শামীম আরা নীপা

এক্টিভিস্ট

অটিজম

বাংলাদেশে ক্রমশ বাড়ছে অটিজম রোগাক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। তবে সেই সংখ্যা ঠিক কতজন তা নির্ভুলভাবে বলার উপায় নেই। কারণ বাংলাদেশে অটিটিস্টক রোগীর সংখ্যার হিসাব রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই; নেই কোনা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীতে মাত্র চারটি দেশে অটিস্টিকদের সংখ্যার হিসাব রাখার ব্যবস্থা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। সুতরাং আমাদের দেশে মাঝে মাঝে পত্র পত্রিকায় অটিস্টিক রোগীদের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয় তা অনুমান নির্ভর। যেমন অমুক দেশে তিন কোটি মানুষের মধ্যে এক লাখ অটিস্টিক; কাজেই বাংলাদেশের ষোল কোটির মধ্যে পাঁচলাখ মানুষের অটিজম আছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক জরিপ থেকে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে প্রতি আড়াই হাজারে একজন অটিস্টিক শিশু জন্ম নিত। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ৫শ’ জনে একজন নেমে আসে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অপর এক জরিপে বলা হয়েছে ঢাকা শহরে অটিস্টিক শিশুর হার ৩ শতাংশ আর ঢাকার বাইরে দশমিক ৭ শতাংশ। সমাজসেবা অধিদফতরের প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ অনুযায়ী (২০১৩-২০১৬) দেশে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা ৪১ হাজার ৩২৯ জন। তবে সংখ্যা যাই হোক, সেই সংখ্যা যে দিনকে দিন বাড়ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে ঠিক কতজন শিশু অটিজমে আক্রান্ত-সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে তার কোনও সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নেই। ২০০৯ সালের এক হিসেব অনুযায়ি দেশের, ১ শতাংশ শিশু অটিজমে আক্রান্ত। এরপর ২০১৩ সালের এক পরিসংখ্যানে বলা হয় ঢাকা শহরে ৩ শতাংশ শিশু অটিজমে আক্রান্ত। তবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ অনুসারে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে অটিজম শিশুর সংখ্যা প্রায় ৪৯ হাজার জন এবং মোট প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার জন। ২০২০ সালের জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে ১৭ লাখেরও বেশি অটিস্টিক শিশু আছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি মস্তিষ্কের বিকাশ জনিত এক ধরনের সমস্যা যার কারণে একটি শিশু সামাজিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না। কিন্তু দ্রুত শনাক্ত করতে পারলে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারলে এই শিশুরাও অন্যান্য শিশুদের মতো উন্নতি করতে পারে।।

অটিজম একটি নিউরোলজিক্যাল সমস্যা। কোনো সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার নয়। ১৯৭০ সালে প্রথম বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জানা গিয়েছিলো এই তথ্য। মনোবিজ্ঞানী নিউ ক্যানার এর নাম দিয়েছিলেন অটিজম। ল্যাটিন শব্দ ‘অটিম’ এর অর্থ নিজের মধ্যে থাকা। শিশুর জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে দেখা দেয় এ রোগটি। অটিজমে আক্রান্তদের মধ্যে প্রথমেই যে লক্ষণটি দেখা দেয় তা হলো, শাব্দিক ও আকার ইঙ্গিতে ও দৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ অপারগতা। সমবয়সী সুস্থ শিশুদের সঙ্গে মিশতে না পারা। অদ্ভূত কিছু দেখলে প্রতিক্রিয়াহীন থাকা। মনোযোগ দিতে না পারা। বারবার শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গ নাড়াচাড়া করা, হাত ঝাঁকানো, ঘাড় দোলানোও এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। কোনো বস্তুর প্রতি অকারণ আসক্তি দেখা দেয়। রুটিন বা নিয়ম মানতে চায় না। আচরণে অনেকসময় ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শারীরিক বিপদ ও যন্ত্রণার ব্যাপারে ভীষণ অসংবেদনশীল তারা। সাধারণ পরীক্ষায় সনাক্ত করা যায় না রোগটিকে। কারণ এর মূল সমস্যা মস্তিষ্কের সুক্ষ্ম কমিউনিকেশন সেন্টারের সোমালাইজেশনে। তাই অটিজম বিশেষজ্ঞরা সরাসরি মেডিকেল চিকিৎসার দিকে না গিয়ে চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন থেরাপি ও কাউন্সেলিংয়ের মধ্য দিয়ে সুস্থ করে তুলতে এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের।

