সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ‘কাঁকন বিবি’

মঙ্গলবার, মার্চ ২৭, ২০১৮ ৯:৫৯ PM | বিভাগ : পথিকৃত


মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গদ্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ডকুমেন্ট, সিনেমার শেষ নেই। এটাও বাণিজ্যের একটা বড় মাধ্যম। এক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কত হাজার বই হয়েছে তা অজানা আপনার-আমার। ইতিহাসকে ‘ইতিহাসে’ রাখার জন্য এগুলো মাধ্যম বটে। এতকিছুর মধ্যেও আমাদের সঠিক ইতিহাসের স্থানে তেমন নেই বললেই চলে! না থাকাটাই কী স্বাভাবিক!

মুক্তিযুদ্ধে কে বা কাদের অবদান বেশি- এ নিয়ে তর্ক বির্তকের শেষ নেই। কোনোদিন এর শেষ হবে বলেও মনে হয় না। তবুও কিছু মানুষের দায়িত্ব এর সঠিক ইতিহাসটাকে তুলে আনা। মানুষকে দ্বিধামুক্ত করা।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লক্ষ নারীর জীবনচরিত জানা আজ আমাদের পক্ষে অসম্ভব। ইতিহাসে কতটুকুই বা রয়েছে! খুব সামান্যই। এটুকুতেও কত বাহানা, কত তাল রয়েছে! কত লুকোচুরিও রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ সত্যিই বিস্ময়কর! স্বতঃস্ফূর্তভাবে জীবনের সকল মায়াকে ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কেউ সশস্ত্র যুদ্ধে, কেউ সংগঠক হিসেবে, কেউ শব্দসৈনিক হিসেবে, কেউ মুক্তিযোদ্ধা সহযোগী হিসেবে, কেউ তো নিজের সন্তানকে উৎসাহ জুগিয়ে। এঁদের কারো অবদানকে খাটো বা ছোট করে দেখার অবকাশ আছে কী! নেই।

মুক্তিযোদ্ধাদের আজ নানাভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। এটার দরকার হয়তো সাহিত্যের জন্য। কিন্তু চিন্তায় এটাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যেমন: শহীদ, খেতাবপ্রাপ্ত, সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয়, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, শব্দসৈনিক, বীরাঙ্গনা, শহীদ জননী ও শহীদ জায়া। এই সবক’টি সেক্টরেই নারীর অবদান অসামান্য। যা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ছোট্ট লেখনীর মাঝে ইতি টানাও সম্ভব নয়।

সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন- কাঁকন বিবি। টেংরাটিলা, আমবাড়ি, বাংলাবাজার, টেবলাই, বালিউড়া, মহব্বতপুর, বেতুরা, দুরবিনটিলা ও আধারটিলা মোট ৯টি যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন অপারেশনে ছিলো তাঁর অগ্রণী ভূমিকা। বেশ কয়েকটি সফল অপারেশনের সাক্ষী ছিলেন আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্য কাঁকন বিবি।

সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকের নামই আজ আমাদের অজানা রয়েছে, ইতিহাস পরের কথা। নামটা পর্যন্ত অজানা আমাদের! আমরা জাতি হিসেবে কতটা অকৃতজ্ঞ! আমিনা বেগম মিনা, আলমতাজ বেগম ছবি, আলেয়া বেগম, আশালতা বৈদ্য, এস.এম. আনোয়ারা বেগম, করুণা বেগম, কাঁকন বিবি, কৃষ্ণা রহমান, ছায়ারুন নেছা, জয়নাব বেগম, নাজমা বেগম (কাকনবালা বণিক), পেয়ারা চাঁদ, ফরিদা খানম সাকী, ফাতেমা খাতুন, ফোরকান বেগম, ভানু নেছা, মনোয়ারা বেগম, ভানু নেছা, মাহফুজা খানম, মোমেলা খাতুন, রিজিয়া বেগম, শওকত আরা, শিরিন বানু মিতিল, শোভারানী ম-ল, সখিনা খাতুন, সালেহা বেগম, ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার ও হালিমা খাতুনসহ অসংখ্য নারীনেত্রী ছিলেন যাঁরা জীবনের সকল মোহমায়া ত্যাগ করে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্য সশস্ত্রভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এঁদের ইতিহাস না জানলে আমরা দাঁড়াবো কী করে? আমরা দৃঢ়ভাবে, শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবো কী? আমাদের শক্তিতো এঁদের মাঝেই। এঁরা তো আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এঁদের ইতিহাসকে ইতিহাসে রান করাই আজ তরুণপ্রজন্মের একান্ত দায়িত্ব। নারীসমাজকে এঁদের ইতিহাস পাঠ করা খুবই দরকার।

