সামাজিক কুসংস্কারই ধর্ষিতাকে আত্মহননে উদ্বুদ্ধ করে

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৮ ১:৩১ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


প্রথম আলোর সূত্রমতে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অবস্হানরত অবস্হায় একজন নারী ভারত্তোলক ধর্ষণের শিকার হন অফিস সহকারী দ্বারা। অতঃপর তিনি বাড়ী ফিরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পানিতে ডুবে। কিন্তু পানি তাকে ভাসিয়ে রেখে রিজেক্ট করে। আত্মহননে ব্যর্থ হলে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বর্তমানে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসারত আছেন।

এখন শুধু ঐ ধর্ষক নয় প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নিয়েও ক্ষতিপূরণের মামলা করা জরুরি। তারা যদি সুরক্ষারই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে না পারে ক্রীড়াবিদদের তাহলে তাদের সরবরাহকৃত অন্য বিষয়গুলোও আর কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

যাইহোক দেশীয় নারীদের মানসিক দৈন্যতার কিছু বিষয় অবশ্যই লক্ষ্যণীয়। দেশে ধর্ষণ শুধু নারীরই হয় না, পুরুষও ধর্ষিত হতে পারে। তাদেরও মেন্টাল বার্ন হয় তখন। তথাপি আজ পর্যন্ত খুব কমই শোনা গিয়েছে যে বাংলাদেশী কোনো পুরুষ ধর্ষিত হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন অথবা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তাহলে নারী কেনো ধর্ষণ সারভাইভ করার পরও আত্মহননের পথ বেছে নেন বার বার? 
কে দায়ী এই মানসিক দৈন্যতার জন্যে? 

নারীর জীবনকে কেনো শুধু একটি অঙ্গ দ্বারাই নির্ধারণের পায়তারা?

সম্ভবত পিছিয়ে পড়া সামাজিক মূল্যবোধই দায়ী এজন্যে। যা নারীকে একজন মানুষ নয় যৌনাঙ্গের অক্ষত অবস্হা দ্বারা পরিচালিত করে। এখানে ধর্ষণই মূল বিষয় নয়। বিয়ের পরও নারীর ধর্ষণ ঘটতে পারে। হয়তো স্বামী দ্বারাই। তখন কিন্তু মেয়েরা আত্মহননের পথ বেছে নেয় না। আবার ভারসাম্যও সাথে থাকে। তখন সাইড এফেক্ট বলতে হয়তো বড়জোর বরের প্রতি রেসপেক্ট চলে যায়, মন আহত হয় এসবই। এর বাইরে তেমন সামাজিক ক্ষতিও নেই। কিন্তু বিয়ে ছাড়া ধর্ষণ হলে একেবারে ভূমিকম্প ঘটে যায় জীবনে।

শুধু আমাদের দেশে নয় উন্নত বিশ্বেও ধর্ষণ ঘটে। তবে ধর্ষণের কারণে এখানে একজন নারীকে এক্সট্রা কোনো ক্ষতি বা চাপের ভার বইতে হয় না। তখনও সে অন্য নারীদের মতোই ভবিষ্যত স্বপ্ন দেখতে পারে। তখনও তার প্রেম-ভালোবাসা হয়, বিয়ে হয় একজন উপযুক্ত সঙ্গীর সাথেই। ফলে সে ধর্ষকের শাস্তির ব্যবস্হা গ্রহণেরও পদক্ষেপ নিতে পারে সহসা। তখন অন্য মেয়েরাও সুরক্ষা পায়।

দেশীয় ধারণায় নারীর যৌনাঙ্গই তার সব। জীবনমরণ, ইহকাল-পরকাল। নিজের লজ্জা, পরিবারের লজ্জা। মানইজ্জত, জাতপাত সবকিছু। পুরুষ ঘন্টায় ঘন্টায় লিঙ্গ প্রদর্শন করুক বা লিঙ্গ কর্মে মেতে উঠুক তাতে কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি নেই তার। জাতিও চুপ। শুধু যত ক্ষতি সব নারীর। নারী যদি এই অবস্হা থেকে বের হয়ে আসতে না পারে, নিজেকে মানুষ না ভেবে লিঙ্গের বাঁধনে বাঁধা থাকে সর্বদা, তাহলে তার প্রাণ থাক বা না থাক সে মৃতই। কেননা চিন্তার মুক্তিই আসল মুক্তি, বেঁচে থাকা। বেঁচে উঠুক নারী!


  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শিল্পী জলি

সমাজকর্মী, ইউএস প্রবাসী

ফেসবুকে আমরা