অটিস্টিক শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার জন্য মোট ছয়টি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

এক. মনোযোগের দক্ষতা। অটিস্টিক শিশুদের একটি মূল সমস্যা অমনোযোগিতা। তাই প্রথমেই চেষ্টা করা হয় তাদের মনোযোগী করে তুলতে। শেখানো হয় কারো সাহায্য ছাড়াই চেয়ারে বসতে। নাম ধরে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে চোখে চোখে তাকাতে।

দুই. অনুকরণ দক্ষতা। অনুকরণ করতে করতেই এক সময় কাজের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে ওঠে অটিস্টিকি শিশুরা। তাই শরীরের অঙ্গভঙ্গির (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ) মাধ্যমে তাদের শেখানো হয় অনুকরণ করার বিভিন্ন কৌশল। শেখানো হয় ক্রেয়ন দিয়ে আঁকা, পেন্সিল দিয়ে লেখা ও মুখোভঙ্গির অনুকরণ।

তিন. ভাষা বোঝার দক্ষতা। যেহেতু মৌখিক যোগাযোগটা অসম্ভব এই শিশুদের জন্য, তাই ভাষা বোঝার দক্ষতায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের। চিহ্নিত করতে শেখানো হয় শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, বস্তু, ছবি ও পরিচিত ব্যক্তিকে। দক্ষ করে তোলা হয় আদেশ পালনে।

চার. ভাষা প্রকাশ করার দক্ষতা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অটিস্টিক শিশুরা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না। তাই ভিন্ন পথে ভাষা প্রকাশে দক্ষ করে তোলা হয় এদের। যেমন: পছন্দের বস্তুটি আঙুল দিয়ে দেখানো, শব্দ ও ভাষা অনুকরণ এবং বস্তু ও ছবির নাম বলতে পারা। মৌখিকভাবে পছন্দের বস্তুটি চাওয়া। কথায় বা ইঙ্গিতে হ্যাঁ বা না বলা বা বোঝানো। পরিচিত ব্যক্তিদের নাম বলতে পারা। তোমার নাম কী, কেমন আছ প্রভৃতি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারা।

পাঁচ. প্রি-একাডেমিক দক্ষতা। একই রকম বস্তু ও ছবি, একই বস্তুর সঙ্গে একই ছবি, রঙ, আকৃতি, বর্ণমালা, সংখ্যা প্রভৃতির বিন্যাস করতে শিশুদের বিশেষভাবে দক্ষ করে তোলা হয়। ছোট কাজ কিংবা খেলা নিজে করতে পারা, রঙ ও আকৃতি চিনতে পারার বিষয়টিও তাদের শেখানো হয়।

ছয়. নিজের কাজ নিজে করার দক্ষতা। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি নিজের দৈনন্দিন কাজ নিজে করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। স্বাবলম্বী করে তোলা হয় কিছু খেতে, পরিধেয় বস্ত্র খুলতে ও বাথরুমে যেতে। আগ্রহী করে তোলা হয় চুল আঁচড়ানো ও দাঁত পরিষ্কার করায়।

অটিজম থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করে যাচ্ছেন এবং তাদের অধিকাংশ গবেষণার ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছে অটিস্টিক শিশুরা। শুধু প্রয়োজন অসহায় এই শিশুদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি, সহৃদয়তা ও ভালোবাসা।

চিকিৎসকরা বলছেন, অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি মস্তিষ্কের বিকাশ জনিত এক ধরনের সমস্যা যার কারণে একটি শিশু সামাজিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না। কিন্তু দ্রুত শনাক্ত করতে পারলে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারলে এই শিশুরাও অন্যান্য শিশুদের মত উন্নতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো শিশুর অটিজম নির্ণয় হলে অতিদ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সবার সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলার মাঝে, পড়ানোর সময়, সামাজিক বন্ধনে, খেলা-ধুলার মাঝেও বিভিন্ন বিষয় শেখাতে হবে। হাসি-খুশিতে রাখতে হবে সব সময়।

দেশে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বর্তমানে অনেক কর্মকাণ্ডই পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু অটিজম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ সীমিত।