আমাদের সমাজের দৃষ্টিতে নারীদের মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণ করার ইতিহাসটা খুবই বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতো, আজও হয় না- তা বলা যাবে না। এই নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পর আড়ালে মুখ লুকিয়ে রাখতেন। তাঁদেরকে কেউ ধিক্কার দেয় এই ভয়ে! এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। খুব কম নারীই ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- হ্যাঁ আমরা বীরঙ্গনা, আমরা বীরপ্রতীক। এখনও কত নারী মুখ লুকিয়ে বেঁচে রয়েছেন যাঁরা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। আমরা কী তা জানি! তবে আঁচ করতে পারি। বুঝতে পারি। সমাজের নারীদের চিত্র দেখে। নারীদের অবহেলা দেখে। এখন এই সময়ে এসেও তো কত নারী নিরবে, নিভৃতে নিজের দুঃখ, কষ্ট এবং কি ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেন না। সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবারের ভয়। মান, সম্মান হারানোর ভয়। কী লীলারে বাবা! ধর্ষণও হবে নারী মুখও লুকাবে নারী! এর থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। হ্যাঁ, নারীর জন্য ‘নারী’ সমাজকেই লড়তে হবে। কেউ লড়ে দিবে না, কেউ মুক্তি দেবে না।

’৭১ এর নারীরা শুধু অসহায় ভিকটিম ছিলো? যৌন নির্যাতন, বিকৃতি আর নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন? না, নারীরাও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, নানভাবে শক্তি ও সহযোগিতা যুগিয়েছিলেন। কিন্তু, কেমন জানি হয়ে গেছে বিষয়টা! ইজ্জত হারানো, সম্ভ্রম হারানোর বিষয়টা সামনে এনে নারীদেরকে হেয় করার অপচেষ্টা মাত্র। তোমরা দুর্বল, তোমরা শুধু হারাতেই জানো- এভাবেই উপস্থাপন করা হয়। না, হারাতে এবং জয় করতে দুটোই নারী সমানভাবে পারে। হ্যাঁ, নারী হওয়ার কারণেই তাঁর এই দ্বৈতশক্তি।

নারীর সম্ভ্রম (!), নারীর ইজ্জত (!) এইসব গল্প, রমরমা গল্প বন্ধ করুন। এখনও এসব গল্প বন্ধ হচ্ছে না কেনো? নারী মুক্তিযোদ্ধাদের তাঁর বীরত্বের, তাঁর অর্জনের, তাঁর আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিন।

কতটা ভয়ানক ভাবলেই গা শিওরে উঠে। ৮ জন বীরশ্রেষ্ঠ আছেন, ৬৯ জন বীর উত্তম আছেন, ১৭৫ জন বীর প্রতীক আছেন। এতো এতো কিছুর মাঝে মাত্র ৩জন বীর প্রতীক!! ভাবলেই স্তব্ধ হয়ে যাই। ক্ষণিকের জন্য হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা কি চেয়েছিলেন? তাঁরা কি এসব উপাধি পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন- মোটেও না। কিন্তু, যাঁর যেটা প্রাপ্য তাঁকে তা দিতে কাপণ্যটা কিসের? কিসের ভয়? কোনো হারানোর ভয় আছে কী? নাকি, অবহেলা!

