সুবর্ণচরে অশনি সংকেত

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৯ ৮:৫৮ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


সুবর্ণচর -ভারী কাব্যিক নাম। হয়তো ভোরের কিংবা বিকেলের ডিমের কুসুমের মতো সোনা রোদে সারা গ্রামটি হিরণ্ময় হয়ে ওঠে। তাই এই নাম। ‘সুবর্ণচর’ নামটি ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘সুবর্ণরেখা’র কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচনোত্তর সময়ে ঐ সুবর্ণচরে যে হীন পাশবিক ব্যাপারটি ঘটেছে, তাকে ধিক্কার জানানো, কিংবা তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠাই যথেষ্ট নয়, এ অন্যায়ের কোনো ক্ষমা নেই - এ অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।

ইতিহাসে দেখা যায় যে ধর্ষণ প্রায়শঃই যুদ্ধের একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পৃথিবীর নানান জায়গায়। সন্ত্রাসের পন্থা হিসেবে এর ব্যবহার আমরা দেখেছি নানান প্রেক্ষিতে। প্রতিশোধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণকে বেছে নেয়া হয়। একটি কথা সব সময়েই মনে রাখা দরকার। নারীরাই ধর্ষণের শিকার এবং নারীরাই ধর্ষিত হয়। যুদ্ধে, বিরোধে, সন্ত্রাসে, প্রতিশোধ -ধর্ষণ যেখানেই, নারীই সেখানে শিকার। ঐ একই কথা প্রযোজ্য অন্য সর্বক্ষেত্রের ধর্ষণেও। পুরুষের পাশবিকতার শিকার নারী -আমরা যেন তা ভুলে না যাই।

ধর্ষণের এ ঘটনাটিতে স্থানীয়  পর্যায়ে ক্ষমতার দাপট, দুর্বলের ওপরে সবলের অত্যাচার এবং অর্থের শক্তি আবারও প্রমাণিত হলো। যারা ঘটনার আড়ালে থেকে এটি ঘটিয়েছে, তারা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাবান। ক্ষমতাবানদের দোসর হয়ে যারা এ পাশবিক কান্ডটি ঘটিয়েছে, তারা অর্থের বিনিময়ে হয়তো এ কাজটি করেছে। দুর্বলেরা সবলের দাপটের শিকার হয়।

যারা সুবর্ণচরে ধর্ষণকে প্রতিশোধের পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে, তারা একটি ভীতির বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে। সংবাদে প্রকাশ, যারা অত্যাচারিত হয়েছেন, তারা ‘পূর্ব বিরোধের ‘কথা বলেছেন, অন্য কোনো ঘটনার কথা বলেন নি। সম্ভ্রম তো গেছেই, এখন হয়তো তাদের জীবনও বিপন্ন।

আসলে ‘এ দায়ভাগে আমরা সমান অংশীদার’। বহুকাল আগে প্রয়াত মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, ‘মানবতার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে, যারা পৃথিবীতে মন্দ কাজ করেছে তারা নয়, যারা ঐ সব ঘটনার সময়ে চুপ করে ছিলো’। তাই নিশ্চুপ থাকাটা কারো জন্যই কোনো বিকল্প নয়। আমরা যেন বজ্রকণ্ঠে বলি, ‘আমার প্রতিবাদের ভাষা, আমার প্রতিরোধের আগুন, দ্বিগুন জ্বলে যেন দারুণ .....’। এ ক্ষেত্রে বন্ধু সতীর্থ কবি শামীম আজাদের বিবেক উদ্রেককারী সাম্প্রতিক কবিতাটির প্রাসঙ্গিকতার তুলনা নেই।

তোমরা যারা 
ঐ ধর্ষনের পর কোনো কথা বলো নি,
প্রতিবাদের কথা ভাবো নি,
এক শব্দও লিখো নি,
রাস্তায় দাঁড়াও নি হয়ে দুর্দম
তোমাদের প্রতি কবির 
অভিশাপ... অভিশাপ...অভিশাপ।

আর তোমরা যারা সংখ্যাল্প
তবু ক্ষিপ্ত অপমানিত
ফুঁসে উঠেছো
প্রতিবাদ করছো এর
হে পিতা হে পুত্র হে সুকন্যা আমার
লহো সালাম।

আমি, এই পয়মাল নগরীর 
একমাত্র পিরানী
এ সালাম তোমাদের জীবিত অথবা মৃত মাতা-পিতার 
পক্ষে পৌঁছে দিলাম।

তাঁরা জ্ঞাত হলেন,
পয়মালের বদলে এ পৃথিবীতে তাঁরা 
পুষ্প রেখে গেছেন।।


  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সেলিম জাহান

অর্থনীতিবিদ ও প্রাবন্ধিক

ফেসবুকে আমরা