গ্রামের দিকে অনেকেই জানেন না অটিজম কি, সেটা যে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নয় সেটা বুঝে উঠতে পারে নি। অনেকে এখনো বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের পাগল মনে করে, আবার অনেকে মনে করে যে, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, মানে বোকা। কিন্তু এসব ধারণার কোনটাই ঠিক না।। বহুদিনের প্রাচীন ধারণা মোতাবেক বেশিরভাগ পরিবারই তাদের অটিজম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা বা শিক্ষার বাইরে রাখছে। তবে সে অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অটিজমকে অনেকেই রোগ বলে অভিহিত করেন। অনেকেই এখনও অটিস্টিক শিশু দেখলে তাদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকেন, তাদের বাবা-মাকে নিয়ে নানাভাবে কুসংস্কারের বলি করা হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটা প্রকট! কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অটিজম ডায়াগনস্টিক চেকলিস্ট (এডিসিএল), এমচার্ট ও এডোস প্রধানত এ তিনটি পরীক্ষার মাধ্যমে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করা হয়।

মৃদু, মাঝারি ও গুরুতর সমস্যাকে বিবেচনায় নিয়ে শিশুর মনস্তত্ত্ব বিকাশে কাজ করা হয়। স্পিচ থেরাপি. সাইকোলজিক্যাল ম্যানেজমেন্ট থেরাপিসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের চিকিৎসা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সেন্টার ফর নিউরো ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন সেন্টার' নামে আলাদা একটি ইউনিটে অটিস্টিকদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ও বেসরকারি পর্যায়ে অটিজমের চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং ব্যবস্থা চালু আছে।

দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ১৬টিতে শিশু-বিকাশ কেন্দ্র রয়েছে যেগুলোতে অটিজম শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তবে, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শহর বা গ্রাম পর্যায়ে রয়েছে কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী সাহায্য ও সেবাকেন্দ্র। ফলে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগগুলো শহরে ঘরে ঘরে যতটা পৌঁছে যাচ্ছে, শহরের বাইরের পরিবারগুলোর কাছে তা অনেকটাই দূরবর্তী সুযোগ-সুবিধার মাঝে আটকে আছে।

অটিস্টিক শিশুরা স্কুল-কলেজ এমনকি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করে সফলতা অর্জন করার যোগ্যতা রাখে। মোটামুটি বেশিরভাগ অটিস্টিক শিশু অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হয়। প্রতি ১০ জন অটিস্টিক শিশুর মধ্যে একজনের ছবি আঁকায়, গানে, গণিতে বা কম্পিউটারে খুবই দক্ষতা থাকে। অটিস্টিক শিশুকে ঠিকমতো পরিচর্যা করতে পারলে পরবর্তীতে সে অনেক গুণী কেউ একজন হয়ে উঠতে পারে। এখন তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। অবাক করার বিষয় জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃথিবী পাল্টে দেয়া সেরা ব্যক্তিরা যেমন স্যার নিউটন, আইনস্টাইন, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, আর্কিমিডিস, ভেন গেগ, জুলিয়াস সিজার, স্টিফেন্স হকিন্স এরা অনেকেই অটিজম, সি পি সহ নানা প্রকার নিউরো ডিভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার এর রোগী ছিলেন। তারা এসব জয় করেই পৃথিবী কে পালটে দিয়েছেন। বিখ্যাত সংগীতশিল্পী লেডি হাক এবং ডারিল হান্না, কার্টুন ছবির আবিষ্কারক সাতসি তাহেরিসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তি অটিস্টিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁদের সফলতায় অটিজম কোনো বাধা হতে পারে নি। আটিজম চিকিৎসায় এখনো বিশেষ কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয় নি। অটিস্টিক শিশুদের সুস্থ বিকাশে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য ও ধারণামতে, মায়ের গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করা না হলে কিংবা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার না খেলে গর্ভের শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ না হলে অটিস্টিক শিশুর জন্ম হতে পারে। ‘জিকা’ ভাইরাসে আক্রান্ত মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ শিশুও অটিস্টিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অটিজম ও সেরিব্রাল পালসি জন্মের সময় কিংবা জন্ম পরবর্তী সময়ে ব্রেইনের সঠিক বিকাশ ব্যাহত হবার জন্যেই হয়। বিকাশ ব্যাহত হবার অনেক কারণ রয়েছে, এর মধ্যে জেনেটিক্স, গর্ভাবস্থায় মায়ের রোগ, অপুষ্টি, আঘাত, ড্রাগ টক্সিসিটি, মায়ের জণ্ডিস, নবজাতকের জণ্ডিস ইত্যাদি প্রধান।

