শিশিরের গল্প: “তার পরিচয় শুধুই হিজড়া...”

শুক্রবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৮ ৩:০৮ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


অনেকেই নক করেছেন গল্প শুনতে চান, শিশির কে জানতে চান। আপনাদের অনেক অনেক ভালবাসা আর পাশে থাকার সাপোর্ট আমাকে বাঁচার নতুন সম্ভাবনা দিয়েছে। এক কথায় ছোট্ট করে একটা গল্প আজ বলি। বাকি বিস্তারিত না হয় কোনো এক হেমন্তের পাতা ঝরা সন্ধ্যায় আয়োজন করে বলবো।

একজন মানুষ ভালোবাসার মানুষের পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার জন্য মায়ের দেয়া জীবনের শেষ স্মৃতি মায়ের হাতের বালা বিক্রি করলো শহরের এক সোনার দোকানদারের কাছে। যে বিক্রি করলো তার নাম পূজা। আর যার জন্য বিক্রি করলো সে অয়ন। টাকা পেয়ে অয়ন তার গার্লফ্রেন্ড এর জন্মদিন পালন করলো। পুজা ট্রান্সফরম করলো মেডিকেল সাইন্স সাহায্য করলো। যখনই ভালোবাসার মানুষ কে বিয়ে করতে চাইলো তখন বাধ সাধলো পরিবার, আশেপাশের লোকজন। দুইজন মানুষের ভালো থাকায় সমাজ কোন অধিকারে হস্তক্ষেপ করে আমি জানি না। ইসলাম বা ভিন্ন কোনো ধর্মে ও আমি ট্রান্স তথা রুপান্তরিত নারী বা পুরুষ এর বিবাহের নিষেধাজ্ঞা কিছু শুনি নি বা জানি না। আপনাদের জানা থাকলে আমাকে জানাবেন প্লিজ।

পরিবারে ছেলেদের শিখানো হয়, ছেলে মানেই মাস্কুলিন হতে হবে, তার ঘরে অবশ্যই চামড়া সুন্দর একটা বউ থাকতে হবে, পড়াশুনা তথাকথিত এস এস সি বা স্কুল কলেজের ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক দেখতে সুন্দরী হতেই হবে, সে পরিবারে একজন ট্রান্সজেন্ডার তো অচ্ছুত বা অপবিত্র। মহা পাপ। বাবা তখন ছেলের রুচি বা নজর এত নিচে কেনো? এমন প্রশ্ন করতেই পারেন। 

জীবন বোধ নাই যে অয়ন তার জীবনের অফুরন্ত সময় থেকে ফেসবুকিং করার কিছু সময় পূজা কে দিতেই পারে। প্রেম প্রেম খেলা চকলেট বয় রা এমন করেই থাকেন, সেটাকে পূজা যদি প্রেম মনে করে তাহলে চকলেট বয় কিউট বয় অয়ন তার নাম জোর করা ভালোবাসা দিতেই পারে।

সমাজে ৩৭৭ ধারা আছে সেটা তে কোনো পরোয়া নেই কারণ গে কাজিন যদি হয় সেতো ভাই, তার সাথে মেশা টা পরিবার কখনোই সন্দেহ করে না বরং সে নানা ভাবে ব্লাক মেইল বা ইমোশনাল কথা বার্তা বলে হিপ্নোটাইজ করতেই পারে। আর চকলেট বয়দের ইমোশনটা একটু বেশিই হয়, চোখের সস্তা পানি সব জায়গায় পড়ে। পূজার জন্যও পড়েছিলো বা আজো নিরিবিলি একা হলে হয়তো পড়ে, সেটা পূজা যদি প্রেম মনে করে তবে কিন্তু পূজার জন্য সেটা শাস্তি সম অপরাধ।

একদল গে ছেলেদের সাথে অয়ন রা রিফ্রেশ মেন্ট টুরে যেতেই পারে, বদ্ধ ঘরে ব্লা ব্লা ব্লা...... আরে বাবা ছেলে রাই তো তাতে সন্দেহ বা পাপের কিছু নেই। যাওয়া জায়েজ। মান সম্মান কখন যাবে বা যায় অয়নের জানেন? যখন পূজা তার কাছে সময় চায়, বা পূজা কে নিয়ে কোথাও যাওয়া হয়। কিন্তু বাবার অসুস্থতার সময় পূজার কাছ থেকে টাকা নিতে কিন্তু সম্মানের কোনো ক্ষতি হয় না।

ছেলে অন্য মেয়ের সাথে প্রেম তথা শারিরিক সম্পর্ক করছে বড় ভাই সেটা জানেন কিন্তু সেটা হচ্ছে ক্রেডিট কারণ ভাই দেখতে সুন্দর, তার এরকম দু চারটা মেয়ের সাথে……থাকতেই পারে। 

এক্স গার্লফ্রেন্ড এর বড় ভাই ট্যাগ দেয়া ছবি অয়নদের ওয়ালে থাকাটা খুব নরমাল। কারণ সেটা সমাজ জানে না। ভাই বোনের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা পূজারা চিপ মাইন্ডের। একজন পূজার সাথে কখন রিলেশন ব্রেকাপ হবে সেই অপেক্ষায় কাটে অনেক জারাদের দিন। কারণ অয়ন দেখতে সুন্দর, ফ্লারট এর তালিকায় অয়ন থাকা জারাদের ও একটা ক্রেডিট। ব্যাপার না পরিচিত জনেরা যদি জানে বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কাটিয়ে দেয়া যাবে। এবার কাজিন যদি গে ও হয় তার সাথে অবাধ বিচরণ এ সমাজ বা পরিবারের কোনো সমস্যা নেই। ভাই তো ভাই।

শুধু পরিচয় মেলে না পূজার, সে না কারো স্ত্রী, না কারো প্রেমিকা, না কারো বোন, সে হয় দেবী না হয় বেশ্যা।

তার পরিচয় শুধুই হিজড়া...


  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

তাসনুভা আনান

মানবাধিকারকর্মী, অভিনেত্রী

ফেসবুকে আমরা