মেয়ে তুমি আগে নিজের মূল‍্য বুঝতে শেখো

মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯ ৮:০৪ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


প্রেমে প্রতারিত হয়ে বা স্বামীর কাছে প্রতারিত হয়ে আইনি প্রতিকার চাইতে আসা প্রায় মেয়েদের‌ই একটা কমন ডায়লগ আছে দেখেছি, "দিদি ও আগে আমি ছাড়া কিছু জানতোই না জানেন? আর এখন চা খাওয়া হয়ে গেছে ভাঁড় ফেলে দিয়েছে, বুঝলেন তো কী বললাম? আর ফিরেও দেখে না"!

আমার পা থেকে মাথা অবধি দপ করে আগুন ধরে যায় এই কথা শুনে। ইচ্ছে করে ঠাটিয়ে একটি চড় কষাই, মেয়েটি ছিটকে পড়ুক নীচে! দাঁত কিড়মিড় করে বলি হ‍্যাঁ রে গর্দভ, বুঝেছি সব‌ই! এগুলোর কোনোটাই করা হয়না তবে মেয়েটিকে থামিয়ে অতি অবশ‍্য‌ই দিই। বলি ওহে মেয়ে আগে তুমি নিজের মূল‍্য বুঝতে শেখো। নিজেকে অসম্মান করাটা বন্ধ করো! নিজেকে চায়ের ভাঁড়ের চেয়ে একটু উৎকৃষ্ট কিছু ভাবতে শেখো!

সস্তার থার্ডক্লাস সব বাংলা সিনেমায় বা ব‌ইপত্রে স্বামী বা প্রেমিকের সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যাবার পর মেয়েদের চায়ের ভাঁড়/ এঁটো শালপাতা ইত‍্যাদির সঙ্গে তুলনার প্রচুর প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ক্ষেত্রে তো বটেই! সেই পোসেনজিতের কোনো এক ছবিতে যেনো ছিলো না, এঁটো ফুল না বাসি ফুল কী একটা যেনো! দেবতার পুজোয় লাগেনা! তো সেইসব দেখে দেখে বেড়ে ওঠা, ব্রেন‌ওয়াশড মেয়েগুলোর মনে এর বেশি আর কী ফীলিং থাকবে! এরা নিজেদেরকে ব‍্যবহৃত, এঁটো, ডিসপোজেবল ছাড়া আর কিছু ভাবতেও শেখে না অগত‍্যা! কী পরিকল্পিত মগজধোলাই জনমভরের অসম্মান আর আত্মগ্লানি বয়ে নিয়ে বেড়ানোর জন্য!

যারা বিক্রি হয়ে যান, প্রতারিত হন, অপছন্দের লোকের গলায় মালা দিতে রাজী হন বাধ‍্য হয়ে, তাঁদের ভেতরের গ্লানি আমি বুঝি। কিন্তু তাই বলে নিজেকে একটা মাটির ভাঁড় বা এঁটো শালপাতা ভাবতে হবে কেনো? এতো তুচ্ছাতিতুচ্ছ ভাবতে হবে কেনো? ব‍্যবহৃত ভাবতে হবে কেনো? সেলফ এস্টিমেশান চূড়ান্ত তলানির পর্যায়ে না পৌঁছলে এইসব ধারণা আসতে পারে? আর আত্মবিশ্বাস ভেতর থেকে আসে, ওটা না থাকলে লড়াইটা কিসের ভিত্তিতে হবে?

হয় কিন্তু, ক্রমাগত ভোক‍্যাল টনিকে অনেকের‌ই খানিকটা আত্মবিশ্বাস ফেরে। ভাবতে থাকে তারা। আমার খুব প্রিয় মানুষ, বিখ‍্যাত মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের কয়েকটি লাইন মনে পড়ে, আমার‌ও খুব প্রিয় লাইনগুলো, আমিও ভাবি প্রতিটি মেয়ের মানসিকতা যেনো এই ধাঁচেই গড়া হয়, নিজেদের যেনো আগে চায়ের ভাঁড়ের বদলে গোটা মানুষ ভাবতে শেখে মেয়েরা...

"গোপনে ছুঁয়েছো বলে আমার গোপনতম স্থান
তোমার অধিকৃত, এ তোমার ভুল অনুমান।
যতদূর চোখ যায়, স্পর্শ গেছে ঠিক ততোখানি,
করায়ত্ত নয় কারো, বাকিটা আমার রাজধানী "।


  • ৪৫৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শীলা চক্রবর্তী

জন্ম খুলনায়। কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে আইনে স্নাতক। মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে অপরাধ আইনে স্নাতকোত্তর। পেশায় আইনজীবী। নেশা রবীন্দ্রনাথের গান , ধ্রুপদী সঙ্গীত , কবিতা, অভিনয়, লেখালিখি । মঞ্চে নিয়মিত উপস্থিতি । লেখালিখি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও পোর্টালে প্রকাশিত । পেশায় আইনজীবী শীলা চক্রবর্তীর জন্ম খুলনায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক আর মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা শীলার নেশা রবীন্দ্র সঙ্গীত, ধ্রুপদী সঙ্গীত, কবিতা, অভিনয় এবং লেখালেখি। মঞ্চ নাটকেও তিনি নিয়মিত।

ফেসবুকে আমরা