এই দুটো রোগ এক নয়। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। অটিজম বা অটিস্টিক বেবির চলাফেরা সাধারণত থাকে স্বাভাবিক কিন্তু আচার আচরণ ও কথাবার্তায় থাকে অসঙ্গতি আর সিপি (সেরিব্রাল পলসি) বেবীর সমস্যা হয় চলাফেরায়। তবে তার কথাবার্তা, আচার-আচরণে সমস্যা থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।

অটিজমের যেমন অনেক প্রকারভেদ আছে তেমনি সিপির ও অনেক প্রকারভেদ আছে। অটিজম পাঁচ রকমের-

১) ক্লাসিক্যাল অটিজমঃ

ক) এদের ভাষার বিকাশের সমস্যা।

(খ) অন্যের সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলাতে সমস্যা।

(গ) এরা অন্য শিশুদের মত খেলে না এবং এদের মধ্যে অনাবশ্যক কোনো বস্তুর প্রতি প্রীতি সৃষ্টি হয় অর্থাৎ কোনো একটি বস্তু ধরলে সেটার প্রতি তার মনোযোগ নিবিষ্ট রাখে। ক্লাসিক্যাল অটিজমের কারণে শিশুর মধ্যে কোনো কিছু শিখতেও সমস্যা হয় এবং কেউ কেউ পুণরাবৃত্তি মূলক অঙ্গভঙ্গি যেমন-অনবরত হাত পা দোলানো, চুলটানা, হাত কামড়ানো, মাথায় আঘাত করার মতো আচরণ করতে থাকে।

২) এসপারজারস সিনড্রোমঃ

ক) ভাষার বিকাশ সময় মত ঘটে।

(খ) তাদের বুদ্ধিমত্তা সাধারণতঃ স্বাভাবিক কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

(গ) সামাজিক কার্যকলাপে পিছিয়ে থাকে। এরা বস্তু বা ঘটনার সুশৃংখলতার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করে অর্থাৎ ঘরের কোন বস্তু যেমন- টেবিল, চেয়ার, বা অন্য যেকোন জিনিস যেভাবে রাখা হয় তার সেভাবেই থাকতেই হবে। ব্যতিক্রম ঘটলে সেটা পছন্দ করে না।

৩) পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসওর্ডারঃ

ক) এদের ভাষার ব্যবহার ও বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।

খ) আই কন্টাক্ট ও কোনো কিছু নির্দ্দিষ্ট করে দেখাতে সমস্যা হয়।

গ) খেলনা নিয়ে খেলতে পারে না।

ঘ) পরিচিত পরিবেশ ও রুটিন পরিবর্তনে সমস্যা হয়।

ঙ) অঙ্গ সঞ্চালনে পুনরাবৃত্তি করে।

৪) রেট সিনড্রোমঃ

ক. প্রথম স্তর: এই স্তর ছয় থেকে আঠার মাসের মধ্যেই শুরু হয়। এই স্তরে আই কণ্টাক্ট কমে

যায়, খেলনার প্রতি আগ্রহ দেখায় না, স্থুল পেশীর বিকাশ ধীর হয় ফলে বসতে ও দাঁড়াতে অনেক

সময় নেয়।

খ. দ্বিতীয় স্তর: এই স্তরে এক থেকে চার বছরের মধ্যে এর প্রকাশ ঘটে। এই সময়ে হাতের বিশেষ কোন দক্ষতা এবং কথা বলার ক্ষমতা লোপ পায়। এই সময়ে হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে পিছনে বা

পাশে রাখে। হঠাৎ এটা ওটা স্পর্শ করে। কারও কারও শ্বাসেরও বিশৃংখলা দেখা দেয়।

গ. তৃতীয় স্তর: এই স্তরে দুই থেকে দশ বছরের মধ্যে দেখা দেয়। দৈহিক অঙ্গ সঞ্চালন ও খিঁচুনী এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট। এই স্তরে আক্রান্ত ব্যক্তি তার পরিবেশের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং যোগাযোগ দক্ষতায় উন্নতি হয়।

ঘ. চতুর্থ স্তর: এই স্তরে পেশীর দুর্বলতা বা কাঠিন্য সমস্যা উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।