তাঁদের সাহসের গল্প, দেশপ্রেমের গল্প, বীরত্বের গল্প, স্বপ্নদেখার গল্প, স্বপ্নভঙ্গের গল্প- সব গল্পকে বুকের পাজরে নিয়ে একে একে চলে যাচ্ছেন এই সাহসী মানুষগুলো। তাঁদের ইতিহাস যতদিন মানবসভ্যতা থাকবে ততদিন যতটুকু থাকার কথা ততটুকু না থাকলেও কিছুটা থাকবে। হ্যাঁ, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবিও চলে গেলেন। তাঁকে নিয়ে লিখবো বলে ক’টা দিন চলে গেল- জীবনের বাস্তবতায়।

খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে জন্মেছিলেন কাঁকন বিবি। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম একটি অবিস্মরণীয় নাম। বাবা গিশো খাশিয়া আর মা মেলি খাসিয়া। সবুজ-অরণ্য আর পাহাড়-টিলার নিবাসী ছিলেন কাঁকন বিবি। জন্মসূত্রে তিনি বাঙালি নন। কথাটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলা। তিনি ‘মানুষ’। যতদিন বেঁচে ছিলেন এই মনুষ্যত্ববোধটাকেই নিয়েই বেঁচে ছিলেন। জাত-পাতের ধার যে ধারতেন না তা তো বুঝাই যায়। ১৯৭০ সালে দিরাই উপজেলার শহীদ আলীকে বিয়ে করেন তিনি। মাত্র একবছরে মাথায় তাঁদের কোল জুড়ে আসেন কন্যা সন্তান। কেনো পুত্র সন্তান নয় এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে যায়। লজ্জাবোধ করবেন না কিন্তু! এটাই চিত্র। এই চিত্র কিন্তু এখনই অর্থাৎ এই ২০১৮ সালে এসেই আমরা বহন করি। একটু খোঁজ রাখেন পেয়ে যাবেন।

কাঁকন বিবি এসবের ধার ধারেন নি তিনি আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সিলেটের ইপিআর সৈনিক মজিদ খানকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু মজিদ খানকেও হারিয়ে ফেলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর ভাষায়, ‘দোয়ারে সীমান্তে এসে দেখি পাকিস্তানি হায়েনারা বাঙালি নারী, শিশু ও পুরুষের ওপর অমানবিক অত্যাচার করছে। এসব দেখে বাঙালির জন্য আমার দরদ উথলে ওঠে। তখনই আমি এই অসহায় বাঙালিদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা করি। স্বামীকে খোঁজ করার পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীর আস্থা অর্জন করতে আমার মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। (শামস শামীম- সুনামগঞ্জ, একাত্তরের বিজয়িনী, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ৯ ডিসেম্বর, ২০১০)।

কাঁকন বিবি নজরে পড়ে যান নরপিশাচদের। পাকিস্তানি নরপিশাচদের। বাঙ্কারে রেখে শারিরীক ও মানসিকভাবে তাঁকে নির্যাতন করে। যা বর্ণনাতীত। এই অমানবিক নির্যাতনের পর বদলে যান কাঁকন বিবি। অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন। যে করেই হোক এই মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে হবে। এই নরপিশাচদের পতন চাই বলেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেন তিনি। যোগাযোগ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব দেখে তাঁকে সহজেই সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর শওকত আলীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেক্টর কমান্ডার তাঁর সাথে আলাপে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বস্ত গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দেন। কাঁকন বিবি তাঁর কাজটি যথাযথভাবেই করতে সক্ষম হন। তাঁর অসীম ধৈর্য ও সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন অন্যরা। ভিখারীবেশসহ নানা বেশে পাকিস্তানীদের তথ্য তিনি পৌঁছে দিতেন কমান্ডারের কাছে। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতেই অপারেশন করে সফল হয়েছেন মুক্তিবাহিনী। এইসব সফল অপারেশনের সফল নায়ক ছিলেন কাঁকন বিবি।

একপর্যায়ে ধরা পড়ে যান। পাকিস্তানি বাহিনীদের হাতে। দোয়ারাবাজারে উপজেলার বাংলাবাজারে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে। পাক-হানাদার আলবদর-রাজাকারবাহিনী তাঁকে নির্মম নির্যাতন করতে থাকে। তবুও একটি কথা তাঁর মুখ থেকে প্রকাশ করতে পারে নি। যতই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ততই নিজেকে দৃঢ় করেছেন। একনাগাড়ে ৭ দিন বিবস্ত্র করে অমানুসিক নির্যাতন চালায় তাঁর ওপর। লোহার রড় গরম করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছ্যাঁকা দেয়। তাতে কী! এ শরীর যে এসব ছ্যাঁকাতে ভেঙ্গে পড়ে না। এ জীবন যে মুক্তির জীবন, দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার জন্য উৎসর্গিত জীবন।

