রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মাদ্রাসা কি জরুরী?

বুধবার, মে ৯, ২০১৮ ৯:৪০ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


একাত্তর টিভির সূত্রে জানা গেলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এরই মধ্যে ২৫০০টি মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মান করা হয়েছে। চোখের সামনে একদল শিশুর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁদের মানুষ থেকে গাধায় রুপান্তর করা হচ্ছে। এর থেকে হতাশাজনক খবর আমার হাতে এই মুহূর্তে নেই। কোনো মুসলিম বন্ধু কি বুঝাতে পারবেন ২৫০০টি মসজিদ-মাদ্রাসা দিয়ে রোহিঙ্গারা কি করবে?

আমাদের সকলেরই প্রায় একই ধারনা যে নৈতিকার শিক্ষার জন্য ধর্মের প্রয়োজন আছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো আমরা কখনও যাচাই করে দেখি না আদতে ধর্ম আমাদের কেমন নৈতিকতা শিখায়! ঠিক একই ভাবে একটি বৃহৎ গোষ্ঠী মনে করে মাদ্রাসা শিক্ষাই একমাত্র শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্র আমরা দেখি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের মানসিকভাবে তালেবান করে গড়ে তোলার এবং জঙ্গিতে পরিণত করার কাজটি করে। (যদিও আমাদের বাংলাদেশটাই একটি বৃহত্তর মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে) শুধু প্রয়োজন অস্ত্র আর উস্কানি। এসকল মাদ্রাসা শিক্ষায় বেড়ে ওঠা শিশুগুলো যেকোনো প্রগতিশীল উদ্যোগ নিতে গেলে বাধা দেবে, সরকারের নারীনীতি বাস্তবায়ন এবং নারীদের যাবতীয় উন্নয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।এই মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তৈরি হবে বাংলা ভাই/ শায়খ রহমানের মত লোকেরা যারা পরিষ্কার আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিকুল শক্তির বিরুদ্ধে জেহাদ করেছিল। প্রকাশ্য জিহাদের সংজ্ঞায় পরিষ্কার বলা হয়েছে যে কাফির, মুশরিক, ইয়াহুদিরা হল ইসলামের চিরশত্রু। এই সংজ্ঞা পড়ে কাফের, মুশরিক, ইহুদীরা জাতিগতভাবে মুসলমানের চিরশত্রু এই ধারনার বাইরে একটি শিশু আর কি পেতে পারে? তারমানে অবশেষে শিখলো যে কাফের, মুশরিক, ইয়াহুদিরা জাতিগতভাবেই তাদের চিরশত্রু কাজেই এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হল পবিত্র ধর্মীয় দায়িত্ব জিহাদ যা আল্লাহ কোরানে সর্বকালের জন্য নির্দেশনা হিসেবে নাজিল করেছেন। এই শিক্ষা পেয়ে বড় হয়ে কাফেরিয় ছায়ার মনুষ্য সৃষ্ট সেক্যুলার আদালত ধ্বংস করে ইসলামী আইন আদালত প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের বোমা মেরে মানুষ হত্যা নিয়ে হয়তোবা কথা হতে পারে, তবে পদ্ধুতিগতভাবে ভূল হবার সম্ভাবনা থাকলেও নীতিগতভাবে তো তারা ঠিকই ছিল। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় প্রতিকুল শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এই ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রতিকুলের বিরুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষাটা মাদ্রাসা থেকেই শিশুকাল থেকে তারা পেয়ে থাকে।

মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হেফাজতিদের ১৩ দফায় পরিষ্কার ভাবে আমরা দেখেছি যে তারা স্কুলগুলোকে মাদ্রাসায় পরিণত করতে চায়, নারীদেরকে অন্ধকার আবরণে আবৃত করতে চায়, কাদিয়ানি নামক এক অত্যন্ত নিরীহ মুসলিম দল আছে দেশে, এদের সমূলে বিনাশ করতে চায়, সকলের বাক-স্বাধীনতাকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিতে চায়। সন্দেহাতীতভাবে মাদ্রাসা থেকে তৈরী হয় একদল ধর্মব্যবসায়ী যারা সারা দেশজুড়ে ওয়াজ মাহফিল করে বেড়ান, সেই গ্রাম থেকে শহর-বন্দর কোথাও কি তিল পরিমান জায়গা দেখাতে পারবেন যেখানে অন্ধকারের ফেরিওয়ালারা সক্রিয় নয়? সাধারণ মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা, অজ্ঞতা, অসহনশীলতা, কূপমণ্ডুকতা এবং বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা এসকল অন্ধকারের ফেরিওয়ালাদের একমাত্র এবং প্রধান কাজ। এসকল অন্ধকারের ফেরিওয়ালারা মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কথায় কথায় মানুষের ফাঁসি চেয়ে রাস্তায় নামে অথচ শত্রুর ফাঁসি চাওয়াও আমাদের নীতিবিরুদ্ধ।

এই মাদ্রাসা শিক্ষা ওদের শেখায় ছায়াছবি হারাম, গান-বাজনা হারাম, অভিনয় হারাম, ছবি আঁকা হারাম, নাচ হারাম, নারী-পুরুষের মেলামেশা হারাম, সহশিক্ষা হারাম, পহেলা বৈশাখ হারাম, শহীদ মিনারে ফুল হারাম, গণতন্ত্র হারাম, সমাজতন্ত্র হারাম, নারীনেতৃত্ব হারাম.... এককথায় বলতে গেলে দুনিয়ার সকল প্রগতিশীল কাজই তাদের মস্তিষ্ক অবলীলায় হারাম মনে করে, কিন্তু একজন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ সন্দেহাতীতভাবে এসকল কাজ হারাম মনে করেন না! তাহলে কোনো মুসলিম বন্ধু কি আমাদের বলতে পারবেন মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত তেঁতুল হুজুর তত্ত্বের জনক আল্লামা শফিদের মত মানুষদের সাথে কেনো অাধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এতটা তফাৎ?

৭১ টিভির রিপোর্ট

আজ যদি রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য সুস্থ ধারার শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা না হয় এবং জঙ্গি তৈরীর কারখানা মাদ্রাসাগুলো চিরতরে বন্ধ করা না হয়, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ করে তোলা না হয়, তবে এই শিশুগুলোই আফগানিস্তানের তালেবানে রুপ নিবে। ঘৃণার বিরুদ্ধে ঘৃণা নিয়ে দাঁড়াবে! তাই এসকল মসজিদ-মাদ্রাসার বিরুদ্ধে দাঁড়ান। অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য!

২৫০০ টি মসজিদ-মাদ্রাসা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন নেই। তাদের সবার আগে থাকার জায়গা প্রয়োজন, খাদ্য প্রয়োজন, চিকিৎসা প্রয়োজন, অাধুনিক শিক্ষা প্রয়োজন। গাধার মত কোরান-হাদিস মুখস্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই।


  • ১২৬২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

মোঃ সাজ্জাদুল হক

ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট

ফেসবুকে আমরা