৫) সিডিডি বা চাইল্ডহুড ডিসইন্টারোগেটিভ ডিসওর্ডারঃ

এইসমস্যা চেনার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো যে শিশু দুই বছর বয়স পর্যন্ত অত্যন্ত স্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে উঠে এবং তার মধ্যে বয়সোপোযোগী যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতায় বিকাশ ঘটতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ করে সিডিডি লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। প্রথমে সবচেয়ে প্রকটভাবে যে লক্ষণ দেখা যায় তা হলো শিশু কথা বলা বন্ধ করে দেয় এবং অতি শৈশবের এক শব্দের কথায় ফিরে আসে। শিশুর পেশী নিয়ন্ত্রন, ভাষা ও সামাজিক কার্যকলাপে দক্ষতাও কমে আসে। পাকস্থলী ও মূত্রাশয়ের উপর কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না। সিডিডি এর ক্ষেত্রে কখনো কখনো খিঁচুনীও দেখা যায়। সিডিডির ক্ষেত্রে হারানো দক্ষতাগুলো প্রশিক্ষণ ও চর্চার ফলে কখনো ফিরে আসে না। অটিজম ছেলেদের বেশি দেখা যায়।

সেরেব্রাল পালসি চার রকমের যেমন-

১. স্পাসটিকঃ স্পাস্‌টিক সেরেব্রাল পালসিতে মাংসপেশীতে টানটান ভাব অনেক বেশি থাকে। জয়েন্টের নড়াচড়া অনেক শক্ত হয়ে যায়। এটা বেশ কমন।

২. অ্যথেটয়েডঃ এতে বাচ্চাদের হাত-পায়ের নাড়াচাড়া ধীর থাকে এবং কিছুটা মোচড়ানো হয়ে থাকে। মাংসপেশীর টানটান ভাব কম এবং বেশি থাকায় বাচ্চা সোজা হয়ে বসতে বা দাড়াতে পারেনা। তবে ঘুমের সময় এথেটয়েড মুভমেন্ট সাধারণত থাকেনা।

৩. অ্যাটাক্সিকঃ এ ধরনের বাচ্চারা নিজে থেকে কিছু করতে গেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভেতর সমন্বয় করতে পারে না এবং ভারসাম্যেও সমস্যা থাকে। মাথা, ঘাড় ও কেমড় স্থির রাখতে পারে না। সাধারণত ব্রেইনের সেরিবেলাম অংশে দুর্বলতা থাকে।

৪. মিক্সড্ঃ এ ধরনের বাচ্চাদের লক্ষণসমূহ বিভিন্ন প্রকার সেরিব্রাল পালসি'র সমন্বয়ে হয়ে থাকে।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী অটিজম দিবস পালিত হয়। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও প্রতিবছর দিবসটি পালন করছে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আমাদের সবাইকে অটিস্টিক শিশুদের ভালোবাসতে হবে। কোনো অন্যায় আচরণ না করে স্বাভাবিক শিশুর পাশাপাশি তাদের সব ক্ষেত্রে অধিকার দেওয়া বাঞ্ছনীয়। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সমাজ ও পরিবার গঠনে সচেষ্ট হতে হবে।

বাংলাদেশে যে হারে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, সেই অনুপাতে তাদের জন্য স্কুলের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। ঢাকার বাইরের জেলা শহরগুলোতে শিশুদের শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। গুটিকয়েক স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যেগে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কার্যক্রমটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন করে থাকে। এসব বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত ৪৮টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৭টি ইনক্লুসিভ বিদ্যালয় এবং বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয় রয়েছে।

স্কুলের সেবা : দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিশেষ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও থেরাপির সাহায্যে শেখানো হয়। এই সব স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়। স্কুলের সেবাসমূহের মধ্যে : রয়েছে প্রাক-শৈশবকালীন বিকাশমূলক কার্যক্রম, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষণ, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, অবসর বিনোদন প্রশিক্ষণ, থেরাপিভিত্তিক সেবা, অকুপেশনাল ও ফিজিওথেরাপি, সেনসরি ইনটিগ্রেশন ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন থেরাপি ইত্যাদি। কোনো কোনো স্কুলে প্রতিবন্ধিতা শনাক্তের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ‘মা ও শিশু কার্যক্রম’-এর আওতায় এখানে ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর জন্য শিশু, মা ও পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ হিসেবে সেলাই, মাটির কাজ, হস্তশিল্প, কম্পিউটার, পুতুল তৈরি, তাঁতের শাড়ি বুনন, অফিস সহকারী, রান্না ও ক্যান্টিনকে কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিনোদনমূলক প্রশিক্ষণ হিসেবে এসব স্কুলে শেখানো হয় নাচ, গান, সাঁতার ও রান্নার কাজ।