নির্যাতনের একপর্যায়ে কাঁকন বিবিকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় বন্যজানোয়াররা। না, মরেও যে শান্তি নেই, দেশকে স্বাধীন না করে। কাঁকন বিবির জ্ঞান ফিরে আসে। চিকিৎসা করে তাঁকে আবারো একজন শক্তিশালী, দৃঢ় মানুষ হিসেবে দাঁড় করানো হয়। ক্ষোভকে শক্তিতে পরিণত করে সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে ট্রেনিং নেন তিনি। এরপর থেকে একের পর এক সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলতা অর্জন করেন। আমবাড়ি যুদ্ধে তাঁর পায়ে দ্বিতীয়বাবের মতো গুলিবিদ্ধ হয়। মৃত্যুর আগদিন পর্যন্ত এই গুলিবিদ্ধ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে ছিলেন তিনি।

দেশ স্বাধীন। হ্যাঁ, কাঁকন বিবিদের দেশ স্বাধীন। যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। আমরা কতটা স্বাধীন, পরাধীন- সে আলোচনা না হয় আজ থাক্! আজ কাঁকন বিবিদের দৃঢ়তার কথা দিয়েই শেষ করা যাক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দোয়ারাবাজারে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে চলে আসেন। তিনি আবারও বিয়ে করেন শাহেদ আলীকে। কিন্তু এই শ্রেণিবৈষম্য দুনিয়ায় তিনিও এর বাহিরে ছিলেন না। তাঁর এই ছোট্ট সংসার চলতো বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। এর মধ্যে স্বামীর মৃত্যু। এরা কি পাথরে গড়া মানুষ ছিলেন! নাহলে, একজীবনে এত কষ্ট সহ্য করলেন কিভাবে! কিসের এত প্রাণশক্তি ছিলো এঁদের?

শেষপর্যন্ত সরকারি তাগিদে তিনি পেয়েছিলেন একটি ঘর, একটি প্রতীক। যে প্রতীকটিকে সম্বল করে মৃত্যুঅব্দি লড়ে গেছেন এই বীরমাতা।  ২২ মার্চ তিনি এই ধরিত্রীর মোহমায়াকে ত্যাগ করে প্রকৃতির নিয়মকে মেনে চলে যান। আসলেই কী চলে যান! না, তিনি বেঁচে থাকবেন যুগ থেকে যুগান্তরে। এই স্বাধীনতার মাসেই তাঁর দৈহিকভাবে অচল হয়ে যাওয়া যেন প্রকৃতিরই খেলা। প্রকৃতি আসলেই মানুষকে কত ভালোবাসে!

আমরা অগ্নিশপথ গ্রহণ করতে পারি না- অবশ্যই পারি। আমরা এত এত বীরত্বের গান, বীরত্বের কথা ভুলে যেতে পারি না। আমরা এই বীরযোদ্ধাদের সাথে প্রতারণা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, অসংখ্য নারীর আত্মত্যাগ আমরা এভাবে হারিয়ে যেতো দেবো না। এই দেশের জন্য, মাতৃভূমির জন্য শতাব্দীকাল থেকে অনন্তকাল এঁদের কর্মের কাছে ঋণী থাকবো শুধু ঋণীই। এঁদের রক্তশপথ গ্রহণ করে দ্বিগুণ বেগে জ্বলে উঠবো। এই হোক অগ্নিঝরা মার্চের রক্তশপথ।

বিনম্র শ্রদ্ধা। অকৃত্রিম ভালোবাসা তোমাকে। তুমি বাঁচিয়ে রাখার প্রেরণা। তোমাকে শত সহস্র সালাম।

লাল সালাম।


  • ৩১১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

লাবণী মণ্ডল

নারীবাদী লেখিকা।

ফেসবুকে আমরা