#ME TOO লড়াই শুধু মুখ খোলা নয়, সম্ভাব্য আইনী লড়াইয়ের একটি সূচনাও

শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮ ১২:৩৫ PM | বিভাগ : আলোচিত


ভারতে #metoo আন্দোলনে যারা অভিযোগ এনেছেন তারা প্রত্যেকেই সাবলম্বী, পরিণত, প্রতিষ্ঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী। তথাপি, তনুশ্রী দত্ত যখন প্রথম নানা পাটেকারের নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরেন মিডিয়ায় তখন ঝড়ের বেগটি কম ছিলো না। স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন পর্যন্ত বলেছেন, 'আমি নানা পাটেকার বা তনুশ্রী দত্ত কেউই নই! 'ভরা মজলিসে তার ঐ এক কথাতেই খিল খিল করে হেসে উঠেছে জনতা। আর সেই দেখে আমীর খানের মতো মেয়েদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তিও আমতা আমতা করে বিষয়টির পাশ কাটিয়েছেন শুরুতে যদিও দশ বছর আগের তনুশ্রী দত্তর হেনস্থা হবার যথেষ্ট প্রমাণাদি মিডিয়াতেই ছিলো।

এখনও সাজিদ খানের বিরুদ্ধে একের পর এক মেয়েরা অভিযোগ করে যাচ্ছেন। এমনই অবস্হা যে সাজিদ খান বা তার পরিবারেরও আর পথ নেই যে মিথ্যে-বানোয়াট তথ্য বলে উড়িয়ে দেয় বিষয়টি। দিনের পর দিন সে ঐ একই কর্ম ঘটিয়ে এসেছে নানা মেয়ের সাথে আর তার পরিবার এখন তার কর্মের খবর শুনে আহত হচ্ছেন অথচ তাদেরও জানার কথা ছিলো এসব বিষয়াদি!

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধেও একাধিক রমণীর অভিযোগ যাকে আর অসত্য বলে উড়িয়ে দেবার অবকাশ নেই। অলোক নাথ, অনু মালিকসহ যারাই অভিযোগের আওতায় এসেছে প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ভয়াবহ সব অভিযোগ এবং অভিযোগকারীর সংখ্যাও অনেক। আবার অনেক অভিযোগকারীই বলেছেন প্রয়োজনে তারা প্রমাণও পেশ করতে পারবেন আদালতে। যৌন হেনস্তা এমনই এক স্বভাব যা একবার এলে সহসা আর যায় না। তাই ভিকটিমও একাধিকই হয়। তথাপি ঝুঁকি থাকেই। যেমন পদ হারাবার আগে জে. কে. আকবর ভিকটিমের বিরুদ্ধে মানহানির কেস করেছেন বলে শুনেছিলাম। অন্য কথায় বলা যায় ভিকটিমকে তার পুরো ক্ষমতার সাথে লড়াইয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়া। যদি তার পদ না হারাতো, যদি একাধিক রমণী তাকে অভিযুক্ত না করতো তাহলে দু/একজন ভিকটিমের পক্ষে তাকে মোকাবেলা করা খুব সহজ হতো না।

ভারতের #metoo আন্দোলনের সফলতা দেখে বাংলাদেশেও কেউ কেউ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সেই দেখে অনেকেই আবার উৎসাহিত করছেন অন্যদেরও মুখ খুলতে। বলতে বাঁধা নেই যে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের চেয়ে ভারত অনেক এগিয়ে, বিশেষ করে মিডিয়া সেক্টর এবং সেই সেক্টরের মেয়েরা। ওরা যেভাবে দলবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হচ্ছে, ওদের মিডিয়া যেভাবে ঘটনাগুলোকে কাভার করছে আমাদের ক্ষেত্রেও কি সেই একই ধরণের ঘটনা ঘটবে? নাকি আমাদের 'নারী কেনো ঘরের বাইরে' জাতীয় প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, আগে যেমন রাতে চলাচলের কারণে সেদিন মাঝরাতে এক নারীকে পুলিশরাই হেনস্তা করতে মাঠে নেমেছিলো! সেদিন যদি সেই মেয়েটির মানসিক জোর না থাকতো, সে যদি ফাইটার না হতো, তার যদি আইন জানা না থাকতো তাহলে ঘটনা অন্য রকমও ঘটতে পারতো।

#metoo মুভমেন্টে অন্যের কথায় মুখ খোলার চেয়ে নিজের তাগিদকেই কি বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়?

কিছুদিন আগে ফারিয়া নামে এক মিডিয়াকর্মী কর্মক্ষেত্রে তার অসন্তোষ নিয়ে অভিযোগ করায় নানা ব্যক্তি তাকে চাপে ফেলেছিলেন দেখেছি যা তাকে একাই হ্যান্ডেল করতে হয়েছে। ক্রিকেটার রুবেলের বিরুদ্ধে হ্যাপী যখন ধোঁকাবাজীর অভিযোগ তোলেন তখনও তেমন কোনো মুভমেন্ট দেখি নি জনতার মাঝে, বরং উল্টা রুবেলকেই সাপোর্ট দিয়েছে দেশবাসী। দেখেছি সংগীতা নামের এক মেয়ে অনলাইনে এক লোকের আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যখন কেস খেয়ে বসেন তখন নিজেই আবার ভীত হয়ে কেস লড়ার পরিবর্তে কেস তুলে নেয়াতে ঝোঁকেন। আরেক সাহসী মেয়েকেও দেখেছি প্রেমের ধোকায় দিশা হারিয়ে আইন না বুঝে প্রেমিকের বউকে গিয়ে আঘাত হানতে যেটা আদালতে গড়ালে বিপদ কম হতো না ।

#metoo আন্দোলন শুধু মুখ খোলা নয়, শুধু কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, সম্ভাব্য আইনী লড়াইয়ের একটি সূচনাও, যা মোকাবেলা করার মতো যোগ্যতা থাকা অপরিহার্য। তথ্যপ্রমাণসহ যত ঝড়ঝাপ্টা আসবে প্রয়োজনে তার পুরোটাই হয়তো একাই সামাল দেয়া। তাই ভারতে আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে আমাদেরও এখনই শুরু করতে হবে সেভাবে বিষয়টিকে না ভেবে আগে নিজেকে জানা বেশী জরুরি যেনো একবার ফাইটে নেমে আর পালাতে না হয়।
এই লড়াইয়ে সবচেয়ে আগে দরকার নিজেকে বোঝা, জীবনবোধ, সমৃদ্ধি, এবং আত্মপোলব্ধি!


  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শিল্পী জলি

সমাজকর্মী, ইউএস প্রবাসী

ফেসবুকে আমরা