন না তবুও এই গুটিকয়েক নারীর আওয়াজটাই জোরালো হতে হবে যাতে সে আওয়াজে অন্যদের মনের ভয় আর জড়তা দূর হয়ে যায়। পুরুষতন্ত্রকে পুরুষ নিজের স্বার্থেই তৈরী করেছে আবার নিজের স্বার্থেই ধ্বংস করবে, মাঝখান থেকে এই নারীরা অত্যাচারিত হবে এবং তাদের নির্যাতনের বিচার পাবে না, যদি না তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখে, পুরুষকে তার কর্মফল বুঝিয়ে দেয় ।

বাংলাদেশে এমন কোনো নারী নেই যে জীবনে কোনোদিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয় নি। ছোটোবেলা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে ভাবতাম দোষটা আমার, আমার শরীরের, আমার নারীত্বের। নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য কাউকে কিছু বলতাম না। যখন বুঝতে শিখেছি দোষটা কার তখন থেকে নিজের ঘর থেকে শুরু করে পৃথিবীর কোনো পুরুষকেই ছাড় দেই নি এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বোবা মেয়ে পুতুলগুলোকে সেই অভিজ্ঞতা থেকে সাহস জুগিয়ে চলেছি।

আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি নারীদের শুধুমাত্র এই একটা জিনিসই প্রয়োজন 'সাহস'। পুরুষ আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাদের কর্মফল কড়ায়-গন্ডায় ঠিকই ভোগ করবে।

জোর করে যৌনকর্ম করাটাই ধর্ষণ। কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সাথেও জোর করে যৌনক্রিয়া করেন তবে সেটাও ধর্ষণ। বাংলাদেশে এমন কোনো বিবাহিত নারী নেই যে একাধিকবার এভাবে ধর্ষিত হয় নি। এটা বাসর রাত থেকেই শুরু হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এই ধর্ষণকে বিয়ে নামক এক বৈধতার সার্টিফিকেট দিয়েছে। কোটিতে একটা দুটো ব্যতিক্রম থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু ব্যতিক্রম কখনো উদাহরন হতে পারে না।

'বাসর ঘরে রক্তপাত না হলে দেশ আগেই স্বাধীন হয়ে গেছে', 'বিয়ে করেছে ভরন-পোষন দিচ্ছে তো করবে না', 'পুরুষ মানুষ একটু ওরকম হয়ই' -এই কথাগুলো প্রচলিত এবং এগুলো যে নারীরা বলে তারা জীবনে শতশতবার ধর্ষিত হয়েছে এবং হবে আর যে পুরুষেরা বলে তারা প্রতিনিয়তই ধর্ষণ করে চলছে। সময়ের নীতিমতো এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার নারী পুরুষগুলো তাদের কর্মফল ঠিকই পাবে, ঠিক একইভাবে তারা ধর্ষিত হবে। তবে পুরুষের লেজ পূজো করা একদিন ঠিকই বন্ধ হবে। এরজন্য মেয়েদেরকে হতে হবে সাহসী।

বড়লোক পিতা-মাতার ভদ্র-শিক্ষিত অথচ স্বামী দ্বারা ধর্ষিত মেয়েগুলোর চেয়ে আমার কাছে পতিতা বা বেশ্যা নামে পরিচিত অর্থলোভী, মাসে মাসে জামাই পাল্টানো মেয়েগুলোকেই বরং ভালো মনে হয়। কারণ ওরা কোনো পুরুষ জোর করে সেক্স করতে চাইলে চাপাতি কিংবা ব্লেড দিয়ে ওদের শিশ্ন কেটে দেবার সাহস রাখে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে আমার অঞ্চলে এরকম একজন পুরুষকে তার স্ত্রী চাপাতি দিয়ে লিঙ্গ কেটে দিয়েছে যেটা আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছিলো বেশ কয়েকবার। যদিও চাপাতি চালানোটা কোনো সমাধান নয়, কিন্তু সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে নারীর ক্ষমতাটাকে দেখানোর জন্য এর চেয়ে বিকল্প পথ সবসময় নারীদের সামনে থাকে না।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর মানসিকতাকে ভেঙে দিতে দিকে দিকে জেগে উঠুক নারী। আওয়াজ তুলুক সকল যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আর তা এমন কোন অসম্ভব কোন ব্যাপার নয়, শুধু প্রয়োজন সাহসের।


  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সাজেদা জেরিন

নবম শ্রেণির পড়ুয়া সাজেদা জেরিন পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি ও ছবি আঁকতে ভালবাসেন।

ফেসবুকে আমরা