অকুপেশনাল ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে ইন্দ্রিয় অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য হামাগুড়ি, দাঁড়ানো, খেলা, চামচ ধরা, পেন্সিল ধরা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যোগাযোগ প্রতিবন্ধি শিশুদের কথা বলা, শব্দ উচ্চারণ, স্বর ও ধারাবাহিক কথা বলায় তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পিচ থেরাপিস্ট দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উপরোল্লিখিত স্কুলগুলোর পাশাপাশি শুধুমাত্র রাজধানীতেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশেষায়িত বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোর কোনো কোনোটা ফ্রি সেবাও দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু রয়েছে ব্যক্তিমালিকানাধীন আবার কিছু কিছু বিভিন্ন প্রজেক্ট বা ট্রাস্টের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ বিদ্যালয়গামী শিশুর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। সংখ্যাটা কিন্তু একেবারে কম নয়। এদের অন্ধকারে বা আড়ালে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের জানতে হবে, কেন একজন শিশু সবার কাছে বিশেষ চাহিদা পূরণের দাবি রাখে। আমাদের মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে শিক্ষা তাদের অধিকার। তাদের পাশে দাঁড়ানো মানে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে, সহমর্মিতা নয়। সরকার ও আমাদের সবার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সদিচ্ছাই পারে সব সমস্যাকে দূরীভূত করে একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুবান্ধব সমাজ ও দেশ সৃষ্টি করতে; যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কল্যাণ নয়, তাদের অধিকার দেওয়া হবে, সহমর্মিতা নয় সহযোগিতা করা হবে।প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অপ্রতুলতা কাজে অনেক বাধা সৃষ্টি করে।

দুনিয়া কাঁপানো করোনা ভাইরাস অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্যও নতুন একটা সঙ্কট। কেননা অটিজম শিশুদের এখন ঘরেই থাকতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কোথায়ও বের হওয়া সম্ভব নয়। তাদের স্কুলেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিশুদের নানা বিষয়ে শেখানোর পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারেন অভিভাবকেরা। আমাদের সবাইকে অটিজম শিশুদের ভালোবাসতে হবে। কোনো অন্যায় আচরণ না করে স্বাভাবিক শিশুর পাশাপাশি তাদের সব ক্ষেত্রে অধিকার দেওয়া বাঞ্ছনীয়। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সমাজ ও পরিবার গঠনে সচেষ্ট হতে হবে।

আমাদের সমাজে এখনো অটিজম, সেরিব্রাল পলসি মেন্টাল রিটার্ডেশন ইত্যাদি ব্রেইনের বিকাশ ব্যাহতজনিত জন্মগত রোগ নিয়ে সন্তান ভুমিষ্ট হলে মন খারাপ করে ফেলি। এমনকি প্রচণ্ড কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলে এই রকম শিশু ব্রেইন বিকাশ ব্যাহত নিয়ে জন্ম নেওয়া রোগের জন্যে মা-বাবা কিংবা পরিবার কে দায়ী করি। বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাই। শিক্ষিত পরিবারের অনেকেই আছেন যারা অটিস্টিক বেবী বা সিপি বেবী নিয়ে কিছুটা হীনমন্যতায় ভোগেন। কোন আচার অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের নিয়ে আসেন না। কিন্তু সেটা মোটেই ঠিকনা।

অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপদ্ধতি ভালো ফল দেয়। অটিস্টিক শিশুদের যদি জটিল বিষয়কে সহজ-সরলভাবে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করে শেখানো যায়, তবে তারা সহজে বুঝতে পারবে। শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষাদান করা যেতে পারে। যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের বিভিন্ন বিষয় শেখানো সম্ভব। সামাজিক দক্ষতা অর্জন পদ্ধতির মাধ্যমেও অটিস্টিক শিশুদের সামাজিক আচরণ শেখানো সম্ভব।অটিজম কোনো মানসিক রোগ নয়, তাই অটিস্টিক শিশুদের সমাজের বোঝা মনে না করে বরং এসব শিশুকে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের অটিজম শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

1400 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।